বৃটিশ বিজ্ঞানীরা এক ধরনের কম্পিউটার তৈরি করেছেন যা আপনার চিন্তা ভাবনা বুঝতে সক্ষম। যার ফলে মানুষ যান্ত্রিক টেলিপ্যাথি বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
সিস্টেমটি শুধুমাত্র মস্তিষ্ক স্ক্যান করেই চিন্তা প্রনালীর পাঠোদ্ধার করতে এবং মানুষ কি চিন্তা করছে তা বলে দিতে সক্ষম।
এই আবিষ্কারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ এর ফলে মানুষের স্মরণশক্তির বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করা সহজ হবে।
বিজ্ঞানীদের যে দলটি গত বছর একটি কম্পিউটার-স্টিমুলেটেড কক্ষে একজন ব্যক্তির নড়াচড়া অনুসরন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, এই আবিষ্কারটিও তাদেরই গবেষণার ফসল।
টেলিপ্যাথি যন্ত্রের আবিষ্কার সম্ভাবনা জাগাচ্ছে মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্রের এমনকি এর দ্বারা কৃত্রিম স্মৃতি তৈরি করা হয়তো সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক গবেষণাটি চালানো হয়েছিল ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপরে। তাদের প্রত্যেককে ৩টি ৭ সেকেন্ড স্থায়ী চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছিল দৈনন্দিন জীবনের কিছু অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা নিয়ে যেমন কেউ হয়তো চিঠি পোস্ট করছে কিংবা কাগজের কাপে কফি খাচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের ঘটনাগুলো মনে রাখতে বলা হয়েছিল। তারপর তাদেরকে একটি ‘এম আর আই’ স্ক্যানারের ভিতর থাকা অবস্থায় ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে মনে করতে বলা হয়েছিল।‘এম আর আই’ স্ক্যানারটি মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করে রাখছিল, মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের মাত্রার পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে।
এরপর কম্পিউটার এলগরিদমটি পূর্বে রেকর্ডকৃত বৈদ্যুতিক বিন্যাস পড়ে শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বলে দিতে পারছিল স্বেচ্ছাসেবীরা কখন কোন ছবিটির কথা মনে করেছিল। নিঃসন্দেহে এই সাফল্যের হার দৈবক্রমে সঠিক হওয়ার চেয়ে বেশি।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এর অধ্যাপক ‘ইলেনর ম্যাগুয়ার’ বলেছেন, “আগের গবেষণায় আমরা স্মৃতি বিষয়ক প্রাথমিক কিছু ব্যাপার, কোন একজন মানুষের পরিচিত পরিবেশের উপরই সীমাবদ্ধ ছিলাম।
ঘটনাবহুল স্মৃতি - যা কি না জটিল এবং অনেক বেশি তথ্য আমাদের চারপাশ সম্বন্ধে ধারণ করে সেটা নিয়ে গবেষণা আরও আকর্ষনীয়। আমরা এখন কোন বিশেষ ঘটনার স্মৃতি নিয়ে গবেষণা করতে করছি, স্মৃতি কিভাবে কাজ করে তা পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য। আমরা পরিষ্কারভাবে জানতে পেরেছি ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ই স্মৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। এখন আমরা জানতে পেরেছি কোথায় স্মৃতি সংরক্ষিত হয়, যা আমাদের স্মৃতি কিভাবে সংরক্ষিত হয় এবং কিভাবে তা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয় জানার সুযোগ করে দেবে”।
গবেষকরা এর আগে চারজন মানুষের একটি পরাবাস্তব কক্ষে হেঁটে যাওয়ার সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দেখার জন্য একই স্ক্যানিং পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। সেক্ষেত্রেও চারটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হেঁটে যাওয়ার সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপের বিন্যাস ভিন্ন ভিন্ন ছিল।
সূত্র; টেলিগ্রাফ ইউকে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


