somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রী সমীপে চিঠি

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারিখঃ ৪-৪-১৪

পাবে,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রিয় বোন শেখ হাসিনা,
আমার হৃদয়ে জ্বলে থাকা প্রেম কে ফুল বানিয়ে আপনার চরনে নিবেদন করছি। সেই সাথে আমার কদমবুচি প্রহন করবেন।

“হে মোর রাণী
তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে”
(নজরুল)

মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় আপনাদের রাজনিতির নিয়মের সাথে তাল মিলিয়ে তেল মেরে জীবিত জীবনে অন্য সবার মতো করে ভালো থাকার অভিনয় করে যাই। তেল মারার অনেক সিস্টেম হয়তোবা আমার জানা আছে কিন্তু তেল মারা আমার কাজ না। এই সমাজ সংসার আমাকে হয়তো অনেক কিছু শিখিয়েছে কিন্তু ওখান থেকে অভিনয় কখনও শেখার চেষ্টা করিনি। সত্য ও সুন্দরের পথে যার অনন্ত যাত্রা তার অভিনয় করার দরকার পড়ে না।

আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আমার কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর ব্যক্তি শেখ হাসিনা বলে কোনো বিবেধ নাই। আমার কখনও মনে হয় নি শেখ হাসিনা বয়স্ক একজন মানুষ বরং বারংবার মনে হয় শেখ হাসিনা একজন বাচ্চা মেয়ে। এই মনে হবার ব্যখ্যা দেবো না। শুধু একবার ভাবুন আপনার আদরের ছোট ভাই রাসেল আপনার সাথে কথা বলছে।

রাসেল আর আমি এক সুতয় বাঁধা পড়ে আছি। নিজের জন্মদাতা পিতার পিতৃস্নেহ কমবেশী পেয়েছি সেই সাথে লাঞ্চনাও সয়েছি। কিন্তু যে মুজিব পিতা কে হৃদয়ে ধারন করে রেখেছি তা অনেকটা মুজিবের কোলে রাসেল বসে থাকার মতো। আমার অন্তরের যে স্বর্ণ-রাজপ্রসাদে মুজিব তার সিংহাসনে বসে থাকেন সেখানে অন্য কাউকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাইতো সবার মাঝে থেকেও আমি একা। সবার মতো চিৎকার চেচামেচি করে আমি আমার অন্তরের মুজিব কে প্রকাশ করি না। আমার হৃদয়ে মুজিব ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। আমি বাঙালী পিতা মুজিব এর চোখে বাঙালি দেখি। সেই সাথে ছোট্ট রাসেল হয়ে এটুকু অন্তত বুঝি কারবালায় হোসেন এর করুন মৃত্যু আর ধানমন্ডি ৩২নং এর বাড়ীতে ১৫ই আগষ্টের হত্যা দু’টোই সত্য ও তাওহিদের পথকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা মাত্র।

বড় আপা, আপনার রাসেল আপনাকে বলতে চাইছে, ঐ করুন স্মৃতি ভুলে যান। জীবন যত দুঃখময়ই হোক না কেনো তারপরও অনেক খারাপ অধ্যায় থেকে শুধু শিক্ষাই নিতে হয়। যারা এই কাজ করেছিলো তারা বোঝে নি, সত্যের পথ কখনও অবরুদ্ধ করে রাখা যায় না। দেশের পিতা তার সন্তানদের জন্য স্বপ্ন রেখে যাবেন আর সন্তান সেই স্বপ্ন কে সত্যি তো করবেনই সেই সাথে আরও কিছু করে দেখাবেন। পিতা চায় সন্তান তার থেকেও বড় হোক। তাইতো আজ আমি আমার বড় বোনকে নিয়ে গর্বিত।

যার তাওহিদে ঈমান নেই, আল্লাহ্’র উপর পূর্ণ আস্তা নেই তারা কিভাবে মহামানবদের বর আশা করে বলুন। আপনাকে এগোতে হবে। আরো অনেক দুরে যেতে হবে আপনাকে। আমাদের এই বাঙালি জাতির সমৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে।

দয়া করে আমার কথা গুলোকে ভুল ভাবে নিবেন না। আপনার পর্যায় যারা থাকে তারা নিত্যদিন তেল ও সমালোচনা সয়ে সয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবেগকেও ঐ সবের দলে ফেলে দিতে চায়। বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি না কারণ আদর্শের ভাই বোন এমনিতেই এমন এক সত্য কনক ডোরে বাঁধা থাকে, যা অন্যরা বুঝবে না।

আপনার এই অবুঝ ভাইটি মানব কল্যানে ব্রতি হয়েই আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ যা খেলার ছল মহাকালের বুকে তা ইতিহাস হয়ে থেকে যায়। তাই ইতিহাস যত স্পষ্ট ও সুন্দর করে রচনা করা যায় ততো মঙ্গল। আপনি ইসাবেলা আর আমি কলম্বাস হয়ে ইতিহাসে থাকতে চাই না। সে ইতিহাস অন্যের। তারচেয়ে বরং বেঁচে থেকে মরে যাওয়া হাসিনা আর মরে গিয়ে অনন্ত জীবনের স্বাদ পাওয়া রাসেল হয়ে বাঁধন বিহিন ভাই বোন হয়েই থেকে যাই।

আমি আমার সমস্ত কর্ম দিয়ে আপনার ও বিশ্বের মানুষের কল্যান করে যাবো। হোক না সে কন্টকময়। না হয় নিঃশেষ হয়ে গেলাম। তাতে কি, তারপরও তো আমরা মানুষ ও মানবতার জন্যই কাজ করে চলছি।

আসল প্রসংগে আসি, আমি মহামানবদের মাজারে ভক্তি নিবেদন করার পক্ষের একজন মানুষ। দেবতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এর মাজারে আমার কখনও ভক্তি দেয়া হয়ে ওঠেনি। গোপালগঞ্জ এর টুঙ্গিপাড়ায একবার গিয়েছিলাম। আমার প্রিয়তম মুন সহ অনেক শিক্ষার্থি ও শিক্ষক সহকারে শিক্ষাসফরে গিয়েছিলাম। ২০০৪ইং সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী। বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে গিয়ে আমি একটি বারের জন্যও বঙ্গবন্ধুর মাজারের কাছে যাই নি। বাসে বসে কেঁদেছি। এক অদ্ভুত খারাপ লাগা আমাকে গ্রাস করে ফেলেছিলো। শুধু মাথায় কাজ করেছিলো, “একজন বীর, যে কিনা তার সব প্রেম বাংলা কে মুক্ত করার জন্য ঢেলে দিয়েছিলো তাকে কেনো কাপড় কাঁচা সাবান দিয়ে গোছল করিয়ে এতো অসম্মান করে সমাহিত করা হবে?”। মুন মাজার কমপ্লেক্স থেকে রবীঠাকুরের “শেষের কবিতা” বইখানি কিনেছিলো। আজ আমার ইচ্ছে হয় মুজিব চরনে ভক্তি নিবেদন করি। পুরো বাঙালী ও বিশ্ব দেখুক একজন সন্তান তার পিতার আদর্শকে বুকে ধারন করে মাথা মাটির সাথে মিশিয়ে কিভাবে ভক্তি/সেজদা করতে পারে।

তাওহিদে পূর্ণ ঈমানের স্বাদ যারা পেয়েছেন তারা বুঝবে স্রষ্ট্রা তার নেক বান্দাদের ইচ্ছা কখনও অপুর্ণ রাখেন না। সেদিন হয়তো পিতা চান নি যে আমি মাজারে গিয়ে তাকে ভক্তি দেই তাই ভক্তি দেয়া হয় নি। এটাই মহামানবদের খেলা।

কোন অবস্থায়ই এই অসহায় নিরিহ নির্যাতিত বাঙালীদের কথা ভুলে যাবেন না। এই বাংলাদেশ বাংলাদেশের নিয়মেই চলবে। আমরা আমাদের পলিসিতে চলবো। কোনো অবস্থাতেই আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে যাবো না।

পদ্মা সেতুর নামটা কি শেখ রাসেল সেতু দেয়া যায় না?

আমি আমার ন্যায়ের চোখ দিয়ে সর্বদা আপনার পাশে আছি।

ইতি
আপনার ছোটভাই রাসেল সম...
আসিফ
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×