somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃআসমাউল বিশ্বাস
মেঘের ছায়া-- ভালো লাগা থেকে লেখালেখি, খারাপ লাগা থেকে লেখালেখি, কষ্ট পাওয়া থেকে লেখালেখি , আনন্দ ভেসে ভেসে লেখালেখি। nn'মায়ানগরীর বৃষ্টিকথন' প্রথম ও যৌথ কাব্যগ্রন্থ।

অপরাধের অশ্রু

১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শামুক নাকি ঘণ্টায় ২৪ ইঞ্চি পথ চলে। একথা আমাকে প্রথম বলেছিলেন বড় ভাই।
বাসে ভিড়ের ভেতর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাইয়ার কথাটা ভাবতেছিলাম। বাস চলছে শামুকের থেকে ধীর গতিতে। একহাতে ৫ টা বইয়ের একটা প্যাকেট অন্যহাত দিয়ে বিআরটিসি দোতালা বাসের গেটের রড ধরে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচণ্ড গরম, ফরমাল ড্রেস পরা ( পায়ে জুতা) গরম বেশ লাগছে। বাসের ভেতরে ভিড়ে এমন চাপাচাপি যে ভূরি ধারী লোকটা তার ভুরির জন্য আজ সবথেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। চাপাচাপির এমন তীব্রতার জন্য। এক পর্যায়ে সুপারভাইজারের চলাচল প্রায় বন্ধ দেখে সব স্টুডেন্টদের ব্যাগ কাঁদ থেকে নামিয়ে সামনে আনতে বলল। অবশ্য তাতে ফাপর শুনতে হয়েছে তাকে।

যাচ্ছি ফার্মগেট থেকে আবদুল্লাহপুর। বাসের ভেতরে যেখানে তিল ঠাই নাই সেখানে একজন যাত্রী যদি বাস থেকে নামে তাহলে দশজন ওঠার জন্য চেষ্টা করে। আর যে এই বাসে ওঠার যুদ্ধে সফল হচ্ছে সে প্রথমে উঠে নিজের পকেট চেক করে। কারণ এমন ভিড়েই পকেট থেকে ফোন চুরি হয় বেশি। আর যার ফোন পকেটে থাকবে সেই সবথেকে সফল ব্যক্তি যেন কোন যুদ্ধ জয় করে উঠলো।

বাস ফার্মগেট পেছনে রেখে যখন আগারগাও এলো তখন আবারও জ্যামে আটকে গেলো । একজন যাত্রী নামতেই ৭/৮ জন যাত্রী বাসে ওঠার জন্য ঝাপিয়ে পড়েছে। আমি সিঁড়ি থেকে খুব বেশি দূরে নয় । দেখলাম দুই একজন পুরুষের সাথে একজন ৪০+ বয়সী মহিলাও উঠেছে। এই ভিড়ের ভেতরে ধাক্কা সামলিয়ে বাসে উঠা নিশ্চয়ই তার জন্য এভারেস্ট জয় করার মতন।

মহিলা বাসে উঠেই তিনি নিজের জন্য কিছু জায়গা করার চেষ্টা করছেন। এতেই শুরু হল তার জন্য বিপত্তি। তার জন্য একটু বাড়তি জায়গা দিতে গিয়ে আশেপাশের সব পুরুষদের হচ্ছে নানা সমস্যা। এমনিতে ধাক্কাধাক্কি, চাপাচাপিতে সবারই কষ্ট হচ্ছে সাথে উনার জন্য আরও বেড়ে যাচ্ছে। আশেপাশের অনেকেই সহনশীল না হয়ে হচ্ছে বিরক্ত।

একজন সুপারভাইজার কে ডেকে বলে- এই মিয়া বাসে মহিলা উঠাইছেন কেন ?

আরেকজন বলে- বাসে কি সীট আছে নাকি যে মহিলা উঠাইছেন ? নাকি আপনার মাথায় সীট আছে ?

মহিলা প্রতিবাদী হয়ে উঠলো, বাসে পুরুষ উঠতে পারলে মহিলা উঠতে পারবে না কেন ?

একজন বলল, না পারবে না।

সাথে এই লোকটা আরও কিছু বলতে গেলো। লোকটা আমার পাশে ছিল , আমি তাকে থামালাম। লোকটাও থামল।
অন্য একজন হঠাৎ বলে উঠলো , আপনার আর আমার পার্থক্য কি জানেন ? আপনি হলেন মহিলা আর আমি হলাম। এই নামে পার্থক্য মহিলা আর পুরুষ।

লোকটা আরও কিছু কথা বলল। কথার ভেতরে মূর্খতার ছাপ । তাছাড়া রয়েছে নৈতিকতার অভাব। তার যুক্তি খণ্ডন করার দিকে এগুলাম না।

চলছে কথা কাটাকাটি। মহিলা চারপাশের মানুষের প্রতি ক্রোধে ফেটে উঠছেন। আমি কার পক্ষে কী বলবো খুঁজে পাচ্ছি না। পরিবেশ পরিস্থিতি আসলে কারোর অনুকূলে না। এমন না যে কেউ আরামে বসে যাচ্ছে , ফাঁকা বাস এমনও না। কেউ কেউ অনেক অপেক্ষার পর সীট পেয়েছে সে সীট ছাড়ছে না। সেও যে বসে আরামে আছে মন না। তার গায়ের উপর ঝুঁকে আছে আরও একজন। আর এ ঘটনা তো ঘটছে গেটের কাছে। ভেতরে সীট পর্যন্ত যাওয়াও তো অনেক ঝাক্কি ঝামেলার ব্যাপার।

আমি কী যেন ভেবে আস্তে আস্তে বললাম, আন্টি আপনার নিরাপত্তার জন্যই সবাই এমন বলছে।

আমার কথাগুলো তার পর্যন্ত পৌছায় নাই। আর তিনিও তো জানেন যে এই ভিড়ে নোংরা পুরুষ দ্বারা কী ধরণের নোংরামির স্বীকার হতে পারেন। কিন্তু তার তো যেতে হবে বাসায়। এমন না যে বিশ মিনিট পর যে বাস আসবে সেটায় কোন ভিড় থাকবে না। ভালো ভাবে যেতে পারবেন এমনও না। সারাদিনই এমন থাকবে। তাহলে কি তিনি যাবেন না ?

তাকে তো বাসায় যেতে হবে । তাকে বাসায় যেতে হবে স্বামী অফিস থেকে বাসায় এসে গরম ভাত চাইবে এর জন্য, তাকে বাসায় যেতে হবে কলেজ থেকে ছেলে/ মেয়ে এসে মা কে খুঁজবে এর জন্য, তাকে বাসায় যেতে হবে কাজের বুয়াকে কোন কিছু নিয়ে পালিয়ে না যায় তার জন্য, তাকে বাসায় যেতে হবে নিজে অসুস্থ বাসায় যেয়ে ঔষধ খেতে হবে তার জন্য। একটু দ্রুত যেতে পারলে একটু বেশি ভালো হয়।

মাঝে মাঝে বাসে থেকে দেখি বাসের হেল্পার মহিলা/ মেয়ে বলে বাসে তুলছে না। মেয়েটি/ মহিলা ছুটে চলা বাসের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। তার দু'চোখ দিয়ে ঝরে পড়ছে অপরাধের অশ্রু। তার অপরাধ সে মেয়ে হিসেবে জন্ম নিয়েছে আর এ জাতি দিতে পারছে না তাকে সুস্থ যাতায়াত ব্যবস্থা।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:৫৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×