somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ দেশে মুক্তিযোদ্ধার মান

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালো নামে সাদা মনের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়ে গেছে সবার চোখের আড়াঁলে। পায়নি কোনো স্বীকৃতি ও সনদ
এ এন এম মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ (কালা স্যার) বাবাঃ আব্দুল ওয়াহাব। মাতাঃ হাসান ভানু। তিনি ১৯৪৩ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান থানায় জন্ম গ্রহন করেন । ১৯৫৯ সালে মেট্রিক পাস করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দান করেন। সেনাবাহিনীতে চাকূরীরত অবস্থায় শুরু হয়ে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। নিজের জীবন বাঁজি রেখে চাকুরী ছেড়ে এই মহান লোকটি চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধে। ময়মনসিং¬হ জেলার ভালুকা উপজেলায় মেজর আফসারের ব্যাটালিয়ানে তিনি সেকেন্ড ইনকমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (সুত্রঃজাগ্রত বাংলা)। পাক সেনাদের পরাজিত করে উদ্ধার করেন বেশ কয়েকটি ঘাটি। এসময় তার পায়ে গুলি লাগে(সহ যোদ্ধা মিলন)। যার ক্ষত তিনি আজো বয়ে বেড়াচ্ছেন। যদি ও তিনি সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন আজ কাগজে কলমে তিনি কিছুই নন। কারন তিনি যে তার প্রাপ্য সনদ পাননি। তার উদাসীনতা আর আধ্যাতিক চিন্তা চেতনার কারনে কখনো খোজ্ই নেননি সনদের। দীর্ঘ ৪২বছর পর তিনি ২০১৩ সালে সন্ধান করেন তার প্রাপ্য মুক্তিযোদ্ধা সনদের। তার অধীনস্থ সকল মুক্তি যোদ্ধার সনদ থাকলেও নেই স্বয়ং সেনাপতিরই। সনদ গ্রহনের জন্যে প্রয়োজনীয় ৫ জন সহযোদ্ধার প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহও করেন। তার অধিনস্থ সেনারা পুর্বের মত আনুগত্যও করে এই সেনাপতির। প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহ করে নিয়ম অনুযায়ী তাকে যেতে হয় মুক্তিযুদ্ধ অফিসে। কিন্তু নিজের জীবন বাঁজি রেখে দেশ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করলেও চরম অবহেলায় তিনি পাননি তার প্রাপ্য সনদ ও সম্মান। আজ এই মহান মুক্তি যোদ্ধা পড়ে আছেন তার শেষ আশ্রয়স্থল নিজ মেয়ের বাড়িতে (আলেকজান্ডার, রামগতি, লক্ষ্মীপুর)। এখানে তিনি মানুষ গড়ার নিপুন কারিগর হয়ে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই মহান পেশায় নিয়জিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন নিজের অর্জিত জ্ঞান। রহস্য জনক হলেও সত্য যে কেউ আজ তার আসল নাম জানে না। সবার কাছে সে তিনি কালা স্যার নামে পরিচিত। ছেলে মেয়েদের (ছাত্র-ছাত্রি) নিয়েই সারাক্ষন পরে থাকেন এই কালো নামে সাদা মনের মানুষটি। সনদের কথা না ভেবে সমাজ সেবার কাজ করে যাচ্ছেন একের পর এক। তার (মোসলেহ উদ্দিন) অধিনস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমানের লেখা ময়মনসিংহে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি সম্বলিত বইয়ের নাম “জাগ্রত বাংলা”। যেখানে উল্লেখ আছে তার বীরত্বের কথা। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এই মহান মুক্তি যোদ্ধা তার পবিত্র সনদ ও স্বীকৃতি পাবেন সে কামনা সকলের।



মোঃ আবু সুফিয়ান (রাহাত)
মোবাঃ ০১৫৫৮-২৯২৬৬২
[email protected]
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×