কালো নামে সাদা মনের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়ে গেছে সবার চোখের আড়াঁলে। পায়নি কোনো স্বীকৃতি ও সনদ
এ এন এম মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ (কালা স্যার) বাবাঃ আব্দুল ওয়াহাব। মাতাঃ হাসান ভানু। তিনি ১৯৪৩ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান থানায় জন্ম গ্রহন করেন । ১৯৫৯ সালে মেট্রিক পাস করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দান করেন। সেনাবাহিনীতে চাকূরীরত অবস্থায় শুরু হয়ে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। নিজের জীবন বাঁজি রেখে চাকুরী ছেড়ে এই মহান লোকটি চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধে। ময়মনসিং¬হ জেলার ভালুকা উপজেলায় মেজর আফসারের ব্যাটালিয়ানে তিনি সেকেন্ড ইনকমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (সুত্রঃজাগ্রত বাংলা)। পাক সেনাদের পরাজিত করে উদ্ধার করেন বেশ কয়েকটি ঘাটি। এসময় তার পায়ে গুলি লাগে(সহ যোদ্ধা মিলন)। যার ক্ষত তিনি আজো বয়ে বেড়াচ্ছেন। যদি ও তিনি সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন আজ কাগজে কলমে তিনি কিছুই নন। কারন তিনি যে তার প্রাপ্য সনদ পাননি। তার উদাসীনতা আর আধ্যাতিক চিন্তা চেতনার কারনে কখনো খোজ্ই নেননি সনদের। দীর্ঘ ৪২বছর পর তিনি ২০১৩ সালে সন্ধান করেন তার প্রাপ্য মুক্তিযোদ্ধা সনদের। তার অধীনস্থ সকল মুক্তি যোদ্ধার সনদ থাকলেও নেই স্বয়ং সেনাপতিরই। সনদ গ্রহনের জন্যে প্রয়োজনীয় ৫ জন সহযোদ্ধার প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহও করেন। তার অধিনস্থ সেনারা পুর্বের মত আনুগত্যও করে এই সেনাপতির। প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহ করে নিয়ম অনুযায়ী তাকে যেতে হয় মুক্তিযুদ্ধ অফিসে। কিন্তু নিজের জীবন বাঁজি রেখে দেশ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করলেও চরম অবহেলায় তিনি পাননি তার প্রাপ্য সনদ ও সম্মান। আজ এই মহান মুক্তি যোদ্ধা পড়ে আছেন তার শেষ আশ্রয়স্থল নিজ মেয়ের বাড়িতে (আলেকজান্ডার, রামগতি, লক্ষ্মীপুর)। এখানে তিনি মানুষ গড়ার নিপুন কারিগর হয়ে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই মহান পেশায় নিয়জিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন নিজের অর্জিত জ্ঞান। রহস্য জনক হলেও সত্য যে কেউ আজ তার আসল নাম জানে না। সবার কাছে সে তিনি কালা স্যার নামে পরিচিত। ছেলে মেয়েদের (ছাত্র-ছাত্রি) নিয়েই সারাক্ষন পরে থাকেন এই কালো নামে সাদা মনের মানুষটি। সনদের কথা না ভেবে সমাজ সেবার কাজ করে যাচ্ছেন একের পর এক। তার (মোসলেহ উদ্দিন) অধিনস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমানের লেখা ময়মনসিংহে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি সম্বলিত বইয়ের নাম “জাগ্রত বাংলা”। যেখানে উল্লেখ আছে তার বীরত্বের কথা। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এই মহান মুক্তি যোদ্ধা তার পবিত্র সনদ ও স্বীকৃতি পাবেন সে কামনা সকলের।
মোঃ আবু সুফিয়ান (রাহাত)
মোবাঃ ০১৫৫৮-২৯২৬৬২
[email protected]
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



