লেখাপড়া করে চাকুরি করতে হবে অথবা মা বাবা লেখাপড়া করান ছেলে চাকুরি করবে, পয়সা কামাই করবে এই আশায়। এ কারণে আমরা প্রকৃত শিক্ষিত না হয়ে রোজগেরে হচ্ছি। আর আমাদের লেখাপড়ার পেছনের খরচকে ধরে নিচ্ছি ইনভেস্ট হিসেবে। চাকুরিতে ঘুষ-টুস দিয়ে একবার ঢুকতে পারলে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দুই হাতে কামাই করতে লেগে যাই। এটা একটা সাইকেলে পরিণত হয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। এটা আমাদেরকে করে দিয়ে গেছে ব্রিটিশ প্রভুরা। তারা একবার যে আমাদেরকে একটা সাইকেলে ঢুকিয়ে গেছে, তারপর অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা আর এ থেকে বের হতে পারলাম না। বরং সেটাতেই আরো গভীরভাবে জড়িয়ে গেছি। আমিও জানি না এ থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়। প্রবল চেষ্টা-আপত্তি করে কেউ কেউ হয়তো বেরিয়ে আসতে পারবে, কিন্তু পুরো জাতি কত দিনে সেটা পারবে তা জানিনা। কিংবা তারা এ থেকে বের হতে ইচ্ছুকও নয়। কারণ, এটুকু বোধ-বুদ্ধি এই নিম্নমানের শিক্ষিতদের নেই। তারা পড়ালেখা করে গাড়ি-ঘোড়ায় চড়তেই স্কুল-কলেজের বারান্দায় ঘুরোঘুরি করেছে, প্রাইভেট টিউটরকে পয়সা দিয়েছে। অতএব সেটাকে সুদে-আসলে উঠাতেই হবে।
ওদিকে মা বাবাও অপেক্ষা করে আছেন ছেলে কবে রোজগার করবে! আর বস্তুতান্ত্রিক দৃষ্টিভংগি তো রয়েছেই। সুন্দরী বউ আনতে হবে ঘরে, সে জন্য চাই অধিক রোজগার। টাকা না থাকলে মানুষ সম্মান করে না, তাই দরকার অধিক রোজগার। কিন্তু সে রোজগার কোন পথে হবে, হালাল নাকি হারাম সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সে রোজগারের কারণে দেশের ও দেশের মানুষের কতটুকু ক্ষতি হচ্ছে তাও বিবেচ্য বিষয় নয়। জাতি স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থ বড় হয়ে উঠায় চালাক-চতুর ও বিবেক বিসর্জন দেওয়া মানুষগুলো সফলতা লাভ করতে পারছে বটে, তবে অধিকাংশরা হচ্ছে বঞ্চিত।
শিক্ষার লক্ষ্য ভুল হওয়ায়ই মূলত আমরা ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র থেকে বের হতে পারলামনা। অথচ শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেকে জাগ্রত ও পরিশুদ্ধ করার মন্ত্রণা। শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্যের প্রয়োজনে কিভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া যায় সেই গুণ অর্জন। আজকে আমাদের মধ্যে সেই চেতনা নাই, সে জাগরণ নাই। তবে আমাদেরকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যেতে হবে। সিস্টেমটাকে পাল্টাতে হবে। বৃত্তটাকে ভাংগে হবে। অন্যথায় এভাবেই চলতে থাকবে যুগের পর অন্ধকার যুগ।
ফেসবুকে আমি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

