somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্যের দোষ খুজেঁ লাভ নেই, পরিত্রাণের উপায় খুঁজুন

০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ভালোই একটা বিমার হইছে। কেউ বলবে ডাক্তার খুব খারাপ, এরা কসাই। টাকা ছাড়া সেবা দেয় না। এরা অমানুষ। সাংবাদিকরা এইসব নিয়া পত্রিকায়/টিভিতে রিপোর্ট করবে। এইবার ডাক্তারগণও সাংবাদিকদের অপকর্মের তালিকা, মিথ্যা সংবাদ, হলুদ খামের ফিরিস্তি তুলে ধরে অনলাইনে কিস্তি লেখা শুরু করবে। বলবে ডাক্তার হইতে কতটাকা ব্যয় করতে হইছে, জানেন মিয়া?

যাত্রীরা লিখবে বাস চালক/মালিকের বিরুদ্ধে, আর এরা দোষারোপ করবে যাত্রীদের। বলবে সব জায়গায় ঘুষ-টুস দিয়া আসতে পারে, ভাড়া দেওয়ার সময় যত নকশা শুরু হয়। পাঁচ টাকা দিয়া মনে হয় গাড়িটাই কিনে নিছে! গাড়ি কি মিয়া পানি দিয়া চলে? তেল লাগে না?
অন্য দিকে বড় গাড়ির চালক ছোট গাড়িকে মনে করবে ঝামেলা। বলবে ওদের কারণে গাড়ি চালানো দায়। আবার ছোট গাড়ির চালক বলবে বড় গাড়িওয়ালাদের দাপটে রাস্তায় গাড়ি চালানো দায়।

কারখানার মালিক বলবে শ্রমিকার সব ফাকিঁ বেতন নিতে চায় আর শ্রমিকরা বলবে- শালা! মালিক রক্তচোষা। এত টাকা ইনকাম করে দেই কিন্তু বেতন দিতে চায় না।

উকিল বলবে মক্কেল খারাপ, মক্কেল বলবে উকিল অতিরিক্ত টাকা লোভী। দুই টাকার কাজ করতে একশ টাকা চেয়ে বসে।
দোকানদারের কাছে ক্রেতা খারাপ, অতিরিক্ত দামাদামী করে আবার ক্রেতার কাছে দোকানী খারাপ। কারণ, অতিরিক্ত মূল্য দাবি করে হকচকিয়ে দেয়।মুখরক্ষার জন্য হলেও কাছাকাছি একটা দাম বলতে হয়।

পত্রিকা/টিভিতে একমাত্র সাংবাদিকরাই সকলের হাড়ির খবর তুলে ধরতে পারেন। এ জন্য ইনাদের একটা অংশ মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকাও আদায় করেন। নয়তো সবকিছু ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আতি নেতা-পাতি নেতা সকলেই এদেরকে তোয়াজ করে চলেন। কারণ, ইনাদের প্রত্যেকেরই তলে কাঁচা। সাংবাদিকদের প্রতি অভিযোগ আছে যে ইনারা কর্পোরেট কোম্পানীর হয়ে চাকুরি করেন এবং মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে চলেন। তো ইনাদেরকে ট্যাক্কা দিতে এখন অনলাইন জগত উন্মুক্ত হয়ে গেছে। শুধু ইনারাই লিখবেন, অন্যরা উনাদের তোয়াজ করে চলবে তা কী করে হয়? এ জন্য এখানে, অনলাইনে সবাই সবার বিরুদ্ধে লিখতেছে। এই লেখালিখি পড়ে দেখলাম- কার বিরুদ্ধে কার অভিযোগ নেই? সবার বিরুদ্ধেই সবার অভিযোগ আছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে ধরা খাচ্ছে। এর কারণ কী?

এর কারণ হচ্ছে আমাদের পুরো সমাজটাই দূষিত হয়ে গেছে। সর্বত্র পঁচন ধরেছে। প্রত্যেকে পেশায় পূর্ণতা পেতে হলে তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে টাকা পয়সা অবৈধ পথে ব্যয় করতে হয়, ঘুষ দিতে হয়। আবার তাদেরকে সেই টাকা উঠাতে গিয়ে অন্যের গলায় ছুরি ধরে ঘুষ খেতেও হয়। জীবন-যাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বেতনের অতিরিক্ত টাকা উপার্জন না করলে হয় না। গিন্নির থাকে কালো মুখ। থাকে খোটা-খামচি, অন্যের বউয়ের গয়নার হিসেব। তখন বৈধ-অবৈধ চিন্তা করে পারা যায় না। অবৈধ পথে পা বাড়াতেই হয়।
আসল কথা হলো আমরা একটা পাকে পড়ে গেছি। বিপাকেও বলতে পারেন। এখন এ ওকে দোষ দিয়ে, ও একে দোষ দিলে লাভ হবে না। যত দোষ ধরবেন তত কাদায় আটকে যাবেন। আরো বেশি জড়িয়ে যাবেন। এখন উচিত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে এ থেকে পরিত্রাণের পথ খুজেঁ বের করা। পারস্পরিক দোষাদোষী নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:৩৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×