আমাদের ভালোই একটা বিমার হইছে। কেউ বলবে ডাক্তার খুব খারাপ, এরা কসাই। টাকা ছাড়া সেবা দেয় না। এরা অমানুষ। সাংবাদিকরা এইসব নিয়া পত্রিকায়/টিভিতে রিপোর্ট করবে। এইবার ডাক্তারগণও সাংবাদিকদের অপকর্মের তালিকা, মিথ্যা সংবাদ, হলুদ খামের ফিরিস্তি তুলে ধরে অনলাইনে কিস্তি লেখা শুরু করবে। বলবে ডাক্তার হইতে কতটাকা ব্যয় করতে হইছে, জানেন মিয়া?
যাত্রীরা লিখবে বাস চালক/মালিকের বিরুদ্ধে, আর এরা দোষারোপ করবে যাত্রীদের। বলবে সব জায়গায় ঘুষ-টুস দিয়া আসতে পারে, ভাড়া দেওয়ার সময় যত নকশা শুরু হয়। পাঁচ টাকা দিয়া মনে হয় গাড়িটাই কিনে নিছে! গাড়ি কি মিয়া পানি দিয়া চলে? তেল লাগে না?
অন্য দিকে বড় গাড়ির চালক ছোট গাড়িকে মনে করবে ঝামেলা। বলবে ওদের কারণে গাড়ি চালানো দায়। আবার ছোট গাড়ির চালক বলবে বড় গাড়িওয়ালাদের দাপটে রাস্তায় গাড়ি চালানো দায়।
কারখানার মালিক বলবে শ্রমিকার সব ফাকিঁ বেতন নিতে চায় আর শ্রমিকরা বলবে- শালা! মালিক রক্তচোষা। এত টাকা ইনকাম করে দেই কিন্তু বেতন দিতে চায় না।
উকিল বলবে মক্কেল খারাপ, মক্কেল বলবে উকিল অতিরিক্ত টাকা লোভী। দুই টাকার কাজ করতে একশ টাকা চেয়ে বসে।
দোকানদারের কাছে ক্রেতা খারাপ, অতিরিক্ত দামাদামী করে আবার ক্রেতার কাছে দোকানী খারাপ। কারণ, অতিরিক্ত মূল্য দাবি করে হকচকিয়ে দেয়।মুখরক্ষার জন্য হলেও কাছাকাছি একটা দাম বলতে হয়।
পত্রিকা/টিভিতে একমাত্র সাংবাদিকরাই সকলের হাড়ির খবর তুলে ধরতে পারেন। এ জন্য ইনাদের একটা অংশ মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকাও আদায় করেন। নয়তো সবকিছু ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আতি নেতা-পাতি নেতা সকলেই এদেরকে তোয়াজ করে চলেন। কারণ, ইনাদের প্রত্যেকেরই তলে কাঁচা। সাংবাদিকদের প্রতি অভিযোগ আছে যে ইনারা কর্পোরেট কোম্পানীর হয়ে চাকুরি করেন এবং মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে চলেন। তো ইনাদেরকে ট্যাক্কা দিতে এখন অনলাইন জগত উন্মুক্ত হয়ে গেছে। শুধু ইনারাই লিখবেন, অন্যরা উনাদের তোয়াজ করে চলবে তা কী করে হয়? এ জন্য এখানে, অনলাইনে সবাই সবার বিরুদ্ধে লিখতেছে। এই লেখালিখি পড়ে দেখলাম- কার বিরুদ্ধে কার অভিযোগ নেই? সবার বিরুদ্ধেই সবার অভিযোগ আছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে ধরা খাচ্ছে। এর কারণ কী?
এর কারণ হচ্ছে আমাদের পুরো সমাজটাই দূষিত হয়ে গেছে। সর্বত্র পঁচন ধরেছে। প্রত্যেকে পেশায় পূর্ণতা পেতে হলে তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে টাকা পয়সা অবৈধ পথে ব্যয় করতে হয়, ঘুষ দিতে হয়। আবার তাদেরকে সেই টাকা উঠাতে গিয়ে অন্যের গলায় ছুরি ধরে ঘুষ খেতেও হয়। জীবন-যাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বেতনের অতিরিক্ত টাকা উপার্জন না করলে হয় না। গিন্নির থাকে কালো মুখ। থাকে খোটা-খামচি, অন্যের বউয়ের গয়নার হিসেব। তখন বৈধ-অবৈধ চিন্তা করে পারা যায় না। অবৈধ পথে পা বাড়াতেই হয়।
আসল কথা হলো আমরা একটা পাকে পড়ে গেছি। বিপাকেও বলতে পারেন। এখন এ ওকে দোষ দিয়ে, ও একে দোষ দিলে লাভ হবে না। যত দোষ ধরবেন তত কাদায় আটকে যাবেন। আরো বেশি জড়িয়ে যাবেন। এখন উচিত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে এ থেকে পরিত্রাণের পথ খুজেঁ বের করা। পারস্পরিক দোষাদোষী নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

