somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুমি কে, আমি কে? কেউ না।

১৮ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা আসলে কেউই কিছু না। একেবারেই কিছু না। কি মূল্য আছে আমাদের অস্তিত্বের? এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কতটা অংশই বা আমরা দখল করে আছি! বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সস্বন্ধে যারা খবর রাখেন তারা নিশ্চয় জানেন মহাবিশ্বের তূলনায় এই পৃথিবীটা একটা ধূলিকণার মত। এর মধ্যেই আছি আমরা। আমাদের কাছে একটা ধূলিকণা কতই না ক্ষুদ্র। কিন্তু এই ধূলিকণা কিংবা প্রতিটি অনু-পরমাণুর ভেতরেও কি আলাদা জগত নেই? বিজ্ঞান বলছে আছে, এবং সেখানেও আমাদের সৌরজগতের মত পরিভ্রমণশীল গ্রহ/জগত রয়েছে। যদি আমাদেরকে তার একটার ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তবে দেখব সেখানেও আবার ধূলিকণা আছে। সেখানেও দূরত্ব আছে ঠিক এখানকার মতই। একটা থেকে আরেকটায় যেতে আমাদেরকে রকেটের সাহায্য নিতে হবে। সেখানকার ডাইমেনশন এবং আমাদের এখানকার ডাইমেনশনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেখানকার সময় হবে অবশ্যই আমাদের তুলনায় আরো বেশি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের। অর্থাৎ সমগ্র বিষয়গুলো নির্ভর করে আপেক্ষিকতার উপর।

আমাদের এখানে যে সময় বাইরের কোন জগতের তুলনায় তা অতি ক্ষুদ্র। আমাদের ষাট-সত্তর কিংবা ১০০ বছরের দীর্ঘ জীবন সে সময়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। যেমন আল্লাহ কোরআনে বলছেন: 'তারা বলবে হায়, পৃথিবীতে আমরা কত অল্প সময়ই না ছিলাম!' অর্থাৎ এ থেকে বোঝা যায় আমাদের সময়ের চেয়ে ধীরগতি সময়ের কোন একটা ডাইমেনশন অবশ্যই আছে। কিংবা এমনও হতে পারে যে সেই ডাইমেনশনে কোন সময় নেই, মুহূর্ত নেই। আসলেই কি তা হতে পারে না? বিজ্ঞান কিন্তু বলছে, অবশ্যই পারে।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন যে স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে? এই প্রশ্ন কেন আসে? কারণ, যুক্তি দেওয়া হয় যে যেহেতু সৃষ্টি আছে তাই স্রষ্টাও আছেন। তো পাল্টা প্রশ্ন আসতেই পারে যে তাহলে স্রষ্টা কোথা থেকে এলেন?
সময় এবং ডাইমেনশনকে আমলে নিলে এখানে এই প্রশ্নটি অবান্তর হয়ে যায়। কারণ, যেখানে সময় নেই, এমনকি স্থানেরও প্রশ্ন নেই সেখানে আগে পরে বা কোথা থেকে এই প্রশ্নও নেই। স্রষ্টা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তিনি বর্তমান থাকা অবস্থায় অর্থাৎ শূন্য সময় অবস্থা থেকেই একটা ডাইমেনশন সৃষ্টি করলেন এবং সময় সৃষ্টি করে দিলেন। সময় সেই ডাইমেনশনের জন্য প্রয়োজন, কিন্তু এর বাইরে সময়ের কোন দাম নেই। সেখানে অতীতও নেই, ভবিষ্যতও নেই। শুধুই বর্তমান।

যে ডাইমেনশনগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলোতে যেহেতু সময় দিয়ে দেওয়া হয়েছে সেহেতু সেগুলোর নির্ধারিত মেয়াদও আছে। মেয়াদ শেষ হলে তারা মিলিয়ে যাবে কিংবা গুটিয়ে যাবে। ঠিক কোনটা হবে সেটা অবশ্য নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে কোরআন থেকে ও বিজ্ঞানের আলোকে যতদূর জানা যায় তা হচ্ছে গুটিয়ে যাবে, আল্লাহর কাছে চলে যাবে (প্রত্যেকের গন্তব্যই তাঁর দিকে)।

বাস্তবে আমরা বর্তমানের মধ্যে থেকেই দিন গুনে যাচ্ছি। আমাদের এই সীমার বাইরে সবই বর্তমান। এখান থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া হলে আমরা দেখতে পাব কি এক মিথ্যার জগতে আমরা আবদ্ধ হয়ে ছিলাম। আসলেই, এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন জগৎ এক মায়া। জগৎ এক ভ্রম। এই ভ্রমের মধ্যে থেকেই আমরা আকাশ-পাতাল কতকিছু ভাবছি। অথচ সময় শেষে আমরা সবাই এক। কিন্তু এই মোহ মায়ায় পড়ে আমরা কত ব্যবধান বাড়িয়ে চলছি। আমরা সবাই এক। কিন্তু আবার আমরা কেউই কারো না। আমাদের সন্তান নেই, আমাদের পিতা নেই, মাতা নেই। সবই ক্ষণিকের অভিনয়। কেননা, আমাদের জীবনও নেই, আমাদের মৃত্যুও নেই। দুটোই আমাদের জন্য সমান। অদ্ভুত, অদ্ভুত! চিন্তা করলে একেবারে মাথা গুলিয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×