ভারী ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, এতদিন যারা আইএসের সফলতায় গোফের নিচে দিয়া ঝিলিক দেওয়া মুচকি হাসি হাসতাছিল রাশিয়ার হামলায় এখন তাদের করুণ দশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অবশ্য এখনি তারা পরাজয় মেনে নিয়েছে এমনটা নয়। তারা আমিও নিচে থেকে এমন চাপ দিছিওয়ালা হারুয়া পার্টির সুরে বলছে, রাশিয়ার পদাতিক বাহিনী নামুক না, মজা দেখাই দিমু! অপরদিকে আইএসকে যারা এতদিন সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিতেছিল তারা এখন উল্লাসে ফেটে পড়ছে। প্রথমোক্ত গ্রুপটির কাছে এতদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিলো শত্রুর তালিকায় আর এখন বাস্তবে শত্রু হচ্ছে রাশিয়া। আর দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে ভ্লাদিমির পুতিন এখন ত্রাণকর্তা। কি হাস্যকর ব্যাপার! সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তানে হামলা চালায় তখন আজকের এই জেহাদিরা দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে জড়ো হয়েছিলা এই রাশিয়ার বিরুদ্ধেই 'জেহাদ' করার জন্য। তখন আজকের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ছিলো তাদের সকল রসদের যোগানদাতা।
একবার রাশিয়া তাদের বন্ধু হয় আবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্ধু হয়। এই অসম্ভব দোলাচলে পড়ে কুপোত হচ্ছে নামধারী সেই মুসলিমসহ সাধারণ মানুষজন। ধ্বংস হচ্ছে তাদের সম্পদ। এতে যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার কি হইছে? এরা সিজন মোতাবেক অস্ত্র বিক্রি করছে, কোটি কোটি ডলার কামাইছে। দাবার গুটির মত একবার এই পক্ষ চাল দিছে আবার ঐ পক্ষ চাল দিছে। ভাগাভাগি কইরা ওদের সম্পদ লুট করছে। সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, আফগানিস্তানের সরকারসহ মানুষগুলো বুঝলো না নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের বিচার নেকড়েদের কাছে চাওয়া বা সহযোগিতা চাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিজেরাই। ভালো কথা, বুঝলে বুঝ না বুঝলে মরো। খামোখা এই বিষয়গুলোরে ইসলামের সাথে জড়ায়ো না। এইগুলা তোমাগো কামড়া-কামড়ির ফল। আধিপত্য বিস্তারে শিয়া-সুন্নীর পুরনো দ্বন্দ্ব। এর ফাঁক দিয়া যারা এগুলোর সাথে ইসলামের লেবেল লাগাইতাছে তারা বে-আক্কেল কিংবা স্বার্থবাদী ছাড়া আর কিছুই না। আর দূরে থেকে তাদের এই কাজিয়ায় শিয়া সুন্নীর জয় পরাজয়ে যারা আনন্দিত ও দুঃখিত হন, তাদের চেহারার আদলে নিজেদের চেহারার বহিঃপ্রকাশ ঘটান তারা হইল আস্ত বলদ। আমি চাইতাছি দাবার গুটি নিয়া টক্কর লাগুক। মাঝ দিক দিয়া আইএস, আল-কায়েদা, নুসরা ফ্রন্ট, হেজবুল্লাহসহ যে সব বিবাদমান গোষ্ঠী আছে তারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিমিত্ত হোক। এরা ইসলামের নামে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে, ঐক্য নষ্ট করেছে তার শাস্তি হিসেবে এই ধ্বংসলীলা তাদের উপর দিয়া বয়ে যাক। তেরশ বছরে যখন তারা এই দ্বন্দ্ব ঘোঁচাতে পারল না তারা আর বাকি জীবনে পারবে বলেও মনে হয় না। সুতরাং......
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



