বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সংবিধান-প্রদত্ত ক্ষমতা দেখিয়ে 'জরুরী ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭' নামের একটি অধ্যাদেশও জারী করা হয়েছে শনিবার। জানানো হয়েছে যে রাষ্ট্র-জনগণের নিরাপত্তা বিধান, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অক্ষুন্ন-রাখা-সহ ইত্যকার প্রয়োজনে অধ্যাদেশটি জারী করা হয়েছে। অধ্যাদেশের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন, লঙ্ঘনের চেষ্টা অথবা লঙ্ঘনে সহায়তাকে ভয়াবহ অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এ-সব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আরও মর্মান্তিক ব্যাপার হলো জরুরী অবস্থা চলাকালে কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোন বিচার চাওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষ যত ক্ষয়ক্ষতি করুক না কেনো, তা সরল বিশ্বাসে করা হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে! এভাবেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সনত্রাসকে আগাম দায়মুক্তি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু কেনো? কেনো জরুরী অবস্থা চলাকালীন প্রতিটি কর্মকান্ড সরল বিশ্বাসে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে? সরল বিশ্বাসে নামক আজব কারণে যদি হয়েও থাকে, ভবিষ্যতে তা আদালতে প্রমাণিত হবার ক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায়? হঠাৎ করে জরুরী অবস্থা জারীর কারণটাই বা কী? জানা কথা এসব সরল প্রশ্নের কোন সরল জবাব পাওয়া যাবে না। সামরিক শাসনামলের আইন-অধ্যাদেশ-প্রজ্ঞাপনের সাথে 'জরুরী ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭' এর তফাৎ কোথায়?
অধ্যাদেশের পরিণতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আচমকা অনভিপ্রেত স্তব্ধতা নেমে এসেছে। মনে হচ্ছে যেনো-তেনোভাবে ক্ষমতায় যাবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা রাজনৈতিক দল বা জোটগুলোর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধহীন করে ফেলার লক্ষ্যে সূদূর প্রসারী একটি চাল খেলা হয়েছে। রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধানের পরিবর্তে সংবিধানকে ব্যবহার করে জরম্নরী অবস্থা জারীর মধ্য দিয়ে জনগণের সাংবিধানিক অধিকারগুলোকে সুচিন্তিতভাবে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে।
এর পেছনে কী উদ্দেশ্যে বিরাজ করছে সে-প্রশ্নটি এখন বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। অধ্যাদেশ জারীর পেছনে কে বা কারা আছেন তাও বোঝার ব্যাপার আছে। যে-রাষ্ট্রপতি এতদিন পর্যন্ত বিশেষ একটি মহলের ইচ্ছা-পূরণ করছেন বলে সর্ব-মহলে সমালোচিত হচ্ছিলেন, তিনি হঠাৎ করে কী কারণে জরুরী অবস্থা জারী করে বসলেন? দেশের ভেতরে কবরের নিস্তব্ধতা বিরাজ করলে কাদের সুবিধা? পৃথিবীর বহু দেশেই দেখা যায় যে, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ না থাকলে দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যাবার বন্দোবস্ত করা, নিশ্চিন্ত মনে শ্রম-শোষণ করা, দেশীয় স্থাপনা বিদেশী ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়ার কাজগুলো সহজ হয়। সুবিধাজনক হয়। প্রভু-শক্তির আজ্ঞাবহ হয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার পথটি নিষ্কন্টক হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



