somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রমিকরাও মানুষ রোবট নয়

০১ লা মে, ২০১৬ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ শ্রমিকদের একটি বিশেষ দিন। এ দিনটি আসলেই সবার মনে শ্রমিকদের জন্য রাজ্যের মায়া যেন উথলে উঠে। সারা বছর কোন খবর থাকে না। রানা প্লালাজায় কত শ্রমিক ভাই মারা গেল কতজন নিখোঁজ তাদের জন্য এ দিনে হয়তো দুটা ভাল ভাল কথা বলা হবে। কাউকে কাউকে হয়তো অর্থ সহায়তাও দেয়া হবে এই শেষ। কিন্তু এই হত্যার যে খল নায়ক রানা তার বিচার ধামাচাপা পড়ে থাকে। কেউ উচ্চবাচ্য করে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দুটা কথা আজ হয়তো শুনা যাবে কিন্তু এর বাস্তবায়ন সারা বছরে আদো হবে কিনা সেই সন্দেহ থেকে যাবে। আমাদের দেশের শ্রমিকরা আজ রাজনৈতিক গুটিতে পরিনত হয়েছে। ব্যবসার টপিক হয়েছে। তাই আজ রানা প্লাজা নিয়ে ছবি হয় । রাজনীতি হয়। কিন্তু রানা প্রাজায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর জীবনের কোন পরিবর্তন হয় না। অথচ আমাদের দেশের শ্রমিকরা কত সস্তায় তাদের শ্রম বিক্রি করছে। যে সময় তার পরিবারকে দেযার কথা । স্বামী সন্তানকে দেযার কথা। তা বিক্রি করছে মালিকদের কাছে। এতো করেও তারা কি পাচ্ছে তার বিনিময়ে.
=) ন্যয্য মুজুরী? না পাচ্ছে না।
=) সময়মত বেতন -বোনাস? না পাচ্ছে না
=) নিরাপত্তা? না পাচ্ছে না।
=) সামাজিক সম্মান? না পাচ্ছে না।
=) মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনের প্রতিকার? না পাচ্ছে না
আরো অনেক ………………….বললে বলা যাবে।

মহানবী সা. এর একটি হাদিস – শ্রমিকের মুজুরী তার ঘাম শুকনোর আগে দিয়ে দাও। যে ধর্মের হোক না কেন কেউই শ্রমিককে মুজুরী দেবার বিষয়ে সিরিয়াস নয়। আজো তাই দেখা যায় সারা মাস কাজ করে শ্রমিক বেতন পায় না। বায়ার নাই, ব্যবসা মন্দা নাান ছুতোয় তাদের মুজরী নিয়ে তাল বাহনা করে। তাইতো মাঝে মাঝে অমুক জায়গায় বেতন বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ বিদ্রোহ ইত্যাদি খবর দেখা যায়।

শ্রমিকদের নিরপত্তা নাই কোথাও? রানার মতো লোকেরা গামেন্টস নয় শ্রমিকদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ বানিয়ে রেখেছে। এছাড়া শ্রমিকদের রাতে বিরাতে ডিউটি করানো হয়। এতে পুরুষ শ্রমিকদের অসুবিধা না হলেও নারী শ্রমিকদের নানা অসুবিধায় পড়তে হয়। কখনো কখনো সহকর্মিদের দ্বারা যৌন হয়রানীর স্বীকার হতে হয়। যে সকল নারী শ্রমিক গভীর রাতে বাড়ী ফিরেন তাদের রাস্তায় নানা ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। শংকিত থাকতে হয়। দুষ্ট লোকেরা ওতপেতে থাকে। তাদের স্বর্বস্ব লুটার জন্য। তা জান মাল বা ইজ্জত হোক। কত রিস্ক নিয়ে আমাদের শ্রমিকরা কাজ করছে। আমাদের চারপাসের দিকে তাকলেই তা প্রতিমান হয়। তাদের ভিতর আর বাইরের নিরাপত্তা বিধান করা দরকার।

গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজও অবহেলিত আমাদের সমাজে। অথচ তাদের অর্জিত অর্থেই এই সমাজের মানুষেরা আজ দুই পয়সা পাচ্ছে। তাদের কে যে কেউ যেকোন সময় অপমান করতে পারে । মারতে পারে। যে কোন অপবাদ দিয়ে দিতে পারে। খুব সহজেই। তাদের সামজিক অনুষ্ঠানাদিতে অনেকেই দাওয়াত দেয় না। কারন তারা যেখানে থাকে সেটা তাদের ভাড়া বাসস্থান। তাইতো কখনো বাড়িওয়ালা কখনো এলাকার পাতি মস্তান বা কখনো সমাজিক ভাবে তাদের হেয় করা হয়। কখনো কখনো ভাড়া দিতে দেরি হলে তাদের মালামাল বাজেয়াপ্ত করে অপমান করে তারিয়ে দেয় বাড়িওয়ালারা। দোকানদাররা বাকি টাকা না পেয়ে মারধর করে। তাদের সমস্যা নিয়ে কেউই ভাবে না। না আমি না তুমি না সে। সবাই শুধু হিজ হিজ হুজ হুজ। কি কারনে বেচারা টাকা দিতে পারছে না? এটা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। আমার পাওনা কেন দেয়া হল না এটাই মুখ্য। মানবিকতা আজ অর্থের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে।

কি অফিসে কি বাইরে শ্রমিকরা আজ মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনের স্বীকার। কিছু কিছু কুলাংগার সহকর্মী দ্বারা নারী শ্রমিকরা আর যৌন হয়রানীর স্বীকার। বস! কিছু বললেই চাকুরী শেষ। তাই মুখ বুজে সব সয়ে যাচ্ছে তারা। এ চিত্র আমাদের চারপাসের পরিচিত দৃশ্য। একটু চোখ কান খোলা রাখলে দেখা যায়। আমার পরিচতি একজন। সে লোক এক গামের্ন্টেসর পি এম। তারই কত কান্ড কির্তন । অথচ তার বৌ আছে সন্তান আছে। আমি যেহেতু টংগী শিল্প এলাকায় বসবাস করি তাই আমার চারপাসে এমন অনেক ঘটনা হরহামেশা দেখতে হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে সংশ্লিষ্টদের। রুখে দিতে হবে দুষ্টদের।

আমার এলাকার কমিউনিটি পুলিশ কার্যক্রম এর কারনে শ্রমিকদের অনেক ঘটনা আামর জানা। অনেক বিচার শালিশও করতে হয়েছে। কথা হলো কেন শ্রমিকরা নির্যাতনের স্বীকার হবে? কেন শ্রমিকরা তাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? মনে রাখতে হবে শ্রমিকরা মানুষ রোবট নয়। তাদের মানবিয় সত্তা রয়েছে। তাদেরও আবেগ আছে অনুভুতি আছে। তাদের ও কষ্ট আনন্দ আছে। আজ ১লা মে, শ্রমীকদের এই বিশেষ দিনে তাদের শুধু শ্রমিক নয় মানুষ হিসেবে মূল্যায়নের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার তৌফিক দান করুন।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৬ রাত ১০:৪৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্তন (কবিতা)

লিখেছেন স্বাধীন আকন্দ, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯

মুঠোফোনের রিলে হাসে যে তরুণীটি
হিন্দি-সিনেমার সংলাপ নকল করে
মুহুর্তেই সে বদলে গিয়ে
নাচতে থাকে আরেক তরুণী

এভাবে দেখি তাকে হাঁটতে, ফোনটি মুখের সামনে
কেমন অন্যমনস্ক, গলিটা যেন গিলে খাচ্ছে তাকে
হঠাৎ মনে হলো, আমার প্রেমিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: নাচ

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫




মনে পড়ছে হরিদ্রাভ আলোর সড়ক
পিঙ্গলবর্ণ সূর্য-শিশুরা সূর্যাস্তের দিকে
সারাদিন ম্যাচের বাক্স খুঁজে-খুঁজে হয়রান;
গোরস্থানের ভিতর অনেক লিচু গাছ
ভাঙা কবর থেকে শিয়ালেরা রাতভর ডাকে।
মানুষের উল্টোদিকের ছবি তুলতে-তুলতে ভাবি,
একদিন এই জুনে পাঠিয়েছিলে চিঠি
মর্চে পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ফাঁদ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



আজ সারাদিন অঝর ধারায় বৃষ্টি, থামার কোনো লক্ষণ নেই। যশোর-নড়াইল মহাসড়কের রূপগঞ্জের এক নির্জন ফিলিং স্টেশনের একপাশে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আতিক।

রাত এখন আড়াইটা। চারপাশ শুনশান নীরব। আতিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×