যে জন যে বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা রাখে না তার উচিত নয় সেই বিষয়ে কোন মত দেয়ার। মাদ্রসা শিক্ষাবোর্ডের বইতে অশ্লিলতা আছে। হুট করে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করে দিলেনে। আগে জানুন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তারপর তো মতামত। কোনটি শালীন কোনটি অশালীন শব্দ এটা নির্ভর করে এর বিষয়বস্তুর উপর। কিন্তিু বিষয়বস্তুই যিনি অনুধাবন করতে পারেননি তিনি কি করে এমন অর্বাচিনের মত মতামত দেন। তাও আবার আমাদের প্রিয় নবী স. এর সহীহ হাদীসের বিকৃত অর্থ করার চেষ্টা করেন। আপনি বেহুদা এমন তর্ক করে নিজেকে ছোট করলেন। যে জ্ঞান আপনার নাই তা নিয়ে জ্ঞান জাহিরের বৃথা চেষ্টা করে কি লাভ হল? প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ম মানা একজন মুসলিম বলেই জানি।আপনার কি মনে হয় এই লেখাটি পড়ে তিনি নিজ নবীর হাদীসে অশ্লীলতা আছে এটা মেনে নেবেন। এটা একটি শিক্ষনীয় শালীনতা সংক্রান্ত, আদব কায়াদা সংক্রান্ত একটা হাদিস। এটাকে বলা হয় এটা নাকি রসাত্বক। তাতো লাগাবেই কাঠাল যে চেনেনো সেতো অন্য ফলের মত তাকে খাবেই। ভট্টাচার্য সাহেবতো একজন বিধর্মী তিনি কি করে আমার ধর্ম সম্পর্কে না বুজে না জেনে এমন মন্তব্য করেন। আমি মুসলিম হিসেবে এর তিব্র প্রতিবাদ করি। আশা করি আমাদের প্রধান মন্ত্রীও করবেন। আচ্ছা আপনাদের কি কোন খাইয়া দাইয়া কাম নাই না।শুধু পেচগি লাগানেরা চেষ্টা । দেশের স্থীতিশিলতাকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা। সরলমনা মোমিন মুসলমানদের মনে উত্তেজনা জাগিয়ে তোলা। ধিক ধিক এসব মানসিকতাকে।
এবার আসি হাদিসটি কি ছিল সে প্রসঙ্গে।
এক ব্যক্তি রসূলে কারীম ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেনঃ
আমার মায়ের ঘরে যেতে হলেও কি আমি অনুমতি চাইব?
রসূলে কারীম ﷺ বললেনঃ অবশ্যই। সে লোকটি বললঃ আমি তো তার সঙ্গে একই ঘরে থাকি-তবুও? রসূল ﷺ বললেনঃ হ্যাঁ, অবশ্যই অনুমতি চাইবে। সেই ব্যক্তি বললঃ আমি তো তার খাদেম।
তখন রসূলে কারীম ﷺ বললেনঃاِسْتاْذَنْ عَلَيْهاَ اَتُحِبُّ اَنْتَرَاهَا عُرْيَانَةً-
অবশ্যই পূর্বাহ্ন অনুমতি চাইবে, তুমি কি তোমার মাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পছন্দ কর?
তার মানে, অনুমতি না নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে মাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।এখান অশালীনটা কি হল বুঝলাম না?
অন্ন-বস্ত্রের মত বাসস্থানও মানুষের একটি মৌলিক প্রয়োজন এবং আল্লাহ তাআলার এক অমূল্য নিআমত। এর আসল উদ্দেশ্য হল বিশ্রাম, শান্তি ও বসবাস।
প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘরে তার একান্ত জীবনটি যাপন করে। এই জীবন যাপন যাতে নির্বিঘ্ন ও নিরুপদ্রব হয় সেজন্য ইসলাম কিছু নীতি ও বিধান দান করেছে, যার চর্চা ও অনুশীলন একটি সভ্য সমাজের জন্য অতি প্রয়োজন। একে অপরের ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে বহু রকমের বিব্রতকর ও বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যথা-
ঘরে কখনো একান্ত ব্যক্তিগত কাজ করা হয় যা অন্য কারো দৃষ্টিগোচর হওয়া ঘরের বাসিন্দার অপছন্দ।
কখনো একান্ত জরুরি কাপড় ছাড়া অন্য কাপড় খুলে রাখা হয় (বা খুলে যায়)। এ অবস্থায় বিনা অনুমতিতে কেউ প্রবেশ করে ফেললে সে বিব্রত বোধ করে।
আবার কখনো কোনো বিষয়ে গভীর মনোনিবেশ করা হয়। এক্ষেত্রে অকস্মাৎ কেউ এসে পড়লে সে চমকে উঠে; দিল-দেমাগের উপর চোট পড়ার আশংকা থাকে। এ সমস্যাগুলো কারো একান্ত কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশের দ্বারা ঘটতে পারে।
তাছাড়া ঘরে-বাড়িতে হঠাৎ কেউ ঢুকে গেলে মাহরাম নয় এমন কোনো পুরুষ বা মহিলার উপর দৃষ্টি পড়ে যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হল কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে তো সাক্ষাতদানের জন্য অন্তত মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর সাক্ষাতের বাইরে অন্য কোনো প্রয়োজন থাকলে তো কথাই নেই।
মোটকথা অনুমতি ছাড়া কারো বাড়িতে বা ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ হতে পারে পর্দা নষ্টের কারণ কিংবা বিরক্তি ও কষ্টের কারণ। তাই অন্যের ঘরে বা কক্ষে প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করা নাজায়েয এবং সাধারণ ভদ্রতা ও সুরুচিরও পরিপন্থী।
আনাস র. থেকে বর্ণিত হয়েছে। নাবী কারীম ﷺ বলেছেনঃ
يَابُنَيَّ اِذَا دَخَلْتَ عَلى اهلِكَ فَسَلِّمْ تَكُوْنَ بَرْكَةً عَلَيْكَ وعَلى اَهْلِ بَيْتِكَ- ترمذي)
‘‘হে প্রিয় পুত্র, তুমি যখন তোমার ঘরের লোকদের সামনে যেতে চাইবে, তখন বাইরে থেকে সালাম কর। এ সালাম করা তোমার ও তোমার ঘরের লোকদের পক্ষে বড়ই বারাকাতের কারণ হবে।
অনুমতি একটি আদব । একটি ভদ্রতা । তাই অনুমতি নেয়ার গুরুত্ব বুঝাতেই হাদীসটি টি ছিল। কিন্তু যার জ্ঞান নেই সে কি করে বুঝবে ?
সরকারের কাছে অনুরোধ এহেন উত্তেজনা সৃস্টিকারী চুলকানি পূর্ন লেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি প্রদান করুন। আল্লাহ আপনার ভাল করবেন।
(ভোরের কাগজে ২০ শে ডিসেম্বর বুধাবার অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য নামক একজন মাদ্রসা শিক্ষাবোর্ডের সমালোচনা করেএকটি বিদ্বেষপূর্ন লেখা প্রকাশ করে -যার শিরোনাম ''মাদ্রাসার বইয়ে অশ্লীলতা''। আর সম্পদকীয়তেও এর সমর্থন করা হয়েছে)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




