-এক রাজনের জন্যে আপনার কলিজা পুড়ছে? দৈনিক এই রকম কতো নাম-পরিচয়হীন রাজন কষ্ট পাচ্ছে, আপনি সে খবর রাখেন? কতো রাজন দৈনিক কর্ম-প্রতিষ্ঠানের নির্যাতিত হচ্ছে সে খবর জানেন?
-না ভাই, আমরা সে খবর বেশী একটা রাখি না। আমাদের প্রয়োজন পড়ে না।
খবর না রাখাই ভাল, নইলে সহ্য করতে পারবেন না। যে দেশে কাগজে-কলমে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শারীরিক শাস্তির কোন বিধান নেই। সেই দেশে একটা ১৩ বছরের শিশু প্রকাশ্য দিবালোকে নির্যাতনে মারা পড়বে, এটা আসলে সহজে মানা যায় না।
দোষ কিন্তু ৩-৪ জন নির্যাতনকারীর না, দোষ আমাদের সবার। রাজন হত্যার লজ্জা আমাদের সকলকে বহন করতে হবে। বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হলেও, আমরাই শিশু শ্রমকে অগ্রাধিকার দেই। কম টাকায় লেবার পাওয়া, আর কি! শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রহার নিসিদ্ধ হলেও, শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে স্যারদের মারার সুযোগও আমরাই করে দেই।
একটা কথা বলি, নুন্যতম ১০-১২ লাখ শিশু-শ্রমিকের দেশে, কোন শিশু মনের আনন্দে কাজ করতে পথে নামে না। পেটের তাগিদে বাধ্য হয় কাজ করবার জন্য। এই রাজন নামের ছেলেটাকে চোর হিসাবে মারা হল, কি চুরির জন্য মারা হল জানেন? সামান্য একটা তিন চাকার ভ্যানগাড়ির জন্য। খুব হলে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে একটা ভ্যান গাড়ির জন্যে। আমি এখনো বুঝে উঠতে পারলাম না, একটা শিশুর জীবনের দাম কি ৩০-৪০ হাজার টাকার চেয়ে কম?
আসলে আমরা সবাই "ফিসিকাল ভায়োলেন্স" পছন্দ করি। আমরা মানুষ হলেও, আমাদের মধ্যে পশুর ভাব বিরাজমান। আমাদের সবার মধ্যেই একটা পশু আছে। এই পশুকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না। এই পশুকে মেরে ফেলতে হবে। যতদিন আমরা, আমাদের অন্তরে এই পশুকে লালন-পালন করবো, ততদিন নতুন-নতুন রাজন মৃত্যুর দিকে ধাবমান হবে
#SayNoToChildrenAbuse #SayNoToViolence #MakePeace

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



