somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতনু কুমার সেন
ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্

অন্যের সমস্যা, দুঃখ বা কষ্টকে অবজ্ঞা না করে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তার সমস্যা সমাধান করাই শ্রেয়।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ছোট গল্প শেয়ার করি ......

এক বাড়িতে এক ইঁদুর ছিলো, আর তার সঙ্গী হিসাবে ছিলো কয়েকটি মুরগী, কয়েকটি শূকর আর ১ টা বড় ষাঁড়। একদিন ইঁদুরটি দেখলো তার বাড়ির মনিবের স্ত্রী একটা ইঁদুর ধরার যন্ত্র নিয়ে এসেছে। ইঁদুর তো মরার ভয়ে অস্থির !! কখন না জানি সেই ফাঁদে সে পড়ে তার প্রাণটা বেরিয়ে যায়।

ইঁদুর ছুটে চলে গেল তার বন্ধু মুরগীর কাছে। গিয়ে ইঁদুর ধরার যন্ত্রের কথা বলল সে। মুরগী তার কথা শুনে কিছুটা আফসোস করে বলে উঠলো "আহহারে, তোমার ভয়ের জন্য আমার খারাপ লাগছে। সাবধানে থেকো। কিন্তু আমার তো আর ঐ ফাঁদের ভয় নেই তাই তোমার জন্য আমি কিছু করতে পারছি না ভায়া"।

ইঁদুর হতাশ হয়ে চলে গেলো। এরপর সে তার আরেক পড়শী শূকরের পালের কাছে গিয়ে বলে উঠলো, "বাড়িতে বিপত্তি ঘটেছে, মনিব ফাঁদ নিয়ে এসেছে আমাদের ধরার জন্য।" সবাই তো চিন্তায় পড়ে গেলো কিন্তু যখন শুনলো যে ইঁদুর মারার ফাঁদ তখন তারা হো হো করে হেসে উঠলো। "আসলে এই ফাঁদটা তোমার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। তোমার জন্য খারাপ লাগছে, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। তুমি তোমার রাস্তা মাপো বাপু" বলে উঠলো তারা।

ইদুরের মন আরো খারাপ হয়ে শেষ মেশ হাজির হলো আরো শক্তিধর বন্ধু ষাঁড় এর কাছে। তার এই বিপদের কথা জানলো সে। কিন্তু ষাঁড়ও অন্যদের মত সমবেদনা দেখিয়ে সাফ সাফ বলে দিলো তার জন্য সে কিছু করতে পারবে না। অবশেষে ইঁদুর তার হাল ছেড়ে দিয়ে ঘরের মধ্যে চুপটি করে বসে রইলো। ভয়ে সে আর বাসা থেকে বের হলো না।

সেই রাতে একটা ঘটনা ঘটলো। সারা ঘরময় একটা চিক চিক শব্দ শোনা গেলো। মনিবের স্ত্রী মনে করলো নিশ্চয় ইঁদুর ধরা পড়েছে ফাঁদে। সে লাইট না জ্বালিয়েই হাত দিতে বসলো ওই ফাঁদে। আর অমনি একটা বিষাক্ত ছোবল তার হাত অনুভব করলো। আসলে সেটা ছিলো একটা বিষধর সাপ।

মনিব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে গেলো। সেখানে ২ দিন থাকার পর ডাক্তার বলল তাকে বাড়ি নিয়ে যে। যেহেতু শরীর অনেক দুর্বল তাই বাড়ীতে গিয়ে ভালোমন্দ খাওয়াতে। বাড়ির মালিক তার স্ত্রীকে বাসায় নিয়ে গেলো আর দেখলো যে তার তো অনেক মুরগী আছে। সে একটা একটা করে মুরগী রান্না করে, সুপ করে, ফ্রাই করে তার বউকে খাওয়াতে লাগলো।

এদিকে তার স্ত্রীর অবস্থা আরো বেশি খারাপ হয়ে যেতে থাকলো মুরগীর পাল ও শেষ হয়ে গিয়েছে। তার স্ত্রীকে দেখার জন্য তার আত্মীয়রা তার বাসায় আসা শুরু করলো। আর তাদের আপ্যায়নের জন্য বাড়ির মালিক তার শূকরের পাল নিধন করতে লাগলো। এভাবে তার খামারের সব শূকর কয়েকদিনের মধ্যেই সাবাড় হয়ে গেলো।

কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। অবশেষে তার স্ত্রী মারা গেলো। দূর দুরান্ত থেকে সবাই তার শেষকৃতিতে উপস্থিত হবার জন্য তার বাড়িতে হাজির হলো। তাদের খাওয়ানোর জন্য সে তার বড় ষাঁড়টিকে এবার খাবারের তালিকায় ওঠালো। এভাবে এক ইঁদুর বাদে সবাইই নিঃশেষ হয়ে গেলো।

গল্পের মর্মকথাঃ যখন আপনি আপনার নিকটেস্থ মানুষের বিপদ দেখে গুরুত্ব দেন না বা আপাত দৃষ্টিতে আপনার মনে হতে পারে সমস্যাটা তো তার , আমার তো কোন সমস্যা নেই, কিন্তু মনে রাখা উচিত যে তার সেই সমস্যা কিন্তু আপনার উপরও কোননা কোন ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। হতে পারে সেটা ১ দিন পরে অথবা ১ যুগ পরে।

তাই অন্যের সমস্যা, দুঃখ বা কষ্টকে অবজ্ঞা না করে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তার সমস্যা সমাধান করাই শ্রেয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×