somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অভ্র নীল ১
এটাই আমি,এখানেই আমি। যে ছেলেটা নির্লিপ্ত হাসি দিয়ে জীবন দেখে। শুকনো খড়ের মাঝে জীবন না খুজে,দ্বীধাহীন,স্বপ্নহীন,রাস্তায় হাঁটে ধুলো উড়িয়ে। সেটাই আমি,আমার মধ্যে আমি স্বতন্ত্র জীবন যাপন করে থাকি -অভ্র নীল

★★★গরীবের অপরাধ ও একটি ক্ষমার বাস্তব গল্প★★★

০৩ রা জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠাশ!!!
খুব জোরে চড়ের শব্দে আমরা সেদিকে তাকিয়ে পড়লাম।দেখলাম এক যুবক একজন বৃদ্ধ রিক্সা চালকের ছেড়া শার্টের কলার চেপে ধরে আছে। যুবকের আনুমানিক বয়স ২৮ হবে। তার সাথে আলট্রা মর্ডান এক মেয়ে আছে।
ধারনা করা যায় মেয়েটি তার গার্লফ্রেন্ড!
.
বৃদ্ধ লোকটি কলার ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না,উল্টো সেই যুবক কিল ঘুসি মারা শুরু করলো।আমরা দৌড়ে কাছে যেতে যেতে বৃদ্ধর নাক ঠোট ফেটে ব্লিডিং শুরু হয়ে গিয়েছে।সাদা দাড়ি রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে।
কাছে গিয়ে আমি বৃদ্ধ রিক্সাচালককে জাপটে ধরে যুবকের কাছ থেকে সরিয়ে আনলাম এবং বন্ধু যুবককে ঠিক এভাবেই সরিয়ে নিলো।
বন্ধু যুবককে জিজ্ঞেস করলো,
--"ভাই কি হয়েছে? উনাকে মারছেন কেন?"
যুবক বললো,
--"আরে ভাই! বইলেন না! আমি আমার গার্লফ্রেন্ড রে নিয়ে রাস্তার পাশে বাইকের উপর বসে ছিলাম আর ওই হালায় হুদাই আইসা রিক্সা বাইকের পিছে লাগাই দিলো! হালায় মনে হয় গাঞ্জা টাঞ্জা খাইয়া আইছে!"
আমি বৃদ্ধকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবো তখনি বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।পাশেই ফার্মেসিতে পাঁজাকোলা করে ধরে নিয়ে গেলাম।
.
কম্পাউন্ডার নাকে মুখে ব্যান্ডেজ করে চোখে মুখে পানি দিতে লাগলো।বৃদ্ধর শোয়া অবস্থায় জ্ঞান ফিরলো। তাকে আরেক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো,
--"কি চাচা! কি খাইছেন? আঠা না গাঞ্জা যে হুদা জায়গায় মাইরা দিলেন?"
বৃদ্ধ কিছু বলতে যাবে তখনি আবার ওই যুবক তেড়ে উঠে বললো,
--"তুমি যাই কও! আজ গাড়ি ঠিক না কইরা তোমারে যাইতে দিতাছি না! আমার নতুন গাড়ি!"
আমি যুবককে থামিয়ে দিয়ে বৃদ্ধকে বললাম,
--"চাচা! কি হয়ছিল? এভাবে ফাকা রাস্তায় মেরে দিলেন কেন?"
বৃদ্ধ উঠে বসতে গেল কিন্তু উঠতে তার মারাত্মক কষ্ট হচ্ছে দেখে তাকে ধরে বসিয়ে দিলাম।সে কাপা কাপা দুর্বল গলায় বললো,
--"বাজান! সেহেরীতে শুধু পানি খাইয়া রোজা আছিলাম তো! তাই এই শেষ বেলায় আইসা মাথাডা ঘুরান্টি দিলো! বিশ্বাস করেন বাজান! আমি কিন্তু খুব চেষ্টা করছিলাম কিন্তু আর শরীলের বলে কুলাইতে পারি নাই আর ওই বাপজানের নতুন গাড়িডাতে লাইগা গেলো!"
এটুকু বলে সে একটু থামলো!
জোরে জোরে নিশ্বাস নিলো!
তার কথা বলতে অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে!
দম টেনে টেনে আবার বলতে লাগলো,
--"আমি তো বাপজানের কাছে প্রত্তমেই মাফ চাইছিলাম! বলছিলাম ইচ্ছা কইরা করি নাই! ভুলে হইয়া গেসে! কিন্তু বাপজান আমার কথাই হুনলো না! শেষ বেলায় আইসা মাইরা রোজাডাই ভাইঙা দিলো!"
.
আমরা সবাই যুবকের দিকে তাকালাম।আমি দেখলাম সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে মেয়েটি নির্লিপ্ত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি যুবকের কাছে গিয়ে বললাম,
--"আপনার বাবা বেচে আছে?
--"হ্যা আছে!"
আমি রিক্সাআলাকে দেখিয়ে বললাম,
--"উনার থেকে বয়স বেশি না কম?"
--"কম"
--"উনার জায়গায় আপনার বাবা হলে কি করতেন? এভাবে মেরে নাক মুখ ফাটিয়ে দিতেন? "
যুবক মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
এই চুপচাপ মাথা নিচু করে থাকার মানে হল সে অনুতপ্ত! আমি আবার বললাম,
--"সাথে গার্লফ্রেন্ড আছে তাই একজনকে মেরে তার সামনে হিরো হলেন তাইতো?"
যুবকটি এবার আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে পড়লো। আমি আবার বললাম,
--"বুড়া মানুষটা নিজে ছোট হয়েও ভুল করার সাথে সাথে মাফ চাইলো আর আপনি হিরো হওয়ার জন্যে মেরে নাকমুখ ফাটিয়ে রোজাটা ভেঙে দিলেন!"
আমি দেখলাম যুবকের চোখ জ্বলে টলটল করছে। আমি আবার বললাম,
--"এভাবে একজন কে মেরে রক্তাক্ত করে হিরো হওয়া যায়না ভাই! আপনার বুকটাও কাঁপল না মুরুব্বির গায়ে হাত তোলার আগে? তাকাই দেখেন তো কি করছেন অবস্থা বৃদ্ধ মানুষটার!"
যুবকটি আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই দৌড়ে বৃদ্ধ রিক্সাচালকের পা চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
--"বাবা! আমার ভুল হয়ে গিয়েছে! আমারে মাফ করে দেন! আপনি মাফ না করলে আমারে আল্লাহও মাফ করবে না বাবা!।মাফ করে দেন বাবা!"
.
আমি এটুকু পর্যন্তই ছিলাম সেখানে।
তারপর সেখান থেকে আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে চলে আসি কারন আমি জানি বৃদ্ধ মানুষটি তারপর যুবকটির মাথায় হাত বুলিয়ে চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলবে,
--"আরে বাজান! কি করেন! মাফ কইরা দিসি তো! এহন উঠেন!"
বৃদ্ধ এত সহজে তার গুরুতর অপরাধ মাফ করে দিবে কারন বৃদ্ধ হল সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষ এবং সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষদের বড় লোকদের যেকোন গুরুতর অপরাধ হুট করে মাফ করে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে যা বড় লোকদের কাছ থেকে আশা করা আকাশ কুসুম কল্পনা........
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০১
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রোফাইল ফ্রেমের আগে: ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের ব্লগগুলি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:২২

বিশ বছর আগে, ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে সামহ্যয়ার ইন ব্লগে কী লেখা হচ্ছিল—এই প্রশ্নটি কেবল নস্টালজিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিসরের এক প্রাথমিক মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন।



আজ যখন আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×