
-ঐ যে ছেলেটা, তুমি দেখেছো ওকে। কালো করে, খুব মায়াবী চেহারা, ভালো লেখালিখি করে, লেখার ধরণটা বেশ অন্যরকম।
-বুঝতে পারছি না।
-ঐ যে, অদিতির বাসাতেও দেখেছো তুমি ওকে। বেশ কথাবার্তাও বলেছো তোমরা।
-বুঝেছি। ঐ মর্ম নামের ছেলেটা?
-হুম।
-ওকেই ভালোবাসতে তুমি?
-নাহ।
-তবে?
-এখনও বাসি, খুব। সবসময় বাসবো.... কী ব্যাপার? চুপ যে?
-তোমরা বিয়ে করলে না কেন? ও ভালোবাসতো না তোমাকে?
-আমি যতদূর জানি, এখনও বাসে।
-কোন ভুল বোঝাবুঝি? ছাড়াছাড়ি হলো কেন?
-সেটা তো জানি না।
-মানে? সে আবার কী কথা?
-হঠাৎ কেন যেন ওর মনে হলো একসাথে থাকার জন্য শুধু অফুরন্ত ভালোবাসাই যথেষ্ট না। কথা বলা বন্ধ করে দিলো। খেয়ালী মানুষ তো!
-শেষ?
-নাহ,দুদিন পর আবার কথা বলেছিল।এসেছিল, বললো, তোমাকে ভালোবাসি খুব।তোমাকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হবে। কিন্তু আমাদের একসাথে থাকা উচিত না। তুমি প্লিজ না কোরো না। ভালো থেকো!
এরপর আর দেখা হয়নি। তোমার আমার বিয়েতে হঠাৎ এসে হাজির! রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করার সময় দেখলাম ওকে।
-কেন এসেছিল?
-এমনি। আমার বরকে নাকি দেখার ইচ্ছে ছিল।
-আচ্ছা, ও যা বললো, ওর চলে যাওয়ার পেছনে কী এর বাইরে কোন কারণ আছে?
-না, নেই। ও কখনোই আমাকে পুরো কথা বলতো না, জানো। কিছুটা বলেই বলতো,অন্য একদিন বলবো। সেদিন বলেছিল, আজ তোমায় যা বলবো পুরোটা বলবো। ওর ফিলসফি খুব অদ্ভুত, ওর চলে যাওয়ার পেছনে আর কোন কারণ নেই।
-খারাপ লাগেনি তোমার?
-তা তো লাগেই। ও তো শুধু আমার প্রেমিক না, ও আমার নেশা। ওর সাথে কথা বলা, রাগ করা, গায়ে গা ঘেঁষে বসা, সবকিছুই আমার নেশা। চেইন স্মোকারদের সিগারেট খেতে না দিলে তাদের যতটা খারাপ লাগে, আমার তারচেয়েও অনেকগুণ বেশি খারাপ লাগে।
-তুমি কী আমাকে ভালোবাসতে পারবে না?
-দেখো, তোমাকে আমি বিয়ে করেছি, কিন্তু ওর জায়গাটা দিতে পারবোনা কখনো।
তুমি তোমার মতো, ও একদম আলাদা। ওর জায়গা আমার প্রতিটা অনুভূতিতে। ওর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়নি, হবেনা। আমার মন থেকে ওকে সরাতে চেওনা কখনো। প্লিজ!
-একটুখানি ভালোবাসবে? প্লিজ?
-তোমার মধ্যেও ওর ছায়া দেখতে পাচ্ছি! কী হলো বলতো!
-বাসবে না?
-ওর ভালোবাসার ভাগ দেবো না, নতুন করে ভালোবাসা জন্মায় কিনা, দেখা যাক!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



