somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুফাঁদ (রোমাঞ্চগল্প, দ্বিতীয়পর্ব)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'তাহলে,' ভাবল মেরি । 'আমি ওকে খুন করে ফেলেছি ।'

কীভাবে এত দ্রুত ওর মন পরিষ্কার হয়ে গেল তা এক আশ্চর্য ব্যাপার । দ্রুত চিন্তা করতে লাগলো ও । একজন ডিকেটটিভের বউ হিসেবে শাস্তি কী হবে জানা আছে তার । তাতে কিছু আসে যায় না, বরং সেটাকে একধরনের মুক্তি হিসেবেই দেখবে ও । কিন্তু পেটের বাচ্চাটার কী হবে ? খুনী মায়েদের না জন্মানো বাচ্চাদের সম্বন্ধে আইন কী বলেছে ? মা আর বাচ্চা দুটোই কী ঝুলবে ? না কি ওরা দশমাস অপেক্ষা করবে ? কী শাস্তি দেবে ওরা ?

মেরি ম্যালোনি জানে না । তবে কোন ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে না ও ।

ভেড়ার রানটা কিচেনে নিয়ে একটা প্যানে রেখে আভেনে রেখে তন্দুরের আঁচটা বাড়িয়ে দিল মেরি । তারপর হাত ধুয়ে উপরতলার বেডরুমে ছুটল ও । আয়নার সামনে বসে চুল ঠিক করলো, সামান্য মেক আপ ছোঁয়াল । একবার হাসার চেষ্টা করে দেখল, অদ্ভুত দেখাচ্ছে । আবার হাসল ও ।

'হ্যালো স্যাম,' হাসিখুশি গলায় জোরে জোরে বলল ও ।

গলাটাও অদ্ভুত শোনাচ্ছে ।

'কিছু আলু দরকার আমার । হ্যাঁ, একক্যান মটরশুঁটিও চাই ।'

এবার হাসি আর গলার আওয়াজ দুটো ই ভাল আসছে । দুয়েকবার রিহার্সাল দিয়ে এক দৌড়ে নীচে নেমে কোটটা গায়ে দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাগান পার হয়ে হয়ে রাস্তায় নামল মেরি ।

এখন প্রায় ছয়টা বাজে । গ্রোসারি শপে এখনো আলো জ্বলছে ।

'হ্যালো স্যাম,' হেসে কাউন্টারের পিছনের লোকটাকে ডাকলো মেরি ।

'গুড ইভনিং মিসেস ম্যালোনি, কী করতে পারি আপনার জন্য?'

'কিছু আলু দরকার আমার । হ্যাঁ, একক্যান মটরশুঁটিও চাই ।'

তাক থেকে মটরশুঁটি পাড়ার জন্য মেরির দিকে পিছনে ফিরল স্যাম ।

'প্যাট্রিক আজ বাইরে খাবে না ঠিক করেছে, আমরা সাধারনত বিষ্যুদবার দিন বাইরে কোথাও খেয়ে আসি,' জানাল মেরি । 'আর বাসায়ও কোন সব্জি নেই ।'

'তাহলে মাংস নিলে কেমন হয় মিসেস ম্যালোনি ?'

'নাহ, আমার ফ্রিজারে একটা আস্ত ভেড়ার রান আছে ।'

'আমি ফ্রোজেন মাংস রান্না করে দেখিনি কখনো স্যাম । আপনার মনে হয় সব ঠিক মত হবে ?'

'আমি মনে করি না,' বলল দোকানদার । 'এতে কিছু ফারাক বোঝা যাবে । আপনাকে আইডাহো আলু দেবো ?'

'চমৎকার । দুটো দিন ।'

'আর কিছু ?' মাথা একদিকে কাত করল স্যাম । 'খাবার পরে খাওয়ার জন্য কিছু লাগবে ?'

'আপনার সাজেশন কী স্যাম?'

'চিজকেকের একটা বড় স্লাইস নিলে কেমন হয়? আমি জানি ও এটা পছন্দ করে ।'

'পার্ফেক্ট,' বলল মেরি । 'ওর ভারী পছন্দ চিজকেক ।'

সবকিছু প্যাকেটে মোড়ানো হয়ে গেলে জিনিসের দাম দিয়ে সবচেয়ে মধুর হাসিটা উপহার দিল মেরি । 'থ্যাংকইউ স্যাম, গুডনাইট ।'

'গুডনাইট মিসেস ম্যালোনি, থ্যাংকইউ ।'

দ্রুত পায়ে ফিরে চলল মেরি, এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই চলছে । সে বাড়ি যাচ্ছে আর তার স্বামী রাতের কাবারের অপেক্ষায় আছে । সে রাতের খাবার খুব যত্ন নিয়ে রাঁধতে যাচ্ছে । এখন যদি সে বাড়ি ফিরে কোন অদ্ভুত বা ট্র্যাজিক কিছু দেখেতো সে শকে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হতেই পারে । আসলে এরকম কিছু যে ঘটবে সে জানেই না !

এইভাবেই করতে হবে গোটা ব্যাপারটা, মনে মনে বলল ও । সবকিছূ যেন স্বাভাবিক আর প্রাণবন্ত হয় । কোন অভিনয়ের দরকারই আর হবে না ।

তাই হাসতে হাসতে একটা গানের কলি যখন কিচেনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকলো মেরি ।

'প্যাট্রিক!' জোরে ডাকলো ও । 'প্যাট্রিক ডার্লিং! কোথায় তুমি ?'

ঠোঙ্গাটা টেবিলে রেখে লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে গেল ও । ওখানেই পড়ে আছে প্যাট্রিক, পা গুলো বাঁকা হয়ে আছে, আর একটা হাত চাপা পড়েছে শরীরের নীচে । দৃশ্যটা দেখে সত্যিই শক পেল মেরি । সমস্ত পুরনো প্রেম আর স্মৃতি উথলে উঠছে তার । দৌড়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে শুরু করলো ও । কোন অভিনয়ের দরকার হল না ।

কয়েক মিনিট পরে উঠে পুলিশ স্টেশনে ফোন করল ও । নাম্বার জানাই আছেই ওর, আরেক প্রান্তের লোকটা ধরতেই বলল মেরি, 'প্যাট্রিক মারা গেছে !'

'কে বলছেন?'

'ম্যালোনি, মিসেস প্যাট্রিক ম্যালোনি ।'

'আপনি বলতে চাইছেন প্যাট্রিক ম্যালোনি মারা গেছেন ।'

'আমার তাই মনে হয়,' ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল ও । 'মেঝের উপর পড়ে আছে ও ।' আমার ধারনা ও মারা গেছে ।'

'এক্ষুনি আসছি আমরা,' বলে ফোন কেটে দিল পুলিশ লোকটা ।

খুব দ্রুত চলে এল পুলিশের গাড়ি, যখন মেরি দরজা খুলল দুজন পুলিশ ঢুকল বাড়ির ভিতর । ওদেরকে চেনে মেরি, আসলে থানার প্রাব সবাইকেই চেনে সে । ধপাস করে একট আচেয়ারে বসে পড়ল ও । তারপর প্যাট্রিকের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা লোকটা, যার নাম ও'ম্যালি, পাশে গিয়ে দাঁড়াল ।

'ও কী মারা গেছে?' চিৎকার করে জানতে চাইল মেরি ।

'আমি দুঃখিত, ব্যাপার তাই । কী করে ঘটল এটা?'

অল্প কথায় মেরি জানালো কী ভাবে গ্রোসারের দোকান থেকে ফিরে এসে প্যাট্রিককে এইভাবে পড়ে থাকতে দেখেছে সে । ও যখন কাঁদছে, কথা বলছে কাঁদছে, নুনান নামে অন্য লোকটা মৃত লোকটার মাথার পিছনে জমাট বাঁধা রক্তের ছোপ দেখতে পেল । ও'ম্যালিকে দেখাতেই সে ফোনের দিকে এগিয়ে গেল ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:২০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×