somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুফাঁদ (রোমাঞ্চ গল্প, শেষ পর্ব)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খুব শিগগিরই আরো অনেক মানুষের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল বাসায় । প্রথমে একজন ডাক্তার এল, তারপর দুই ডিটেকটিভ, একজনকে মেরি নাম ধরে চেনে । তারপর এল একজন পুলিশের ফটোগ্রাফার আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ । অনেক ফিসফাস আলাপ হলো লাশের পাশে । গোয়েন্দারা সব প্রশ্ন করে চলল, যদিও মেরির প্রতি খুবই ভদ্র ব্যাবহার করছিল ওরা । পুরনো গল্পটা আবার বলল, প্যাট্রিক আসার সময় সেলাই করছিল ও, প্যাট্রিক ক্লান্ত ছিল, এত ক্লান্ত ছিল যে বাইরে যাবার শক্তিই ছিল না তার । মেরি তাই আভেনে মাংস চাপিয়ে দোকানে গেছিল সব্জি কিনতে । ফিরে এসে দেখে এই অবস্থা ।

কোন দোকানে? দুই ডিটেকটিভের একজনের প্রশ্ন ।

বলল মেরি । শুনে সে আরেক গোয়েন্দার কানে কানে কী যেন বলতেই সে ঘর ছেড়ে বাইরে গেল । পনেরো মিনিট পরে সে ফিরে এল এক তাড়া নোট নিয়ে । ফোঁপানির মধ্যেই মেরি ডিটেকটিভদের ফিসফাস শুনতে পেল '....একেবার স্বাভাবিক আচরণ করেছে....ভারী হাসি খুশি ছিল....ভাল একটা কিছু রান্নার চেষ্টায় ছিল...চিজকেক, মটরশুঁটি...না, এ অসম্ভব যে ও.... ।'

একটু পরে ফটোগ্রাফার আর ডাক্তার লোকটা চলে গেল । আরো দু'জন লোক এসে স্ট্রেচারে করে লাশটা নিয়ে গেল । তারপরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ওয়ালা চলে গেল । দুজন ডিটেকটিভ রয়ে গেল, আরো দুজন পুলিশ । জ্যাক নুনান খুব মোলায়েমভাবে জানতে চাইল রাতটা ও অন্য কোথাও থাকতে চায় কি না? ওর বোনের বাসায় বা দরকার হলে নুনানদের বাসাতেও সে থাকতে পারে ।

না, জানাল মেরি । এখন এক গজ নড়বারও ক্ষমতা নেই ওর । পরে যখন ভাল বোধ করবে, এখন সে একেবারেই ভাল বোধ করছে না ।

অতএব ওকে রেখে ওরা ওদের বাড়ি তল্লাশির কাজ চালিয়ে গেল । অনেকক্ষণ পরপর ডিটেকটিভরা ওকে এক আধটা প্রশ্ন করছে । জ্যাক নুনান এসে জানাল, ওদের ধারনা তার স্বামী মাথার পিছনে কোন ভারী ধাতব জিনিসের আঘাতে মারা গেছে । ওরা অস্ত্রটা খুঁজছে । হতে পারে খুনী লোকটা তার সঙ্গে করেই জিনিসটা নিয়ে কেটে পড়েছে । কিংবা হতে পারে সে জিনিসটা বাড়ির আশপাশেই ফেলে গেছ এবা লুকিয়ে রেখে গেছে ।

'এটা অনেক পুরনো গল্প,' বলল জ্যাক । 'অস্ত্র পেলেই অপরাধীর হদিস পাওয়া অনেক সহজ ।'

বেশ খানিকক্ষন পরে একজন ডিটেকটিভ এসে ওর পাশে এসে বসল । এমন কিছু আছ এবাড়িতে যেটা অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করা যায় ? মেটালের তৈরি ভেস? বড় কোন স্প্যানার?

না, জানাল মেরি । কোন মেটাল ভেস নেই ।

'কোন বড় স্প্যানার?'

তার মনে হয় না কোন বড় স্প্যানার আছে । কিন্তু ওদের গ্যারেজে থাকতে পারে ।

তল্লাশি চলল । বাড়ির চারপাশে বাগানেও খুঁজছে ওরা । পর্দার ফাঁক দিয়ে টর্চের আলো এসে পড়ছে । ন'টার দিকে মেরি ম্যান্টলপিসের উপর রাখা ঘড়িটার দিকে তাকাল । তল্লাশীদলও ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ।

'জ্যাক,' সার্জেন্ট নুনানকে বলল ও । 'আমাকে একটা ড্রিংক দেবে ?'

'শিওর, তুমি এই হুইস্কি খাবে ?'

'প্লিজ, ছোট একটা দাও । খেলে ভাল লাগবে আশা করি ।'

গ্লাস বাড়িয়ে ধরল নুনান ।

'তুমি নিজেও একটা নাও না কেন?' বলল মেরি । 'তুমি নিশ্চয়ই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছ । তোমরা সবাই আমার সাথে খুব ভাল ব্যাবহার করেছো আজ ।'

'এটা নিয়মে নেই,' বলল জ্যাক । 'তবে একটু নিতে পারি ক্লান্তি দূর করার জন্য ।'

একেক করে সবাই এল । তাদেরকে এক চুমুক করে হুইস্কি পান করতে রাজী করানো গেল । গ্লাসহাতে সবাই আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িবে রইল । ওকে কী বলে স্বান্তনা দেবে বুঝতে পারছে না কেউ । কী ভেবে সার্জেন্ট নুনান কিচেনে ঢুকল । 'মিসেস ম্যালোনি, আভেনটা এখনো চালু আছে । ভিতরে মাংস সহ ।'

'কী সাংঘাতিক!' বলে উঠল মেরি ।

'আমি এটা বন্ধ করে দেই ?'

'তাই করো জ্যাক, ধন্যবাদ ।'

দ্বিতীয়বার সার্জেন্ট আসতেই বড় বড় পানিভরা চোখে ওর দিকে তাকিয়ে মেরি বলল । 'তোমরা আমার একটা উপকার করতে পারবে ।'

'আমরা নিশ্চয়ই চেষ্টা করে দেখব ।'

'তোমরা সবাই প্যাট্রিকের বন্ধু, প্যাট্রিকের খুনীকে বের করার যথাসাধ্য চেষ্টা করছো । তোমাদের নিশ্চয়ই ভীষণ খিদে পেয়েছে এত দেরী হওয়াতে । প্যাট্রিকের আত্মা, তার উপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ বর্ষিত হোক, আমাকে ক্ষমা করবে না যদি তোমাদের আমি না খেয়ে যেতে দেই । তোমরা আভেনে রান্না মাংসটা খেয়ে ফেল ।'

'তা হতেই পারে না !' বলল সার্জেন্ট নুনান ।

'প্লিজ, ' অনুরোধ করল মেরি ম্যালোন । 'প্লিজ ওটা খেয়ে ফেল । আমি একন কিছুই মুখে তুলতে পারবো না । খেয়ে তারপর তোমরা তোমাদের কাজে যাও ।'

বেশ কিছুক্ষণ ইতস্ততঃ করল চার পুলিশ । কিন্তু ওদের পেটে খিদের আগুন জ্বলছিল নিঃসন্দেহে । শেষ পর্যন্ত ওদের কিচেনে পাঠাতে রাজি করাতে পারল মেরি । চেয়ারে বসে থেকেই ওদের কথা শুনতে পাচ্ছে ও । মুখভর্তি খাবার থাকায় কথা জড়িয়ে যাচ্ছে ওদের ।

'আরো নাও চার্লি?'

'না, আর নেয়া ঠিক হবে না ।'

'আরে ও আমাদের এটা শেষ করতে বলেছে । আমরা একটা উপকার করছি মেয়েটার ।'

'ঠিক আছে । আরেকটু দাও তাইলে ।'

'বেচারা প্যাট্রিকে রমাথায় নিশ্চয়ই একটা বিরাট সাইজের লাঠি পড়েছিল । ডাক্তার বলেছে, ওর খুলি এমনভাবে গুঁড়িয়ে গেছে যেন কামারের পেল্লাই মুগুর পড়েছে মাথায় ।'

'সেজন্যই এটা খুঁজে পাওয়া সহজ হবে ।'

'আমিও তাই বলি ।'

'যেই এটা করে থাকুক, নিশ্চয়ই সে অস্ত্রটা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে না ।'

ওদের একজন ঢেঁকুর তুলল ।

'আমার মনে হয় এটা এই বাড়িতেই আছে ।'

'হতে পারে আমাদের নাকের ডগাতেই আছে । কী বল জ্যাক ?'

পাশের ঘর থেকে মেরি ম্যালোনি খিলখিল করে হাসতে শুরু করল

শেষঃ-

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×