somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবচেয়ে বিপজ্জনক শিকার (ধারাবাহিক রোমাঞ্চ গল্প, পঞ্চম পর্ব)

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিছানাটা চমৎকার । সিল্কের পাজামাটা দারুন নরম এবং শরীরের প্রত্যেকটি লোমকুপ ক্লান্ত থাকলেও রেইন্সফোর্ডের চোখে ঘুম এলো না । চোখ খোলা রেখে শুয়ে রইলো ও । একবার মনে হল বাইরের করিডরে পা টিপে টিপে কে হাঁটছে ।

দরজা খোলার চেষ্টা করত গিয়ে দেখলো দরজা খুলছে না । জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকালো ও । ওর কামরাটা একটা উঁচু টাওয়ারের মধ্যে । দুর্গ-প্রাসাদের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু হালকা আলোর পরশ বোলাচ্ছে এক ফালি চাঁদ । চাঁদের আলোয় উঠানটা অস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, সেখানে আবছা কিছু নিঃশব্দ কালো ছায়ামুর্তি নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে ।

জানালায় ওর আওয়াজ পেয়ে উপর দিকে সবুজ চোখে চাইল হাউন্ডগুলো । বিছানায় ফিরে গিয়ে নিজেকে ঘুম পাড়ানোর সমস্ত কৌশল ব্যাবহার করে সে সকালের দিকে হালকা তন্দ্রামত এনেছে, এমন সময় দূরের জঙ্গল থেকে একটা পিস্তলের গুলির শব্দ পেল রেইন্সফোর্ড ।

লাঞ্চেরর আগে জেনারেল জারফের দেখা মিলল । ইংরেজ জমিদারের মতন নিঁখুত টুইডের পোশাকে আপাদমস্তক সজ্জিত তিনি । রেইন্সফোর্ডের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে আন্তরিকভাবে জানতে চাইলেন তিনি ।

'আমার কথা যদি জিগ্যেস করেন,' দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন জেনারেল । 'আমি ভাল বোধ করছি না । গতরাতে আমি আমার পুরনো সমস্যাটার জেগে উঠল ।'

রেইন্সফোর্ডের জিজ্ঞাসু দৃষ্টির উত্তর দিলেন জেনারেল । 'একঘেয়েমী, বিরক্তি ।'

দ্বিতীয়বারের মত ক্রেপ সুজেত প্লেটে তুলে ব্যাখ্যা করলেন জেনারেল : 'গতরাতের শিকার মোটেই ভাল হয়নি । সে লোকের মাথা একেবারে গুবলেট হয়ে গেছিলো । একদম নাক বরাবর সোজা সামনের দিকে এগিয়ে গেছে সে বনের মধ্যে দিয়ে, সেটা অনুসরণ করতে আমার কোন সমস্যাই হয় নি । নাবিকদের নিয়ে এই সমস্যা; তাদের মাথা এত মোটা যে জঙ্গলে কীভাবে চলতে হবে সেটাই ওরা জানে না । ওরা ভীষণ স্টুপিডের মতন কাজ করে যেটা চট করে ধরে ফেলা যায় । ভীষণ বিরক্তিকর সেটা সহ্য করা । আরেক গ্লাস শাবলি নেবেন মি. রেইন্সফোর্ড ?'

'জেনারেল,' দৃঢ় গলায় বলল রেইন্সফোর্ড । 'আমি এই দ্বীপ থেকে এখনই চলে যেতে চাই ।'

ঘন ভুঁরুজোড়া যেভাবে উপরে উঠে এল যে বোঝাই গেল মনে আঘাত পেয়েছেন জেনারেল । 'কিন্তু বন্ধু!' প্রতিবাদ শুরু করলেন তিনি । 'আপনি কেবল এসেছেন এখানে, কোন শিকারই করলেন না--'

'আমি আজই চলে যেতে চাই ।' রেইন্সফোর্ড দেখল কালো চোখজোড়া তার উপর স্থির হয়ে আছে, মাপ নিচ্ছে তার । হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে উঠলেন জেনারেল ।

ধুলো পড়া একটা বোতল থেকে রেইন্সফোর্ডের গ্লাসে শাবলি ঢেলে দিলেন তিনি ।

'আজ রাতে,' বললেন তিনি । 'শিকারে যাবো আমরা---আপনি আর আমি ।'

'না,' মাথা নাড়ল রেইন্সফোর্ড । 'আপনি শিকার করব না ।'

আলতোভাবে কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে হটহাউজে জন্মানো একটা আঙ্গুরে যত্নের সাথে কামড় দিলেন জেনারেল । 'আপনি যা ভাল মনে করেন বন্ধু, তাই করবেন আপনি । আপনার কী মনে হয় না, আমার সাথে খেলা ইভানের হাতে পড়ার থেকে ভাল ?'

মস্ত বুকের উপর আড়াআড়িভাবে হাত রেখে ভুঁরু কুঁচকে ঘরের কোনার দিকে দাঁড়িয়ে থাকা দৈত্যটার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন তিনি ।

'আপনি বলতে চাইছেন--' চিৎকার করল রেইন্সফোর্ড ।

'প্রিয় বন্ধু,' বললেন জেনারেল । 'আমি কী আপনাকে আগেই বলিনি, আমি শিকারের ব্যাপারে যা মনে করি তাই বলি ? এটা সত্যি দারুন হবে । এতদিনে আমি আমার সাথে লড়ার যোগ্য একজন প্রতিদ্বন্দ্বী পেলাম !' হাতের গ্লাসটা উঁচু করলেন জেনারেল ।

'আসলে আপনি দারুন মজা পাবেন এতে,' উৎসাহের সাথে বললেন জেনারেল । 'আপনার ব্রেনটা আমার ব্রেনের বিপক্ষে । আপনার জঙ্গলের অভিজ্ঞতা আমার অভিজ্ঞতার সাথে লড়বে, আপনার স্ট্যামিনা আমার স্ট্যামিনার সাথে । একেবারে আউটডোর দাবাখেলা! আর বাজিটাও একেবারে ফেলনা না, কী বলেন ?'

'আর যদি আমি জিতি--' আরম্ভ করেছিল রেইন্সফোর্ড ।

'তৃতীয় দিনের মাঝরাত পর্যন্ত যদি আপনি আমার চোখকে ধুলো দিয়ে থাকতে পারেন তবে আমি খুশি মনে হার মেনে নেব,' বললেন জেনারেল জারফ । 'আমার পালতোলা জাহাজ আপনাকে মুল ভুখন্ডে, কোন বড় শহরের কাছে নামিয়ে দিয়ে আসবে,' এমনভাবে বললেন জেনারেল, যেন রেইন্সফোর্ড কী ভাবছে সেটা পড়তে পারছেন তিনি ।

'অবশ্যই আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন,' বললেন কসাক । 'একজন ভদ্রলোক এবং শিকারী হিসেবে আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনিও আমাকে পাল্টা কথা দেবেন যে আপনি, এই দ্বীপে আপনার ভ্রমন সম্বন্ধে আপনি কিছু বলবেন না ।'

'আমি সেরকম কোন কথা দিতে পারবো না,' বলল রেইন্সফোর্ড ।

'ওহ, সেক্ষেত্রে---কিন্তু এখন সেটা আলোচনা করছি কেন ?' বললেন জেনারেল । 'তিনদিন পরে এক বোতল ভোভ ক্লিকো শ্যাম্পেনের সাথে আমরা আলাপ করবো সেটা । যদি না--'

ওয়াইনে চুমুক দিলেন জেনারেল ।

তারপরেই চটপট কাজের কথা পারলেন তিনি । 'ইভান, আপনাকে শিকারের পোশাক, খাবার আর একটা চাকু দেবে,' রেইন্সফোর্ডকে জানালেন তিনি । 'আমি আপনাকে চামড়ার মোকাসিন জুতো পরার পরামর্শ দেই, কারন সেগুলো খুব অস্পষ্ট ছাপ রেখে যায় ।

আমার আরেকটা পরামর্শ হচ্ছে দ্বীপের দক্ষিনপুর্ব দিকের বড় জলাভুমিটা এড়িয়ে যাওয়া । আমরা ওটাকে মৃত্যু-জলা বলি, এখানে চোরাবালি আছে । একটা বোকা লোক ওদিকের রাস্তা বেছে নিয়েছিল । দুঃখের বিষয়ে হচ্ছে যে ল্যাজার
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৫৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×