somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 32)

১০ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়ার্ল্ড ট্যুরটা অত্যন্ত সফল ভাবে হলো । আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, সিংহল, দক্ষিন আফ্রিকা যেখানেই গেছেন অত্যন্ত উচ্ছসিত সমাদর পেয়েছেন তিনি সমস্ত মানুষের কাছ থেকে । কলকাতা সম্বন্ধে তাঁর মন্তব্য 'এখানকার গরমে একটা পিতলের নব ও গলে যাবে (!) '

কিন্তু গড়ের মাঠে অক্টারলোনি মনুমেন্ট তাঁকে দারুন আকর্ষণ করেছিল । এই সম্স্ত ভ্রমনের উপর তিনি 'চেজিং দ্যা ইকুয়েটর' বইটা লিখতে শুরু করে ভাবলেন, এবার সব ধার দেনা শোধ দিয়ে আবার নতুন করে শুরু করা যাবে সব ।

টাকা পয়সা যা পাচ্ছিলেন সব রজার্স কে পাঠাচ্ছিলেন, টাকার অংকটা এতোই বড় হচ্ছিলো যে মার্ক টোয়েন ভাবছিলেন এতো দিনে দেনাদারের করাল গ্রাস থেকে তিনি মুক্তি পাবেন, পৃথিবীতে তিনি মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন । যখন দক্ষিন আফ্রিকা থেকে জাহাজে উঠলেন ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে তখন খুব ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন টোয়েন । প্রায় এক বছরের সফর শেষ পর্যায়, আমেরিকাতে সুজি আর জিনকে টেলিগ্রাম করা হলো তারা যেন লন্ডনে এসে শীতকালটা কাটিয়ে যায় ।

জুনের শেষ দিন মার্ক টোয়েনের জাহাজ এসে ইংল্যান্ডে পৌঁছাল । সুজি আর জিন তাদের পরিচারিকা ক্যাটি লিয়ারিকে নিয়ে অগাস্টের বারো তারিখে পৌঁছানোর কথা । বারো তারিখে সুজি এলো না, এলো একটা চিঠি । চিঠিতে লেখা, সুজির শরীর জাহাজে চড়ার মতো ভাল নেই, সুজি পরে আসবে । লিভি ক্লিমেন্স, ক্লারাকে নিয়ে আমেরিকায় উদ্দেশ্যে জাহাজে চাপলেন । পনেরোই অগাস্ট মার্ক টোয়েন ডায়েরিতে লিখলেন, "That was the 15th of August, 1896. Three days later, when my wife and Clara were about half-way across the ocean, I was standing in our dining-room, thinking of nothing in particular, when a cablegram was put into my hand. It said, 'Susy was peacefully released today.'"

মার্ক টোয়েনের জীবনে যে কয়টা ট্র্যাজেডি ঘটেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটা হচ্ছে বিদেশে থাকার সময় বড় মেয়ে সুজি ক্লিমেন্সের মৃত্যু । প্রায় এক বছর মেয়েকে দেখেন নি তিনি, এবং আর কোনো দিন দেখার উপায় রইলো না ।

কোয়্যারি ফার্মে ভালই ছিল সুজি । মাঝখানে সে হার্টফোর্ডে বেড়াতে এসেছিল জর্জ ডাডলি ওয়ার্নারের বাড়িতে । সেখানেই অসুখ বাঁধিয়ে ফেলে সে । কয়েকদিন পরে বোঝা যায় রোগটা ছিল মেনিনজাইটিস । সেই 1896 সালে অ্যান্টিবায়োটিক ছিল না যে এর চিকিৎসা করা যাবে । অনেক দিন আগে মারা যাওয়া ছোট্ট ভাইটার পাশে কবর দেয়া হলো তাকে । সুদূর অস্ট্রেলিয়াতে দেখা একটা কবরের ফলকে রবার্ট রিচার্ডসনের এই কয়টা লাইন লেখা হলো,

Warm summer sun, shine kindly here;
Warm southern wind, blow softly here;
Green sod above, lie light, lie light!--
Good night, dear heart, good night, good night.


ক্লারা আর জিনকে নিয়ে লিভি ক্লিমেন্স লন্ডনে ফিরে এলেন এবং শোকগ্রস্ত পরিবার লন্ডনে টেডওয়ার্থে একেবারে কাউকে না জানিয়ে বাস করতে লাগল । বাজারে এরকম গুজব শোনা যাচ্ছিল মার্ক টোয়েনের পারিবার তাঁকে ত্যাগ করেছে এবং প্রৌঢ়, অসুস্থ টোয়েন ঋণ শোধের জন্য প্রাণপাত পরিশ্রম করে চলেছেন । আরেকটা বিদঘুটে গুজব ছিল মার্ক টোয়েন মারা গেছেন । আসলে লন্ডনে অল্প কিছু শুভানুধ্যায়ী কেবল জানতেন মার্ক টোয়েন কোথায় আছেন । একজন ছিলেন স্যামের দূরসম্পর্কীয় জ্ঞাতি ভাই ড. জেমস ক্লিমেন্স ।

একজন রিপোর্টার গোয়েন্দার মত খুঁজে বের করে ফেলল মার্ক টোয়েনের ডেরা । গৃহকর্তা সরাসরি জিগ্যেস করল বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর কী বলার আছে?

টেনে টেনে (আর সব দক্ষিনীদের মতোই টেনে কথা বলতেন মার্ক টোয়েন) কিছুটা নাকী গলায় মন্তব্য করলেন মার্ক টোয়েন, 'আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার মৃত্যুর খবরটা খানিকটা অতিরঞ্জিত ।'

আসলে হিউমার ছিল ক্লিমেন্সের মজ্জাগত । আসলে লেখক হিসেবে যতটা না খ্যাত ছিলেন প্রায় ততটাই লোকে তাঁকে চেনে মজাদার কথা বলার জন্য । ইন্টারনেটে 'মার্ক টোয়েন কোটেশন' ঘাঁটলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১২:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×