somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই বিঘা জমি

২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই
আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, "বুঝেছ উপেন?
এ জমি লইব কিনে।

কহিলাম আমি,
"তুমি ভূসামী,ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখে মোর আছে বড়ো-জোর
মরিবার মতো ঠিঁই।

শুনি রাজা কহে, "বাপু, জানো তো হে,
করেছি বাগান খানা,
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা-
ওটা দিতে হবে।

কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজলচক্ষে, "করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি !

সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ
সে মাটি সোনার বাড়া !
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে
এমনি লক্ষীছড়া !

আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে;
কহিলেন শেষে ক্রুর হাসি হেসে,
" সে দেখা যাবে ।
পরে মাস-দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে
বাহির হইনু পথে-
করিল ডিক্রি সকলি বিক্রি
মিথ্যা দেনার খতে।

এ জগতে হায়, সেই বেশি চায়
আছে যার ভূরি ভূরি !
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি ।

মনে ভাবিলান,
মোরে ভগবান রাখিবেনা মোহগর্তে ।
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে ।

সন্নসীবেসে ফিরি দেশে দেশে
হইয়া সাধুর শিষ্য -
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য !
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে
যখন যেখানে ভ্রমি,
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে
সেই দুই বিঘা জমি ।

হাটে মাঠে বাটে
এই মত কাটে বছর পনের-ষোলো,
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হল ।
নমোনমো নম: সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি-
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি ।
অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধূলি-

ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়
ছোট ছোট গ্রামগুলি ।
পল্লবঘন আম্রকানন রাখালের খেলাগেহ-
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল,
নিশীথশীতল স্নেহ ।
বুকভরা মধু,বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে
"মা বলিতে প্রাণ করে আনচান,
চোখে আসে জল ভরে ।

দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে,
কুমোরের বাড়ি দক্ষিনে ছাড়ি রথতলা করি বামে
রাখি হাটখোলা ,নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে
আমার বাড়ির কাছে ।
ধিক্‌ ধিক্‌ ওরে, শত ধিক্‌ তোরে,
নিলাজ কুলটা ভূমি !
যখনি যহার তখনি তাহার- এই কি জননী তুমি !

সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্রমাতা
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া
ফলফুল শাক-পাতা !
আজ কোন্‌ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ
বিলাসবেশ
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা ,পুস্পে খচিত কেশ !
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা
সুখহীন,
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন !
ধনীর আদরে গরব না ধরে! এতই হয়েছ ভিন্ন -
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ
সেদিনের কোনো চিহ্ন !

কল্যানময়ী ছিলে তুমি,এয়ী ক্ষুধারা সুধারাশি ।
যত হাসো আজ যত করো সাজ ছিলে দেবী-
হলে দাসী ।
বিদীর্ণ-হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া
চারি দিকে চেয়ে দেখি;
প্রাচীর কাছে এখনো যে আছে,
সেই আম ঘাছ ,একি!

বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যাথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে -বালক কালের কথা ।
সেই মনে পড়ে জৈষ্ঠের ঝেড়ে রাএে নাহিক ঘুম
অতি ভোরে উঠি তাড়াতারি ছুটি
আম কুড়াবার ধুম;

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর , পাঠশালা -পলায়ন-
ভাবিলাম, হায়,
আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!

সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস
শাখা দুলাইয়া গেছে;
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল
আমার কোলের কাছে।

ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা
স্নেহের সে দানে বহু সন্মান বারেক ঠেকানু মাথা ।
হেনকালে হায় যমদূত-প্রায় কোথা হতে এল মালী
ঝূঁটি-বাঁধা উরে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি!
কহিলাম তবে,
"আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব-
দুটি ফল করি আধিকার , এত তারি কলোরব!
চিনিল না মোরে,
নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলি লাঠিগাছ;
বাবু ছিপ হাথে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ ।
শুনি বিবরন ক্রুধে তিনি কন,
"মারিয়া করিব খুন !
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগু ।
আমি কহিলাম,
"শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়।
বাবু কয় হেসে,
"বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয় ।
আমি শুনে, আখিঁজলে ভাসি,
এই ছিল মোর ঘটে!
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ , আমি আজ চোর বটে !
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×