যৌতুক প্রথা আমাদের বাংলাদেশের জাতীয়জীবনে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে । আমাদের নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর এই ঘৃণ্য প্রথাটি আমাদের সমাজের একেবারে গভীরে সহান করে নিয়েছে । এর কুফলে অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি নেমে আসে আমাদের নারীদের জীবনে । মুসলমান জাতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য গৌরবের কিছু নয় বরং অত্যন্ত কলংকজনক । এটা কনে পক্ষের উপড় অবশ্যই একটি বড় জুলুম । যাহার দ্্বারা মানবতা লাঞ্চিত হয় । এক জন ভাল পাত্রের সাথে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে সকল অভিভাবকের অন্তরে । ধন-সম্পদের লোভে অনেক পাত্র আসে , অনেকেই অযোগ্য মেয়েদেরকেও বরণ করে নিতেও দ্্বিধা করেনা । আমার এক আত্মীয়,আকর্ষনীয় চেহারার অধিকারি শফিক ভাই বিয়ে করেছেন একটি কালো এবং জন্মান্দ্ব লন্ডনি কন্যাকে । ইহাতে তাহার কোন দয়া বা মানবতা কাজ করেনি । বিয়ের বিনীময়ে স্বপ্নের শহর লন্ডনে সহায়ী ভাবে যেন থাকতে পারেন ;এই সার্থে । একজন গরীব , অভাব গ্রসহ পিতা মেয়েকে ভাল ঘরে বিয়ে দেওয়ার জন্য তাহার সামর্থ্যের বাইরেও যৌতুক দিতে প্রস্তুত । পবিত্র ইসলাম ধর্মে মেয়েদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়নি । অথচ আমরা এই ঘৃণ্য,অভিশপ্ত প্রথাকে পালন করে তাদের অধিকারকে ক্ষুন্ন করছি । ভাল ঘরে ভাল বরে বিয়ে দিতে হলে কিংবা কনের অযোগ্যতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন প্রচুর যৌতুক দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য । বিনা পরিশ্রমে বিপুল সম্পদ লাভ করার এই সুবর্ণসুযোগ কোন বরপক্ষই হারাতে চায়না । গত বৎসরের জুলাইতে আমার ছোঠ বোনকে বিয়ে দিয়েছি । ছেলে সৌদিআরবে ভাল চাকুরী করে । বাড়ীতে প্রচুর সম্পদ আছে । বংশ মর্যাদা, শিক্ষা-দীক্ষায় সব দিকেই উন্নত । কথা ছিল বিয়েতে কোন যৌতুক নিবেনা । শূধু ভাল একটি মেয়ে চায় । তাহারাই শেষে আবদার করে ছিল যে ''আমাদের প্রথম ছেলেকে বিয়ে করাচ্ছি , যৌতুক-ঠৌতুক আমরা নিচ্ছিনা;তাই বলে ঘরের আসবাব-পত্র যেমন, খাঠ,ফালং,চেয়ার,টেবিল,আলমিরা,সকেস ইত্যাদি না দিলে আপনাদের মেয়ে কেমনে থাকবে ....! তাছারা আমাদেরওতো সমাজে একটা মান-সম্মান আছে । প্রিয় পাঠকরা : কনে পক্ষের কাছ থেকে আবদার করে এই সমস্ত আদায় করে যদি মান-সম্মানের উন্নতি করতে হয় ; তাহলে আমাদের সমাজ কোথায় পৌছেছে ? একটু চিন্তা করূন তো । মুসলমান নর নারীর বিয়ের সময় একজন বরকে কনের সব দায়িত্য নিতে হয় । কনের কাপড়-ছোপর , গহনা থেকে নিয়ে কনের বাড়ী থেকে আগত সকল মেহমানদের আদর-অপ্যয়ন সব কিছু বরকেই বহন করতে হবে । এমনকি বরের সাজের পোষাক বা বর যাত্রিদের অপ্যয়ন ; কনেপক্ষের উপড় ছাপিয়ে দেওয়া যাবেনা । এটাই ইসলামের নিয়ম । আর এরূপ করলে অবশ্যই জুলুম করা হবে । মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালা দূনইয়ার সব গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন কিন্তু অন্যের উপড় জুলুম বা কারো হক নষ্ট করলে উক্ত গুনাহ তিনি ক্ষমা করবেননা । ভর্তমানে আমাদের এই আধূনিক , শিক্ষিত সমাজেও ''যৌতুক''কে অপরাধ হিসাবে গন্য করেনা । আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলে এই প্রথাটি খুবই ভয়াবহ । আমি মাঝে-মধ্যে সমাজ সচেতনতা মুলক দুই একটা লেখা পাঠাই । এ যুগে এসমস্ত লেখা হয়তো সকলের মনযোগ আকর্ষন নাও হতে পারে । কিন্তু বিবেকের তারনায় সকলের সামনে তূলে ধরতে চেষ্টা করি । এই সমস্ত বিদ্্ব্যা সকলেরই যতেষ্ট আছে । আমি শূধু স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি মাত্র । যৌতুকের বিরোদ্্ব্যে সকলকে যে যার স্বাধ্য মত এগিয়ে আসা উচিৎ নয় কি ? যদি আপনি অবিবাহিত হন তাহলে এখনই যৌতুক ছারা বিয়ে করার পন করুন । দেখবেন ; আপনার আত্ম সম্মান বাড়বে, স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে ।আর যাহারা বিবাহিত তাদেরকে বলব যে , আপনি ছেলেপক্ষের একজন অভিভাবক,আল্লাহর কাছে সকলের জবাবদিহী আপনাকেই করতে হবে । তাই আপনার ভূমিকাই অত্যন্ত প্রয়োজন । আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্তানে থেকে যৌতুকের বিরোদ্্বে আন্দোলন গড়ে তূলি । মনে রাখবেন এই সমস্ত মেয়েরা শূধু কনেদায় গ্রসহ পিতার কন্যা নয় । তাহারা আমাদেরই মেয়ে,বোন,ভাগিনী,খালা,ফুফু ইত্যাদি । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের দেশ থেকে এই যৌতুক নামক কালো প্রথাটি দূর করে মানূষে মানূষে ভালোবাসার বন্দন সৃষ্টি করে দেন । আমীন ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




