somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''যৌতুক''অন্যের হক নষ্ট করারই নামান্তর

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যৌতুক প্রথা আমাদের বাংলাদেশের জাতীয়জীবনে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে । আমাদের নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর এই ঘৃণ্য প্রথাটি আমাদের সমাজের একেবারে গভীরে সহান করে নিয়েছে । এর কুফলে অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি নেমে আসে আমাদের নারীদের জীবনে । মুসলমান জাতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য গৌরবের কিছু নয় বরং অত্যন্ত কলংকজনক । এটা কনে পক্ষের উপড় অবশ্যই একটি বড় জুলুম । যাহার দ্্বারা মানবতা লাঞ্চিত হয় । এক জন ভাল পাত্রের সাথে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে সকল অভিভাবকের অন্তরে । ধন-সম্পদের লোভে অনেক পাত্র আসে , অনেকেই অযোগ্য মেয়েদেরকেও বরণ করে নিতেও দ্্বিধা করেনা । আমার এক আত্মীয়,আকর্ষনীয় চেহারার অধিকারি শফিক ভাই বিয়ে করেছেন একটি কালো এবং জন্মান্দ্ব লন্ডনি কন্যাকে । ইহাতে তাহার কোন দয়া বা মানবতা কাজ করেনি । বিয়ের বিনীময়ে স্বপ্নের শহর লন্ডনে সহায়ী ভাবে যেন থাকতে পারেন ;এই সার্থে । একজন গরীব , অভাব গ্রসহ পিতা মেয়েকে ভাল ঘরে বিয়ে দেওয়ার জন্য তাহার সামর্থ্যের বাইরেও যৌতুক দিতে প্রস্তুত । পবিত্র ইসলাম ধর্মে মেয়েদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়নি । অথচ আমরা এই ঘৃণ্য,অভিশপ্ত প্রথাকে পালন করে তাদের অধিকারকে ক্ষুন্ন করছি । ভাল ঘরে ভাল বরে বিয়ে দিতে হলে কিংবা কনের অযোগ্যতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন প্রচুর যৌতুক দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য । বিনা পরিশ্রমে বিপুল সম্পদ লাভ করার এই সুবর্ণসুযোগ কোন বরপক্ষই হারাতে চায়না । গত বৎসরের জুলাইতে আমার ছোঠ বোনকে বিয়ে দিয়েছি । ছেলে সৌদিআরবে ভাল চাকুরী করে । বাড়ীতে প্রচুর সম্পদ আছে । বংশ মর্যাদা, শিক্ষা-দীক্ষায় সব দিকেই উন্নত । কথা ছিল বিয়েতে কোন যৌতুক নিবেনা । শূধু ভাল একটি মেয়ে চায় । তাহারাই শেষে আবদার করে ছিল যে ''আমাদের প্রথম ছেলেকে বিয়ে করাচ্ছি , যৌতুক-ঠৌতুক আমরা নিচ্ছিনা;তাই বলে ঘরের আসবাব-পত্র যেমন, খাঠ,ফালং,চেয়ার,টেবিল,আলমিরা,সকেস ইত্যাদি না দিলে আপনাদের মেয়ে কেমনে থাকবে ....! তাছারা আমাদেরওতো সমাজে একটা মান-সম্মান আছে । প্রিয় পাঠকরা : কনে পক্ষের কাছ থেকে আবদার করে এই সমস্ত আদায় করে যদি মান-সম্মানের উন্নতি করতে হয় ; তাহলে আমাদের সমাজ কোথায় পৌছেছে ? একটু চিন্তা করূন তো । মুসলমান নর নারীর বিয়ের সময় একজন বরকে কনের সব দায়িত্য নিতে হয় । কনের কাপড়-ছোপর , গহনা থেকে নিয়ে কনের বাড়ী থেকে আগত সকল মেহমানদের আদর-অপ্যয়ন সব কিছু বরকেই বহন করতে হবে । এমনকি বরের সাজের পোষাক বা বর যাত্রিদের অপ্যয়ন ; কনেপক্ষের উপড় ছাপিয়ে দেওয়া যাবেনা । এটাই ইসলামের নিয়ম । আর এরূপ করলে অবশ্যই জুলুম করা হবে । মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালা দূনইয়ার সব গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন কিন্তু অন্যের উপড় জুলুম বা কারো হক নষ্ট করলে উক্ত গুনাহ তিনি ক্ষমা করবেননা । ভর্তমানে আমাদের এই আধূনিক , শিক্ষিত সমাজেও ''যৌতুক''কে অপরাধ হিসাবে গন্য করেনা । আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলে এই প্রথাটি খুবই ভয়াবহ । আমি মাঝে-মধ্যে সমাজ সচেতনতা মুলক দুই একটা লেখা পাঠাই । এ যুগে এসমস্ত লেখা হয়তো সকলের মনযোগ আকর্ষন নাও হতে পারে । কিন্তু বিবেকের তারনায় সকলের সামনে তূলে ধরতে চেষ্টা করি । এই সমস্ত বিদ্্ব্যা সকলেরই যতেষ্ট আছে । আমি শূধু স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি মাত্র । যৌতুকের বিরোদ্্ব্যে সকলকে যে যার স্বাধ্য মত এগিয়ে আসা উচিৎ নয় কি ? যদি আপনি অবিবাহিত হন তাহলে এখনই যৌতুক ছারা বিয়ে করার পন করুন । দেখবেন ; আপনার আত্ম সম্মান বাড়বে, স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে ।আর যাহারা বিবাহিত তাদেরকে বলব যে , আপনি ছেলেপক্ষের একজন অভিভাবক,আল্লাহর কাছে সকলের জবাবদিহী আপনাকেই করতে হবে । তাই আপনার ভূমিকাই অত্যন্ত প্রয়োজন । আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্তানে থেকে যৌতুকের বিরোদ্্বে আন্দোলন গড়ে তূলি । মনে রাখবেন এই সমস্ত মেয়েরা শূধু কনেদায় গ্রসহ পিতার কন্যা নয় । তাহারা আমাদেরই মেয়ে,বোন,ভাগিনী,খালা,ফুফু ইত্যাদি । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের দেশ থেকে এই যৌতুক নামক কালো প্রথাটি দূর করে মানূষে মানূষে ভালোবাসার বন্দন সৃষ্টি করে দেন । আমীন ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৩:৪৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×