আমি সরকারি চাকুরীজীবি । সমাজের উঁচু তলায় আমার উঠা-বসা, মাস শেষে মোঠা অংকের বেতন হাতে আসে । আমি গাড়ীতে চড়ে অফিসে যাই, শরীর দিয়ে ফারফিউমের গন্ধ বেরোয় । আর তুমি..... ? -'সামান্য মাছ বিক্রেতা, বাজারের গলিতে বসে সবজী বিক্রয় কর, তুমি সামান্য কুলি মজুর !'
আমাদের দেশের উচ্ছবিত্ত থেকে নিয়ে মধ্যবিত্ত মানুষরা এই সমস্ত শ্রমকে অমর্যাদাকর ও হানিজনক মনে করে । এমনকি সমাজের দরিদ্ররাও তাই ভেবে দুঃখ করে ।
অথচ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মর্যাদাশালী ব্যক্তিত্ব হজরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) বলেছেন, ''নিজ শ্রমে আয়কারী ব্যক্তি আল্লাহর বন্ধু ।''
শুধু তাই নয় তিনি নিজেও মেষ চড়িয়েছেন । হজরত আদম ( আঃ ) বস্ত্রবয়ন শিল্পের ও কৃষি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন । হজরত দাউদ ( আঃ ) কর্মকারের কাজ করতেন । হজরত নূহ ( আঃ ) সুত্রধরের কাজ করতেন । হজরত সোলাইমান ( আঃ ) প্রস্তুত করতেন থলে ও চাটাই । হজরত ইদরীস ( আঃ ) ছিলেন একজন দর্জি ।
পৃথিবীর অন্যান্য জাতি শ্রম সামর্থের উপর নির্ভর করে সৌভাগ্যের সোপানে উঠছে ; আর আমরা কায়িক শ্রমকে ঘৃণা করে দিন দিন দুর্গতি ও হীনতায় ডুবে যাচ্ছি ।
যতদিন না বাঙালিরা সকল প্রকার শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হবে ততদিন বাঙালির উন্নতির সম্ভবনা নেই ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



