
প্রেসক্লাব ওভারব্রিজের ধাপে শুয়ে আছে এক রুগ্ন-কৃশ বিড়াল ছানা,
লোহার পাতে মাথা নেতিয়ে। কতই বা বয়স হবে তার? বড়জোড়
তিন বা চার মাস। এরই মধ্যে চৌপাশের বিবর্ণতা ওকে পৃথক
করেছে শুদ্ধ পৃথিবী থেকে।
না, ওর হাতে আন্দোলনকারীর মতো
কোনো প্ল্যাকার্ড বা মাইক্রোফোন নেই।
মিছিলের ছায়াও ওর শরীরে নেই।
নেই চিৎকার করে প্রতিবাদ করার সক্ষমতা।
বলা যেতে পারে সাহসও নেই। সাহস থাকলে জন্ম থেকেই সে বিড়াল
হবে কেন, বাঘই তো হতে পারতো।
আমি বেশি সময় দেইনি। অফিসে কাজ আছে। সেখানে যেতে হবে।
আমি বিড়াল ছানাকে নাইকনের ১৮-৩৫ মিমি লেন্সে ধারণ করে
ভেতরে যাই, বাংলাদেশ সচিবালয়ে।
সে আমার পিছু নেয়।
আমি দ্রুত লয়ে হাঁটি, পিছনে বিড়াল।
আমি দৌড়াই, পিছনে বিড়াল। আমি দৌড়ে লিফটে, আঠারো তলায়।
সে আমার পিছনে।
আমি ঘরে ঢুকে দরোজা বন্ধ করি, জানালা বন্ধ করি।
আলো নিভে দেই। তারপর প্রসন্নমনে চেয়ারে বসি। এবার রক্ষা।
আমার বেজায় গান শোনার নেশা। কাজের ফাঁকে কানে হেডফোন
লাগিয়ে গান চালাই। গান বাজে। বিড়াল ছানা গান গায়।
আমি চিৎকার করি, থামো।
সে থেমে যায়।
কেবল একটি শব্দ থামে না, খুব কষ্টে শ্বাস নেওয়ার শব্দ।
এটি থামলে
বিড়ালটি আর বিড়াল থাকে না।
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




