somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গীদের আগেই এ রাস্ট্রের মৃতু্যদন্ড কার্যকর হতে হবে

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত 17 আগস্ট দেশব্যাপী একই দিনে 64 জেলায় বোমা ফেটেছিলো। তারপরের ঘটনা সবার জানা। একের পর এক নৃশংস বোমা হত্যাযজ্ঞ শুরু হলো। শুরু হয়েছিলো আরো অনেক আগেই। প্রথমে উদিচী, তারপর সিপিবির সমাবেশ, রমনা থেকে 17 আগস্ট এবং তার পরবতর্ী নতুন মাত্রা। আতঙ্ক, কাগুজে বাংলা ভাইদের জীবন্ত রুপে আত্মপ্রকাশ; সরকারের নির্লজ্জ বাগাড়ম্বর ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কথা বর্ননা করা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয়।
গত পরশুদিন নওগার আদালত 17 আগস্টের বোমাবাজির সাথে জড়িতদের বিচারের রায় ঘোষনা করেছে। সবার প্রত্যাশামাফিক যথাযথ শাস্তি জঙ্গীদের হয়েছে। মূল অভিযুক্তরা মৃতু্যদন্ডে দন্ডিত হয়েছে।
প্রত্রিকার পাতায় মৃতু্যদন্ডে দন্ডিতদের একজনের ছবির দিকে আমার চোখ গেল। বলা চলে রীতিমত গেথে গেল। ছেলেটির বয়স 18 বা 19। সর্বোচ্চ 20 বছর। অজানা অচেনা এই ছেলেটির দিকে তাকিয়েই আমি একটি জানা গল্প পেয়ে গেলাম। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বললে , ইহা একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প। যে গল্পের সত্যিকার কাঠামোটি দাড় করাতে কোন ইতিহাস জানার দরকার পড়েনা। সাধারণ বোধটুকু থাকলেই হয়।
একটি হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে হতে পারে শিশুকালেই পিতাকে হারিয়ে অথবা হতে পারে না হারিয়েই একটি জিবন্ত প্রানী তার জীবন যাত্রা শুরু করে। দারিদ্র আর পারিপাশ্বর্িক নিষ্ঠুরতা , চোখের সামনে চুড়ান্ত রকম ধনবৈষম্য দেখতে পাওয়ার জন্যে ঐ শিশুটিকে ম্যাজিক জানার দরকার পড়েনা। ঐ নিয়তি নিয়েই সে জন্মায়। ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার শিক্ষা সে পায়না। কিন্তু কুশিক্ষার কোন অভাব হয়না। এতিম হলে তো কথাই নেই। না হলেও সমস্যা নেই। কওমী মাদ্রাসায় তার শিক্ষা শুরু হয়।
বেড়ে উঠতে থাকে একটি শিশু। কিন্তু তার সৃজনশীল মন নিষ্ঠুরতম অবদমনের শিকার হয়। অত্যন্ত স্বাভাবিক চাহিদাগুলি থেকে যায় অপুরনীয়। অবদমিত ক্ষোভ থেকেই একটা ক্রুদ্ধ জন্তুও বেড়ে উঠতে থাকে তার পাশেপাশেই। ব্যস, আর কি দরকার। একটি জীবন্ত বোমা বানানোর জন্য আর কি চাই? তার গুরু হিসেবে যারা কাজ করে তাদের ইতহাসটাও একইরকমই। আর তাদেরকে যারা নাচায় পুতুলের মত তাদের সন্তানেরা কেউ মাদ্রাসায় পড়েনা। বিশ্বাস করুন আমার কথা। আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, এরকম একজনও পাওয়া যাবেনা। এদর সন্তানেরা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, তারপর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশের বাইরে। আর রাস্ট্র কি করে? ইসলামকে রাস্ট্র ধর্ম ঘোষনা করে, মাদ্রাসা শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিযোগিতা করে। আর আমরা নস্ট করি আমাদের সন্তানদের, যে একটি চমৎকার ভবিষ্যত নিয়ে বিকশিত হতে পারতো। এটার মধ্য দিয়ে আমরা বঞ্চিত হই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা থেকে। একটা 18/19 বছরের তাজা প্রাণ আত্মঘাতি হয়; জানতে ও পারেনা কেন সে মরে যায় এই অবেলায়। কেন তার মূল্যবান জীবন ব্যবহৃত হয় অন্যের জীবন হননে। যে বেঁচে যায় তার অনিবার্যতা হয়ে যায় ওাসি। ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায় তার এইপরিণতির জন্য আসলে যারা দায়ী ছিলো তারা। তাদের সন্তানেরা দেশের বাইরে পড়তে থাকে। তাদের পেট্রো ডলার বাড়তেই থাকে। আর রাস্ট্র কখনো কখনো হাতে তালি দেয়, কখনো ঘুমায় আর কখনো বা ন্যায় বিচার ন্যায় বিচার বলে জিগির তুলতে থাকে।

দুটো জিনিস, আসলেই মাত্র দুটো জিনিস এই অনিবার্যতা তৈরি করে। অভাব এবং কুশিক্ষা। সব শিশুকে একই ধারার একটা শিক্ষা কাঠামোয় আনার দায় রাস্ট্র নেয়না। কিন্তু যখন নিজে বিপদে পড়ে তখন ফাঁসি দিতে কার্পণ্য হয়না এতটুকু।
ভাত দেবা মুরোদ নাই
কিল মারার গোসাই।
জঙ্গীদের মৃতু্যদন্ডের আগেই যদি এ রাস্ট্রের মৃতু্যঘন্টা বাজানো না যায় তাহলে কি ন্যায় বিচার হয়? এতটুকুও ন্যায় বিচার!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×