এই লেখাটির শিরোনাম , ভাব এমনকি ভাষাও অধ্যাপক যতীন সরকারের। আমি শুধূ এটিকে উপস্থাপন করছি। বলা ভালো পুন:উপস্থাপন করছি।
শিরোনামের শব্দগুচ্ছ একটি সংস্কৃত শ্লোকের শেষাংশ। পু রো শ্লোকটি এরকম,
কাব্যেন দশনং হন্তি, কাব্যং গীতেন হন্যতি।
গীতঞ্চ স্ত্রীবিলাসেন সর্বং হন্তি বুভুক্ষুতা।
কোথাও দর্শনের আলোচনা হতে থাকলে যদি কবিতা পাঠ শুরু করে দেয়া হয় তবে দর্শন আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে। কারন কবিতা দর্শনকে হত্যা করে। (কাব্যেন দর্শনং হন্তি); আবার কাব্যচর্চাও বন্ধ হয়ে যায় গানবাজনা শুরু হলে; গান বাজনা কবিতার চেয়েও চিত্তচমৎকারী (কাব্যং গীতেন হন্যতে), নারীসঙ্গ পাওয়া গেলে গান বাজনাও শিকেয় ওঠে, গান বাজনার চেয়ে নারী সঙ্গের আকর্ষণ প্রবল (গীতঞ্চ স্ত্রীবিলাসেন); আর কাব্য, দর্শন, সঙ্গীতবিদ্যা, নারী বিলাস-সবকিছুর চেয়ে বড় পেটের ক্ষুধা, ক্ষুধার্ত মানুষকে এসবের কোনকিছুই আনন্দ দিতে পারেনা, পেটের ক্ষুধা সবকিছুকে নিহত করে। (সর্বং হন্তি বুভুক্ষুতা)।
সমপ্রতি সমাজতন্ত্র বিষয়ে ব্লগে তুমুল তর্ক হয়ে গেল। সমাজতন্ত্রেও সাফল্য- ব্যার্থতার সুলুক সন্ধানও হলো। বিতর্কে কে হারলো, কে জিতলো তা আমার আলোচনার বিষয় নয়। বিতর্কে হারাজেতায় কিছু আসে যায়ও না। সমাজতন্ত্র সংক্রান্ত যে কোন আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়ার প্রসঙ্গ চলে আসে।
রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র ব্যক্তি স্বাধীনতা দেয়নি, দলীয় একনায়কতন্ত্রের চাপে সমাজতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিলো, সংবাদপত্র থেকে শিল্পসংস্কৃতি পর্যন্ত কোনকিছুরই স্বাধীনতা ছিলোনা। এসব কথা পৃথিবীর মানুষ বহুদিন থেকে শুনে আসছিলো। এককালের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে হয়তো সেই সত্য কথাগুলোরই সত্যতা আমরা চোখে দেখলাম।
কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দেশে মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়, ভিক্ষে করতে হয় অথবা খাবার দোকান লুট করতে হয়,আত্মহত্যা করতে হয় কিংবা কুকুর বেড়ালের মাংস কিনে খেতে হয় এমন ধরণের কথা কোনদিন শুনিনি, এমন ঘটনা দেখিনি। সমাজতন্ত্র পরবতর্ী রাশিয়ায় সেটা আমাদের দেখতে হয়েছিলো। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিলোনা- একথা যদি মেনেও নিই, তবু সমাজতন্ত্রের পতনের পর ওসব দেশের মানুষ কি ধরণের ব্যক্তিস্বাধীনতা অর্জন করেছে তা আমাদের কাছে এখনো খুব একটা স্পষ্ট নয়। তবে তারা যে অনাহারের, আত্মহননের ও অভক্ষ-ভক্ষণের স্বাধীনতা পেয়েছেন তা খুব পরিস্কার ভাবেই আমরা দেখতে পেয়েছি। সমাজতন্ত্রে র আমলে তারা হয়তো তাদের দর্শনের-কাব্যের-সঙ্গীতের বা স্ত্রীবিলাসের ক্ষুধা মেটাতে পারেননি; কিন্তু পেটের ক্ষুধায় তাদের ভুগতে হয়েছে এমন কথা তাদের অতি বড় সমালোচকও বলতে পারেননি। সমাজতন্ত্রের শত্রু ও সমালোচকরা বরং একে উদরসর্বস্ব বলেই নিন্দা করেছেন। কবি ইকবাল সমাজতন্ত্রীদের সম্পর্কে স্পষ্ট করেই বলেছেন,-
তাহারা পেটের মধ্যে প্রাণের সন্ধান করে।
দেহ হতে বর্ণগন্ধ লয়না পবিত্র প্রাণ,
সমাজতন্ত্র পেট ভিন্ন অন্য ব্যাপার জানে না।
পেটভিন্ন অন্য ব্যাপারের হাতছানিতে সমাজতন্ত্রকে পরিত্যাগ করেছেন যারা, পেটের ক্ষুধাতো অন্য সবকিছু থেকেই এমনকি মানবিক জীবন থেকে তাদের দুরে সরিয়ে নিচ্ছে। এদের এমন অবস্থা দেখলে ইকবাল কি বলতেন? সমাজতন্ত্রের পতনে উল্লসিত হয়ে উঠতেন।
না, আমার তেমন মনে হয়না। সাম্রাজ্যবাদ কবলিত পরাধীন দেশের অংশ হিসেবে মহান ও সংবেদনশীল কবি ইকবাল পেটের ক্ষুধার পৈশাচিক রূপের সাথে অবশ্যই পরিচিত ছিলেন। মানুষকে মনুষ্যত্ব লাভ করতে হলে, একান্ত বাঞ্ছিত ইনসানে কামেল বা মোর্দে মোমেন হতে হলে , সর্বপ্রথম ক্ষুধা নামক পিশাচটির কবল থেকে মুক্ত হতে হবে, ইকবাল তা খুব ভালো করেই জানতেন। তাই যে সমাজতন্ত্রকে তিনি অভিযোগ করতেন পেটসর্বস্ব বলে , সেই সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা লেনিন কে তিনি শ্রদ্ধা না জানিয়ে পারেননি, কারণ লেনিন মানুষের ুক্ষুধা মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ুক্ষুধার্ত রাখে যারা, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে অগি্নগর্ভ লেনিনকে ইকবাল তার কবিতায় বিশ্বপ্রভু আল্লাহর মুখোমুখি দাড় করিয়েছিলেন। লেনিনের অভিযোগ আল্লাহ ফেরেশেতাদের ডাক দিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন, যে ক্ষেত থেকে কৃষাণের অন্ন জোটেনা তার প্রতিটি শস্যকণা পুড়িয়ে দিতে।
ফেরেশতারা ক্ষুধিতের অন্ন জোটানোর ব্যবস্থা করেছিলেন কিনা ইকবাল তা আমাদের জানাননি তবে লেনিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সে কাজটি সুনিপুণভাবেই সম্পন্ন করেছিলো। ধণতন্ত্রী দেশের কিছু মানুষও অবশ্য ক্ষুধা থেকে মুক্ত , শুধু মুক্ত নয়, ক্ষুধা নিবৃত্তির এতো উপকরণ তাদের সামনে জড়ো আছে যে তারা ক্ষুধামন্দায়, দুষ্টক্ষুধায় এবং বিকৃতক্ষুধায় আক্রান্ত। এদের অবস্থাটা ঠিক সুকান্ত ভট্টাচার্য়ের ' ভালো খাবার" কবিতার ধনপতি পালের মতো। রাজ্যে যার সূর্য অস্ত যায়না সেই ধনপতি পাল এটা খান, ওটা খান, সব লাগে বিদঘুটে। শেষ পর্যন্ত নায়েব যখন জানতে চাইলেন, কি সে খেতে উত্তম অতি , তখন ধনপতি বার কয় ফিকফিক হেসে বললেন: বলা ভারি শক্ত, সবচেয়ে ভালো খেতে গরীবের রক্ত'।
আসলে সারা দুনিয়ার গরীবের রক্ত চুষে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখেই যে ধনতন্ত্রী দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ ধনপতিদের ক্ষুধা মিটে থাকে, প্রাক্তন সমাজতন্ত্রী দেশের নবপ্রজন্মের মানুষদের সে সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলোনা।পেটের ক্ষ ুধার প্রকৃতিটা যে কি তাই তারা জানতো না। জানতো না বলেই সারা পৃথিবীর ধনতন্ত্রী রাষ্ট্র দিয়ে বেষ্টিত হয়ে থাকা দ্বীপের মতো সমাজতন্ত্রী দেশের অনেকের কাছেই চাকচিক্যভরা জীবনের আকর্ষন হয়ে উঠেছিলো দূর্বার। তথ্য সাম্রাজ্যবাদ সে দূর্বার আকর্ষন সৃষ্টিতে একটা বড়ো ভূমিকা রেখেছিলো।তাছাড়া সমাজতন্ত্র পেটের ক্ষুধাসহ জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদা পূরণে স্বল্প সময়ে যতোটা কৃতিত্ব দেখিয়েছিলো , জীবনের মান উন্নয়নে দীর্ঘ সময়েও ততোটা সাফল্য দেখাতে পারেনি, এ-কথাও ঠিক। এই না করতে পারার হাজারটা কারণ অবশ্যই ছিলো। সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের হাত থেকে অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনে জোর দেওয়ায় ভোগ্যদ্রব্যের ভান্ডারে টান পড়েছিলো। কারণটা যাই হোক না কেন কুফল টা ভোগ করতে হয় অগণিত মানুষকে। শাষকগোষ্ঠীর সাথে অবশিষ্টগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতা প্রকট হয়ে ওঠে, নতুন প্রজন্ম 'ওপারেতে স্বর্গসুখ বলে বিশ্বাস করে বসে। সে-বিশ্বাসই তাদেও ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্র বিরোধী অবস্থানে নিয়ে যায় এবং সমাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
কিন্তু এরপর, একনায়কের শাসন তো এখন নেই, এখন তো গণতন্ত্রের! জয়জয়কার চারিদিকে, ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্ত নেই, বিটলস-কৃষ্ণভক্ত কোনকিছু হতে কোন বাঁধা নেই, এখানে-ওখানে গজিয়ে উঠেছে সেক্স শপ, পর্নোগ্রাফির বাজারও নাকি জমজমাট, তাহলে অভাবটা কিসের, দুঃখটা কিসের?
অভাবটা অন্নের,দুঃখটা পেটের ক্ষুধার। ক্ষুধার যন্ত্রনা অন্যসব প্রাচুর্য অর্থহীন করে ফেলে, পেটের ক্ষুধার দুঃখ সকল সুখ ও আনন্দকে নিমেষে নিহত করে ফেলে। তাই যখন খুব গম্ভীর করে বলা হয়, মানুস কেবল অন্নে বাচেনা তখন সেই কেবল কথাটির মধ্যে একথাও নিহিত থাকেযে: অন্ন বা রুটি ছাড়া কোন মানুষই বেচে থাকতে পারেনা, সকল প্রাণীর মতো মানুষেরও বেচে থাকার জন্য খাদ্যবস্তু অপরিহার্য। বেচে থাকার মতো অন্নের সংস্থান হওয়ার পরই কেবল সে বাঁচাটাকে সুন্দর ও স্বার্থক করে তোলার জন্য মানুষ যৌনতৃপ্তি খোজে , সঙ্গীত-কবিতা-দর্শন চর্চা করে।
প্রাচীন ভারতীয় গুণীরা কোনো কিছুর চরম আনন্দকে বোঝানোর জন্য ব্রাক্ষ্মাস্বাদ সহোদর (ব্রক্ষ্মের আস্বাদের তুল্য) কথাটা ব্যবহার করতেন। সেই ব্রক্ষ্ম বিষয়টা কি?
ব্রক্ষ্মকে ঋষিরা যদিও অবাঙমনসগোচর বা বাক্য মনের অগোচর বলে উল্লেখ করেছেন, ব্রক্ষ্মের স্বরূপ বিশ্লেষনের ল েতারা অনেক বাক্যব্যয় করেছেন, অনেক কথা দিয়ে ব্রক্ষ্ম শব্দটির অর্থ বোঝাতে চেয়েছেন, তবু সবকিছুর আগে ব্রক্ষ্মের যে প্রাচীন অর্থ ঋষিদের কাছে ধরা পড়েছে, তা হচ্ছে অন্ন বা খাদ্যবস্তু। অর্থাৎ ব্রক্ষ্ম প্রথমে ক্ষুধিতের খাদ্য, তারপর অন্য কিছু। তাই বিংশ শতাব্দীতেও মহাত্মা গান্ধীকে বলতে শুনি' কোন ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে ঈশ্বরও এসে দাড়াবার সাহস পাবেন না যদি না তিনি রুটি বা খাদ্যবস্তুর বেশ ধরে আসেন।" উনিশ শতকে সন্যাসী বিবেকানন্দ তো ঘোষনাই করেছিলেন যে, যে-পর্যন্ত আমার দেশের একটি কুকুরও অভুক্ত থাকবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তাকে খাদ্য যোগানোই আমার ধর্ম, অন্য সবকিছু অধর্ম। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে রাজনৈতিক স্বাধীনতাও যে অর্থহীন , একথা বুঝেই বিপ্লবী কবি নজরুল বলেছিলেন, ' ক্ষুধিত শিশু চায়না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত একটু নুন।
তবুও একথা সত্য, কেবল দুটো ভাত আর একটু নুনই মানুষের চাওয়ার চরম চরিতার্থতা ঘটায় না। মনুষ্যত্বকে স্বার্থক করে তোলার জন্য তার অবশ্যই স্বরাজ চাই। সেই স্বরাজের কোন শেষ সীমান্ত নেই, নতুন নতুন স্বরাজ লাভ করে মানুষ তার বিকাশের নতুন দিগন্তকে খুজে নেয়।এমনি করেই পেটের ক্ষুধা মুক্ত সমাজতন্ত্রী দেশের মানুষদেরও স্বরাজের ক্ষ ুধাসহ অন্য সব ক্ষুধা জেগে উঠেছিলো, প্রচলিত সমাজতন্ত্রের কাঠামোতে ও গণবিচ্ছিন্ন শাসনের আওতায় সে-সব ক্ষুধা মিটছিলো না বলে উচ্চতর একটা সমাজ কাঠামোর তারা আকাঙ্ক্ষা করছিলো, নতুন ধরণের স্বরাজ চাইছিলো। কিন্তু এইখানে তারা আটকা পড়লো সাম্রাজ্যবাদীদের পাঁতা ফাদে। এতকাল প্রচলিত সমাজতন্ত্রী কাঠামোর বদলে তাদেও সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হলো বাজার অর্থনীতি নামের এক চকচকে রাঙা মুলো। সে মুলোর স্বাদ তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এখন। বাজার অর্থনীতির বেনামতেও প্রাক্তন সমাজতন্ত্রী দেশগুলোর প েক্ষ পূর্ণ ধনতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন যে অসম্ভব সেটা বোঝা যাচ্ছে এখন। সমাজতন্ত্র থেকে সরে আসার পর সে ক্ষ ুধার দৈত্যটিই সে-দেশের মানুষগুলির ওপর সাড়াশি আক্রমন করে বসেছে। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ক্ষুধা সমস্যার একটা গোজামিলের মতো সমাধাণ হয়তো করেছে গরীবের রক্ত চুষে, উপনিবেশবাদ-নয়া উপনিবেশবাদেও বিস্তার ঘটিয়ে। এরকম কোন আপাত: সমাধানের পথ পাওয়াও প্রাক্তন সমাজতন্ত্রী দেশ গুলোর প েক্ষ অসম্ভব। তাহলে?
হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই ক্ষুধাই তাদের চেতনা ও শক্তি যোগাবে। ক্ষুধাই তাদেও সাম্রাজ্যবাদীদের পাতা ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখাবে। ক্ষুধার আগুনে পুড়েই পুঁজিবাদীদের অসুস্থ দর্শন-কাব্য-সঙ্গীতের বিপরীতে সুস্থ দর্শন-কাব্য-সঙ্গীত কে চিনে নিতে পারবে তারা। সবকিছুর হত্যাকারী ক্ষুধাকে প্রতিহত করে দর্শন-কাব্য-সঙ্গীতের যথার্থ রসগ্রাহীও হতে পারবে। আর এ চোখ সাদা করার অভিযানে নেতৃত্ব দেবে ল্যাতিন আমেরিকা। তারা প্রস্তুত হয়ে উঠছে। কাউকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত না রেখে সকলের ক্ষুধা নিবৃত্তির পথে হেটেই সাম্যবাদী সমাজের দিকে এগিয়ে যাবো আমরাও। ক্ষুধার জোরেই বিজিত হবে জগতের সকল সুধা।
অতএব মাভৈঃ মাভৈঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
