পল হ্যাজ নো টাইম
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
অপরাজিত বন্দ্যোপাধ্যায়
পলের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে দুনিয়া তোলপাড়। স্বাভাবিক। অক্টোপাস পল হোক বা টিয়া মণি যেকোন মনুষ্যেতর প্রাণী হলে তা নিয়ে মানুষের একটা বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়। এবারেও তাই হয়েছে। ভবিষ্যৎ মিলিয়ে দেওয়ার পিছনে তেমন কোন যুক্তি কাজ করে না। তবে পলকে নিয়ে গোটা বিশ্বে যে দারুণ বেটিং চলেছে তা এককথায় বলা যায়। বিশ্বকাপে আট আটটি ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলে যাওয়ায় তাকে আবার ২০১২সালে ইউরোপিয়ান কাপের ভবিষ্যদ্বাণীতে নামানো হবে। তবে পল ইউরোপিয়ান কাপের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছে না এটা বাস্তব।
পলের বর্তমান বয়স ২বছর। তার জন্ম আনুমানিক ২০০৮সালের জানুয়ারি মাসে। সেই হিসাবে ২০১১সালের জানুয়ারিতে পলের বয়স ৩বছর। অক্টোপাসের সর্বাধিক আয়ু ৩বছর। তাই ২০১২সালে পলকে নিয়ে আর খেলাতে পারবেন না তার কোচ ভেরেনা। তখন জার্মানির ওবারহাউসেনের সি লাইফ সেন্টারে সেই ভিড় কী দেখা যাবে ? দেখা যাবে বড় বড় মুখ করে সেন্টারের মালিক অলিভার ওয়ালেন সিয়াকের পোড় খাওয়া বুদ্ধির সেই প্রয়োগ ? তবে পলের মতো আর এক পল যদি বাজারে এসে যায় তবে অন্য কথা।
পল আদপে একটা অক্টোপাস। অন্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মতো পলের কোন বর্ণ শনাক্তকরণের ক্ষমতা নেই। মানে বর্ণান্ধ। সবকিছুই তার কাছে সাদা কালো। আর অক্টোপাস খুব বুদ্ধিমান, অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে সেরা বলে যে প্রচার চলছে তারও কোন বিশ্বাসযোগ্য গবেষণালব্ধ ফল বাজারে নেই। বিশ্বের সব চিড়িয়াখানার জলজ প্রাণী বিশেষজ্ঞরাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা অক্টোপাসের নেই। কিন্তু তাদের বুদ্ধিমত্তা অসাধারণ। আমেরিকার স্মিথ সোনিয়ান্স ন্যাশানাল জু’র কিউরেটর অ্যালান পিটার্সের সঙ্গে একই কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া মিউজিয়ামের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডঃ মার্ক নরম্যান। সবাই মস্তিষ্ক দিয়ে বলার সময় ঠিক বলছেন। কিন্তু যখনই বলা হচ্ছে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে তখনই বিস্ময়কে বিজ্ঞান দিয়ে বিচার করতে না পেরে একাধিক অবৈজ্ঞানিক কথা বলছেন। যেমন মার্ক নরম্যান বলেই ফেলেছেন সামুদ্রিক প্রাণীদের তুচ্ছ করাটা চরম ভুল। তারা আকার চিনতে পারে। তাতে কী হলো। প্ল্যাস্টিক বাক্সের ভিতর পতাকা ভরে দিলে কী করে ঠিক করবে পল। সেতো রঙই বোঝে না। তার কাছে দুটি বাক্সই সমান। দুই সমান আকারে পতাকাই এক। এখানেই কেরামতি। স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিকের ঐ বাক্সের ভিতরে রয়েছে পলের প্রিয় ‘মোলাস্ক’। ঝিনুকের মাংস। টুকরো টুকরো করে মিশিয়ে রাখা ঐ মাংসের টানেই সারা রাত খালি পেটে থাকা পল বাক্সের ওপরে শুধু বসা নয়। বাক্সের ঢাকনা খুলতেও পাগল হয়ে উঠেছিল। একটি লম্বা লোহার রডের দুই পাশে একই দূরত্বে রাখা থাকতো দুই দেশের পতাকা বাক্সকে। পুরানো স্মৃতি ঘাঁটলে দেখবেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পল বাঁ’দিকে বাক্সের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। তৃতীয় স্থান নির্বাচনের সময় যখন ঝিনুকের মাংসের গন্ধ পেয়ে জার্মানির বাক্সে ঢুকেও পায় নি তখন উলটে উরুগুয়ের বাক্সের দিকে আঁকশি বাড়িয়েছিল।
অক্টোপাস বুদ্ধিমান প্রাণী। এটা ঠিক। তবে অমেরুদণ্ডী, গভীর সমুদ্রের প্রাণীভেদে যেটুকু হওয়া উচিত সেইটুকুই। তবে মাকড়শার মতো অক্টোপাসের মধ্যে পারস্পরিক হনন চলে। পরিভাষায় বলা প্রিডেটরশিপ। এক প্রজাতিকে ঐ প্রজাতিই জীবনরক্ষার স্বার্থে ব্যবহার করে। পল পুরুষ। তাই তার মধ্যে এই হননের প্রবণতা বেশি থাকা স্বাভাবিক। তাই ঝুলন্ত কিছু দেখলেই তাকে শত্রু মনে করে আট ‘হাতে’ জাপটে হত্যার চেষ্টা অক্টোপাসের সহজাত। এই সহজাত বিষয়টিকে কৌশলে ব্যবহার করেছে পলের কোচ ভেরেনা। লোহার রডের দু’ধারে করে যখন বাক্স দুটোকে নামানো হতো তখনও কোন কোন ক্ষেত্রে পলকে দেখা গেছ ঐ রডকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে। এর অর্থ পল ভয় পাচ্ছে নিজের অ্যাকোরিয়াম থেকে ঐ পরীক্ষাগারে নামতে। তবু বাধ্য সে। কারণ তখন খিদেতে কাতর। এই কারণেই স্পেনের বাক্সে খাবার পেয়ে সেখানকার ঢাকনা খুলে দীর্ঘক্ষণ পল খুঁজে বেড়িয়েছে ঝিনুকের মাংস। দুই একটা সন্ধান মিললো মন ভরেনি। তাই আবার নেদারল্যান্ডের পতাকা রাখা বাক্সের দিকে যেতে চেয়েছে। কিন্তু ততক্ষণ বাক্স বা পলের দিকে কারো লক্ষ্য নেই। সবাই মাতোয়ারা তার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে।
বিজ্ঞানে একটা কথা আছে ‘চান্স ফ্যাক্টর’। একে অনেকে ‘র্যা ন্ডব লাক্’ বলেন। এই পদ্ধতিতে দেখা গেছে কোনো বিষয়ে যত বেশি অনুমান করা যাবে তা মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি তত বেশি। যেমন পলের সঙ্গে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’তে নামলো মণি। বিষয়টি সম্ভাবনা দাঁড়াল সমান সমান। তাই-ই হয়েছে। পল বলেছে স্পেন, মণি বলেছে নেদারল্যান্ড। এরপর ঠিক ফাইনালের আগে এসে গেল কুমির হ্যারি। ব্যাস, এবারে সম্ভাবনাটা একদিকে ঝুঁকে গেল। হয় তথাকথিত ভবিষ্যদ্বাণী দুইজনের ঠিক হবে, নয় দুইজনেরটা ভুল। একটা এক টাকার কয়েনকে যদি এক হাজার বার টস করলে হেড আর টেল আসার সম্ভাবনা সমান সমান। কিন্তু যদি কমবার করা যায় তাহলে কোনো একটা বেশি হবে। এটা স্বাভাবিক। পল শুধু জাপটে ধরেছে। প্রকৃত খেলা খেলতে হয়েছে পলের কোচকে। নিজের বুদ্ধিতে বা অন্যের শেখানো ফলের ভিত্তিতে তিনি প্রকৃত পক্ষে পলকে চালিত করেছেন। তবু ফল মিলেছে। তাই পল এখন নায়ক। ভুলে যাবেন না ২০০৮সালে ইউরো কাপে পলের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ পুরোপুরি খাটেনি। ইউরো কাপ ফাইনালে পল বেছে নিয়েছিলো জার্মানিকে। স্পেনকে নয়। কিন্তু ফল হয়েছিলো উলটো। সেই ক্ষেত্রেও পল হারেনি। হেরেছিলো ইতালির সমুদ্র থেকে পল যার হাত ধরে সি লাইফ সেন্টারে এসেছে সেই ভেরেনা।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !
sb]জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !

জাতীয় নির্বাচনের পর আমারা এখন জাতিসংঘে সকলের দৃষ্টি আর্কষন করতে যাচ্ছি,
তবে আমরা জাতীয় নির্বাচনে সফলতা না পেলে এই সুযোগ সৃষ্টি হতোনা ।
আগামী জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রোফেসর ইউনুস সম্পর্কে আমি যা বলেছিলাম তাই সঠিক ছিল।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন চ্যানেল ওয়ানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রফেসর ইউনুস সম্পর্কে উনি যা বলেছেন আমিও ঠিক তাই বলেছিলাম তখন। হয়তো উনি এখনো রাখঢাক রেখে বলছেন, আমি সরাসরি বলেছিলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন যখন শুকায়ে যায়

জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানা গেল লিম্বস কলাপসের টেস্টটার খরচ পড়বে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। তমাল কাকাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে গেল পান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
কালো রাজনীতি

হাজার হাজার বছর ধরে কালো রাজনীতি বহমান। কোনো ধর্ম কোনো রাজনৈতিক প্রধান হাতিয়ার বা রাজনৈতিক প্রধান সূত্র হতে পারে না, হওয়া উচিত না। বলা হয়ে থাকে ধর্মের কাজ নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
