somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা আর আমি (পড়া)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড়দের মত পড়া শিখতে পেরে আমার আনন্দ দেখে কে, যা সামনে পাই তাই পড়ি। কোন গল্পের বই হাতে পেলে ওটা শেষ না করে উঠতে পারতামনা। যখন পড়তাম এই পৃথিবীর কোন কিছুর দিকেই খেয়াল থাকতো না। কেউ ডাকলে শুনতে পেতামনা। এমনিতে খাওয়া নিয়ে খুব বিরক্ত করতাম, কিন্তু গল্প পড়ার সময় আম্মু এক plate এর জায়গায় দুই plate খাইয়ে দিলেও টের পেতামনা। গল্পের বইয়ের প্রতি এন ঝোক ছিলো যে একটা বই শুরু করলে নাওয়া খাওয়া সব ছেড়ে দিতাম। সেইজন্যই আম্মু সহজে বই ধরতে দিতে চাইতো না। তবে আমার এই ঝোক দেখে মামা খুব খুশি হলেন। আম্মুকে বললেন " ও যত চায়, ওকে পড়তে দে। এখনি ওর পড়ার প্রতি এত টান, ও নিশ্চয়ই পড়াশোনায় অনেক ভাল করবে।" কিন্তু কিশের কি? আমার পড়তে ভাল লাগতো, কিন্তু সেটাতো গল্পের বই। ক্লাসের বই পড়তে আমার একটুও ভাল লাগতোনা। পড়ার সময় লুকিয়ে গল্পের বই পড়তাম। হুমায়ুন আহমেদের আর মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই বেশি পড়া হত। পড়তে ভাল লাগার কারনে খুব ছোট বয়সেই বড়দের অনেক বই পড়া হয়ে গিয়েছিলো। কিছু হয়তো বুঝতাম, কিছু বুঝতামনা। আসলে সামনে যা পেতাম তাই পড়তাম। আম্মু পড়তে দিলে ভাল কথা, পড়তে না দিলে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
তারপর 10 বছর বয়সে যখন আমেরিকা আসলাম, তখন শুরু হল সমস্যা। বাংলা বইতো এখানে তেমন পাওয়া যায়না। আর ইংলিশ বুঝতামনা। কাজেই ইংলিশ বইও পড়তে পারতামনা। ESL ক্লাস থেকে যেই বইগুলো দিত, তা ছিল খুব ছোটদের জন্য। আমি সেই বইগুলা পড়ে মজা পেতামনা। তাই আস্তে আস্তে পড়ার অভ্যাসটা আমার চলে গেল। 9 বছর পর এখনো আমার পড়তে ভাল লাগে, তবে আগের ঝোকটা এখন আর নাই। সহজে বই ধরিনা। খুব ভাল বই না হলে বইয়ের ভীতর এখন আর তেমন ঢুকতে পারিনা। হুমায়ুন আহমেদের উদ্ভট বই পড়তে এখন আর তেমন ভালো লাগেনা। তবু তার বই এক সময় ভালো লাগতো বলেই হয়তো এখনো তার কোন বই পেলে পড়ি। আর খুব কম, হঠাৎ করে যদি কোন বই ভালো লেগে যায়, তখন আমি আবার এই পৃথিবী ছেড়ে বইয়ের জগতে ঢুকে যাই। এবং পরবর্তীতে অনেকবার সেই বইটা পড়া হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৪
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×