বড়দের মত পড়া শিখতে পেরে আমার আনন্দ দেখে কে, যা সামনে পাই তাই পড়ি। কোন গল্পের বই হাতে পেলে ওটা শেষ না করে উঠতে পারতামনা। যখন পড়তাম এই পৃথিবীর কোন কিছুর দিকেই খেয়াল থাকতো না। কেউ ডাকলে শুনতে পেতামনা। এমনিতে খাওয়া নিয়ে খুব বিরক্ত করতাম, কিন্তু গল্প পড়ার সময় আম্মু এক plate এর জায়গায় দুই plate খাইয়ে দিলেও টের পেতামনা। গল্পের বইয়ের প্রতি এন ঝোক ছিলো যে একটা বই শুরু করলে নাওয়া খাওয়া সব ছেড়ে দিতাম। সেইজন্যই আম্মু সহজে বই ধরতে দিতে চাইতো না। তবে আমার এই ঝোক দেখে মামা খুব খুশি হলেন। আম্মুকে বললেন " ও যত চায়, ওকে পড়তে দে। এখনি ওর পড়ার প্রতি এত টান, ও নিশ্চয়ই পড়াশোনায় অনেক ভাল করবে।" কিন্তু কিশের কি? আমার পড়তে ভাল লাগতো, কিন্তু সেটাতো গল্পের বই। ক্লাসের বই পড়তে আমার একটুও ভাল লাগতোনা। পড়ার সময় লুকিয়ে গল্পের বই পড়তাম। হুমায়ুন আহমেদের আর মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই বেশি পড়া হত। পড়তে ভাল লাগার কারনে খুব ছোট বয়সেই বড়দের অনেক বই পড়া হয়ে গিয়েছিলো। কিছু হয়তো বুঝতাম, কিছু বুঝতামনা। আসলে সামনে যা পেতাম তাই পড়তাম। আম্মু পড়তে দিলে ভাল কথা, পড়তে না দিলে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
তারপর 10 বছর বয়সে যখন আমেরিকা আসলাম, তখন শুরু হল সমস্যা। বাংলা বইতো এখানে তেমন পাওয়া যায়না। আর ইংলিশ বুঝতামনা। কাজেই ইংলিশ বইও পড়তে পারতামনা। ESL ক্লাস থেকে যেই বইগুলো দিত, তা ছিল খুব ছোটদের জন্য। আমি সেই বইগুলা পড়ে মজা পেতামনা। তাই আস্তে আস্তে পড়ার অভ্যাসটা আমার চলে গেল। 9 বছর পর এখনো আমার পড়তে ভাল লাগে, তবে আগের ঝোকটা এখন আর নাই। সহজে বই ধরিনা। খুব ভাল বই না হলে বইয়ের ভীতর এখন আর তেমন ঢুকতে পারিনা। হুমায়ুন আহমেদের উদ্ভট বই পড়তে এখন আর তেমন ভালো লাগেনা। তবু তার বই এক সময় ভালো লাগতো বলেই হয়তো এখনো তার কোন বই পেলে পড়ি। আর খুব কম, হঠাৎ করে যদি কোন বই ভালো লেগে যায়, তখন আমি আবার এই পৃথিবী ছেড়ে বইয়ের জগতে ঢুকে যাই। এবং পরবর্তীতে অনেকবার সেই বইটা পড়া হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৪