somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্নো নিয়ে................

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচন্ড রকমের স্নো স্টরম হচ্ছে আজ। সারাদিন বের হইনি। কিন্তু সন্ধ্যাতে একটা ক্লাস থাকায় বের হতে হয়েছিল। বাইরে যেয়ে দেখি এত জোরে স্নো হচ্ছে, যে তাকাতে পারছিনা। মাথা নিচু করে, চোখ বন্ধ করে, কাপতে কাপতে কোনমতে গাড়ি তে উঠে বসলাম। রাস্তাতেই দেখলাম কয়েকটা গাড়ি হঠাৎ বাকা হতে হতে সামলে নিল। এই সময়ে গাড়ি চালানো খুব ডেনজারাস। একবার তো আম্মু ড্রাইভ করতে করতে ছোটখাট একটা এ্যকসিডেন্টো করে ফেলেছিল। রাইটে ঘুরাতে যেয়ে, গাড়ি লেফটে ঘুরে একটা আইল্যন্ডের সাথে বাড়ি খেয়েছিল। বাসায় ফেরার সময় দেখি বাসার সামনে রাস্তাতেও মোটামোটি স্নো জমে গেছে। আর দুইটা ছোট ছেলে আমাদের সাভল টা নিয়ে বরফ পরিস্কার করছে। আমাদের দেখে বলল "We will clean it for you"। মনটা কৃতগ্গতায় ভরে গেল। আমরা ধন্যবাদ দিয়ে বাসায় ঢুকলাম, বাইরে আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। জানালা দিয়ে দেখলাম, ছোট ছেলেগুলো সবার বাসার সামনে এই রাতে ঠান্ডায় রাস্তা পরিস্কার করলো।

এই সময়টা আমার খুব অপছন্দের। প্রথম বার যখন স্নো দেখেছিলাম, মনে পড়ে খুব ভাল লাগছিল। স্নোতে গড়াগড়ি দিয়ে খেলেছিলাম। স্নো ম্যান বানানো, স্নো ফ্লেক খাওয়া। প্রথমদিকে এই সময়ে রাস্তায় ভাল মত হাটতেও পারতাম না। মনে পড়ে একবার আমি দুই মিনিটের রাস্তায় পাচবার পিছলে পড়েছিলাম। এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি অবশ্য। অত পড়িনা। কিন্তু আর স্নো ভাল লাগেনা। অবশ্য যারা স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য একটা সুবিধা হয়, মাঝে মাঝে এই সুযোগে স্কুল কামাই দিতে পারে, স্নো ডে দিলে। এইতো সেইদিন আমার বোনেরা সকালে টিভি খুলে দেখে স্কুল নাই। আমার অবশ্য কখনোই সকালে টিভি দেখতে, বা স্কুল ওয়েব সাইট দেখতে মনে থাকতোনা। মনে পড়ে, কয়েক বছর আগে একবার রাস্তায় এক হাটু বরফ জমে গিয়েছিল। আমি সাত সকলে উঠে জাব্বা জোব্বা চাপিয়ে, এক মিনিটের রাস্তা 5 মিনিট ধরে হেটে বান্ধবীর বাসায় গেলাম, ওকে সাথে নিয়ে যেতে। কিন্তুওখানে যেয়ে শুনলাম যে স্কুল ছুটি। যা রাগ লেগেছিল। পরের দুইদিন ধরে রাস্তা পরিস্কার করা হলো, তারপর তৃতীয় দিন থেকে আবার স্কুল ছিল। অবশ্য রাস্তা পরিস্কার করলেও আমাদের অসুবিধা হতো, কারন স্কুল যাওয়ার পথে আমাদের একটা মাঠ পেরুতে হতো। রাস্তা পরিস্কার করা হলেও মাঠতো পরিস্কার করা হয়না। এমনি দৌড়ালে হয়তো দুই মিনিটে বাস স্টপে পৌছাতে পারতাম। কিন্তু স্নো পড়লে ঐ মাঠ পেরুতে পেরুতে হয়তো বাস মিস করতাম। যাওয়ার পথেও কতো সমস্যা, সাবধান না হলে, জুতার ভেতর বরফ ঢুকে পড়তো, আর প্যন্টের নিচের দিক টা ভিজে যেত। যেহেতু একি পথে প্রতিদিন যেতে হতো। আমরা আগের দিনের পায়ের ছাপে পা রেখে হাটতাম, তাহলে যাতে আর বেশি সমস্যা না হয়।

স্নো পড়লে বাইরে বেরুতে বিরক্ত লাগলেও, স্নো দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। রাস্তায় হাটতে হাটতে, লাইটের রিফ্লেকসন স্নোতে পড়ে দেখি গাছ, ডাল পালা, রাস্তা সবকিছু চিকমিক করছে, যেন কেউ অনেক জরি ছিটিয়ে দিয়েছে। আবার স্নো গলে পানি পড়তে পড়তে যখন সেটা জমে আইস হয়ে যায়, মনে হয় উপর থেকে ক্রিস্টাল ঝুলছে। দেখতে অপরুপ লাগে। কত মজার স্মৃতিও আছে এই স্নো নিয়ে। স্নো ম্যন বানানো, স্নো বল ফাইট, আবার একবার টিচার যখন ক্লাসের সবাইকে স্কুলের পিছনের "মিকিমাউস হিল"টাতে স্লেলডিং করতে নিয়ে গিয়েছিল, খুব মজা হয়েছিল সেইদিন। আসলে, স্নোতে যেমন অনেক অসুবিধা হয়, মজাও করা যায় অনেক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×