somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশটা কেবল হাসিনা-খালেদার নয়, সে দেশটা আমারওঃ তসলিমা নাসরিন

২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রাণনাশের হুমকি উপেক্ষা করে দেশে ফিরতে চান তসলিমা নাসরিন। ভারতে থাকার প্রয়োজনীয় অনুমতি মিলে নি সেখানে আর থাকার, সেখানকার মৌলবাদীদের হাতে নিগৃহীত হবার পর তাকে থাকতে ভারত সরকারেরও এ ব্যাপারে অনীহা যথেষ্ট।

নিউ ইয়র্ক থেকে ফোনে তিনি আনন্দবাজারকে বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানান। বলেন, আমি জানি বাংলাদেশে কোন দিন ফিরতে পারলেও সাত দিনের মধ্যে মৌলবাদীরা আমাকে খুন করবে (!)। তবু প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও আমি ফিরতে চাই। কারণ আমেরিকা বা ইউরোপে বাস করাটা আমার কাছে মৃত্যুরও বাড়া।

আসলে তসলিমা ভারতেই ফিরতে চান। কিন্তু ২০০৮ সালে সংখ্যালঘু বিক্ষোভের পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। দিল্লি রেসিডেন্সিয়াল পারমিট দিলেও তাকে থেকে যেতে দেয়নি। তসলিমা বললেন, তারপর থেকে দেশে (ভারতে, বাংলাদেশে নয়) যেতে দেয়নি। তসলিমা বললেন, তারপর থেকে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমার জন্য নিরাপদ দেশ ভারতেই আমি বাস করতে চাই। টানা পাঁচ বছর রেসিডেন্সিয়াল পারমিট পেলে যে কেউ স্থায়ী নাগরিকত্ব পেতে পারেন। কিন্তু আমাকে এখন রেসিডেন্সিয়াল পারমিট দেয়ার পরে মৌখিকভাবে বলে দেয়া হয়, দু’দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে।



পত্রিকাটি জানিয়েছে, ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টাই করেছেন তসলিমা। তসলিমার কথায়, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখেছি। আরও অন্যান্য নেতানেত্রীকেও চিঠি লিখেছি। কিন্তু কারও কাছে কোন জবাব পাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, আমার এমন কিছু জানা নেই। একইভাবে প্রাণ সংশয় জেনেও তসলিমা শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন। কিন্তু ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রী তসলিমার কোন চিঠি পাননি। তসলিমা হাসিনার কাছে বাংলাদেশের ফেরার আবেদন জানিয়ে চিঠি লেখেন দিন দশেক আগে। তার কিছু দিন পরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী দীপুমনি নিউ ইয়র্কে যান। সেখানে সাংবাদিকরা তাকে তসলিমার দেশে ফেরার আবেদন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অবশ্য জানান, তসলিমার দেশের ফেরার ব্যাপারে আইনি কোন বাধা নেই। তিনি বাংলাদেশে ফিরতেই পারেন।

তসলিমার কথায়, কলকাতা সমেত পৃথিবীর বহু দেশের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আমি আমার বাংলাদেশী পাসপোর্ট রিনিউ করানোর চেষ্টা করেছি এবং ইউরোপের পাসপোর্টে ঢাকার ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেছি। কোন কারণ না দেখিয়েই তারা সব সময় আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদারের জানান, তসলিমা ফিরছেন বলে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আগে ফিরেন, তারপরে নিরাপত্তা দেয়ার প্রশ্ন। আমি তো শুনেছি, তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তবে নাগরিক হোন বা না হোন, বাংলাদেশের মাটিতে কেউ বিপন্ন বোধ করলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও পুলিশ তার সাহায্যে এগিয়ে যাবে।

১৯৯৪ সালে তসলিমার লজ্জা উপন্যাস নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। তারা লেখকের মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া ঘোষণা করার পরে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। তসলিমা এখন নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ফেলোশিপ নিয়ে সেখানে বাস করছেন। বললেন, সামনের সেপ্টেম্বর মাসে আমার ফেলোশিপের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ৫ই আগস্ট আমি দিল্লি যাচ্ছি, ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি চাইতে। ওরা যদি থাকতে না দেয়, তখন কি করবো জানি না। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরতে দেবে না বলে এক রকম ধরেই নিয়েছেন তসলিমা। তবু বারবার ফেরার চেষ্টা করেছেন কেন? তসলিমার উত্তর, বাংলাদেশটা কেবল শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নয়, সে দেশটা আমারও। বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।

তবে সরকার যদি বা অনুমতি দেয়, সে দেশে তিনি বিদগ্ধসমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন, তা নিয়েও সংশয় আছে। ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক কামাল লোহানী যেমন বলছেন, তসলিমা নিজের সস্তা প্রচারের জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে আগুন নিয়ে খেলা করেছেন। তার দেশে ফেরার কোন প্রয়োজন নেই। আবার সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের মতো কিছু মানুষও আছেন, যারা মনে করেন তসলিমা বাংলাদেশে ফিরবেনই।
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×