somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভাবনাঃ শাবিপ্রবিতে ভাস্কর্যবিরোধী শিক্ষককে ছাগু আখ্যা, অতঃপর প্রতিক্রিয়া

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেটে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ভাস্কর্য নির্মাণের বিপক্ষে ৫১জন শিক্ষকের স্বাক্ষর সম্বলিত বিবৃতি এবং এর জের ধরে সুশান্ত দাসগুপ্ত কর্তৃক ঐ শিক্ষকদেরকে ছাগু আখ্যায়িত করা। এটা নিয়ে বেশ কয়েকজনের মতামত পড়লাম, যার মধ্যে শাবিপ্রবি'র ছাত্র সুদীপ্ত করের লেখাটিও আছে। সেখানে সে মূলত ৫১জন শিক্ষকের একজন 'শহীদ স্যার'কে নিয়েই পুরো লেখাটি লিখেছে। লেখাটি পড়ার পর আমার তাৎক্ষণিকভাবে যে চিন্তাভাবনা ও প্রশ্নগুলো মাথায় এসেছে, সেগুলো শেয়ার করছি-



১) শুধু একজনকেই সবাই ডিফেণ্ড করছে। তার মানে কি বাকিদের ক্ষেত্রে ছাগু উপাধি 'ওকে'?



২) সুদীপ্ত তার নোটে একটি স্ক্যানকপি দিয়েছে, যাতে দেখা যায় যে শিক্ষক শহীদ মূলত মূর্তির বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযুদ্ধের নয়। সেখানে বিকল্প হিসেবে সাভারের ন্যায় স্মৃতিস্তভ নির্মাণের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই লেখার আরেকটি স্ক্রীনশটে সুদীপ্ত দেখিয়েছে যে, একজন বলেছেন, শিক্ষক শহীদ নাকি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। কোনটি সত্য?



৩) যদি তিনি ঐ পত্রে সাক্ষর করেন, তাহলে প্রশ্ন জাগে তিনি মূর্তি বলতে কি বোঝেন? তিনি মূর্তি আর ভাস্কর্যের সংজ্ঞা জানেন কিনা? কারণ তিনি বিকল্প হিসেবে সাভারের ন্যায় স্মৃতিসৌধের প্রস্তাব দিয়েছেন। যা বুঝলাম, মনে হলো তার আপত্তি মানুষের আদলে হওয়াতে। অর্থাৎ এটা যদি মানুষের মুখের মত না হত তাহলে কোনো আপত্তি ছিল না। সেক্ষেত্রে আমাদের 'অপরাজেয় বাংলা'ও তার মতে আপত্তিকর ও ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। কাজেই তার এই মতকে যদি আমরা আজ সাপোর্ট করি,কাল সে 'অপরাজেয় বাংলা' ভেঙ্গে ফেলার জন্য আবেদন জানালে, সেটাকেও সমর্থন করা হবে!



৪) আর যদি সে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে থাকে, তবে সেটা নিতান্তই নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়। একজন চাষীও যেখানে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাইবে না, সেখানে একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ হিসেবে তাকে তো এটা মানায়ই না।



৫) আমি বহুদিন আগে সচলায়তনে একখানা ব্লগ লিখেছিলাম। তখনও আমি ব্লগিংয়ে একেবারেই নতুন। সচল দিয়েই হাতেখড়ি হয়েছিল। তো আমার এক পরিচিত ডাক্তার আঙ্কেল ছিল, যিনি আমার এলাকার এবং বড়চাচার ক্লাসমেট। তার ব্যবহারও ভালো ছিল। কিন্তু তিনি গরীবের ছেলে ছিলেন, জামাতের টাকায় ডাক্তারি পড়ে জামায়াত ইসলামীর বেশ বড় পর্যায়ের নেতা হয়েছেন। আর আমার এলাকা জামাত অধ্যুষিত হওয়াতেই বোধ করি জামাত নিয়ে একধরণের অভ্যস্ততা হয়ে গিয়েছিল। জামাত-শিবির ঘৃণা করতে হবে, কেন করতে হবে এই ব্যাপারটা তখনো সেভাবে মাথায় আসে নি। তো আমি সেই ব্লগে অবচেতনে ঐ জামাত নেতাকে মুক্তচিন্তার অধিকারী বলে আখ্যায়িত করে ফেলেছিলাম। এরপর তো শুরু হলো হিমুভাই, অনার্যদাদের পঁচানি। কিন্তু তারপরও সে সময় এতটা উপলব্ধি করিনি, যতোটা করেছি পরবর্তী তিনবছরে- দেখে, শুনে, পড়ে, জেনে, বুঝে,।



শিক্ষক শহীদ আদতে কেমন লোক জানি না। কিন্তু তিনি যেহেতু বাকি ৫০জন ধর্মগোঁড়া শিক্ষকের সাথে একাকার হয়ে যেতে পেরেছেন (জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে), কাজেই মরিয়া হয়ে তাকে ডিফেণ্ড করা বা তাকে সমর্থন করা খুব একটা যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সুদীপ্তদের বর্তমান অবস্থাটাকে আমার তিনবছর আগের অবস্থার মত বলেই মনে হচ্ছে। এরা এখনো জামাত কি জিনিস জানে না, চিনে না। জামাতের হাতে গোনা দুয়েকজন ছাড়া কাউকেই আমি সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। উপরে ওরা খুবই ভালো। কিন্তু জানবেন, ঐ রগকাটা, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালানো বা পুলিশের উপর হামলাকারী শিবিরকর্মীদের পিছনে ওরাই আছে। মেডিকেল ভর্তি কোচিং করতে বেশিরভাগের প্রথম পছন্দ রেটিনা। রেটিনার পাঠের মানও নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু এই রেটিনাই হচ্ছে শিবিরের অর্থ ও কর্মী সংগ্রহের অন্যতম উৎস। আমাদের অজান্তে আমাদের দেয়া টাকাগুলোই ব্যয় হচ্ছে শিবিরের রগকাটা বাহিনীর পিছনে- হয়তো আমাদেরই রগ কাটতে!


ফেসবুক নোট লিঙ্ক
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসহন্তাদের উল্লাস; ভ্যাম্পায়ারদের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৭


হা ভোট পক্ষের নাগরিক'রা কি এখন ছবির এ বিপ্লবীটির মতই একা ??!!
দীর্ঘ ১৮ বছর লুটপাট, গুম, খুন, নির্যাতনের রাজত্ব। অতঃপর জুলাই-আগস্ট'২০২৪ এর অন্দোলনে রাজপথে স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে দাড়িয়ে হাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে তারেক রহমান হে রাষ্ট্র নায়ক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩



প্রতিক্ষার অবসানে হে রাষ্ট্র নায়ক
আপনার আগমন হয়েছে এখন
খানিক শান্তির জন্য জনতার মন
আপনার সুশাসন প্রতিক্ষায় ছিল।
হে তারেক রহমান অনেক নাটক
এখানে মঞ্চস্ত হয়। কত অগণন
হতাশায় বাকরুদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুভেচ্ছা জানালেন নাকি ডিলের কথা মনে করিয়ে দিলেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠির বাংলা

হোয়াইট হাউস
ওয়াশিংটন
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মহামান্য তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
ঢাকা।

প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভের জন্য অভিনন্দন জানাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=তুমি মাবুদ মন করে দাও পবিত্র=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭


কেন যে হিংসার স্পর্শ লেগে থাকে মনে
কেন যে এত অহম পুষি বুকে
একেকটি মৃত্যু জানান দিয়ে যায় আয়ূ নেই বেশী দূর
গোরের কথা স্মরণে বুক কেঁপে ওঠে দুদ্দুর।

কেন যে এত দীর্ঘশ্বাস বুকে
কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র | ডঃ এম এ আলী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৩

গানের লিংক - Click This Link
(গানটিতে মাইকেল জ্যাকসনের 'বিট ইট' গানের একটি পিস ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি, সবার ভালো লাগবে।)



অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×