somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপ্সরী,ভালবাসা এবং একটি নীল গোলাপ(স্বপ্নচারী)

০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত ঠিক ৩ টা ৪৫ বাজে।এমন সময় রাজের ফোন বেজে উঠল। এয়ারটেল এর চিরচেনা শব্দ।আশিক ফোন করেছে দেখে আর রিছিভ করেনি। মনে করেছে রাতে জাগা পাখিরা এমন ডিস্টার্ব করবেই। কিছুক্ষণ পর দেখল আবার ফোন বাজছে। ফোন রিছিভ করল,

রাজ- “ কিরে দোস্ত এত রাতে কল করলি যে?”

আশিক-“ কিরে ঐ মেয়েটা কে কি স্বপ্ন দেখছিলি নাকি?এতক্ষণ লাগল যে ফোন রিছিভ করতে?”

রাজ-“ না রে। এমনি একটু দেরি হয়ে গেছে। মেয়েটা যে আমার স্বপ্ন থেকে যাচ্ছেই না। আমি যে ওকে ভুলতেই পারছিনা।”

আশিক-“ দোস্ত, মন খারাপ করিস না। কাল দেখবি কোচিং এ ও নিশ্চয় আসবে। এখন মন খারাপ না করে ঘুমিয়ে পড়। আর আমি সকালে তোর নোট টা বাসায় নিয়ে আসব ।”

রাজ-“ ঠিক আছে। আমি ঘুমিয়ে যাচ্ছি। বাই!’’



দুই দিন আগে_ঃ

রাজের স্কুল এ এক নতুন কোচিং শুরু হয়েছে। নাম দৃষ্টি কোচিং । ক্লাস চলাকালীন হঠাত তার চোখ পড়লো একটি মিষ্টি মেয়ের উপর । নাম তার অপ্সরী । মেয়েটি ঐ স্কুল ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই। শুধু এখানে কোচিং করতে এসেছে । রাজ নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। ক্লাস চলাকালীন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রথম দেখাতেই সে তার শপ্নচারিনির দেখা পেয়ে গেছে , যেন সে তার চিরচেনা কারও দেখা পেল। মেয়েটির চোখ ছিল টানাটানা । রাজ যেন তার সপ্নের সাথে মিলিয়ে ফেলল ঐ মেয়েটিকে। সপ্নে যেমনটি করে সে ওই মেয়েটিকে নীল গোলাপ উপহার দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ওকে নীল গোলাপ দিয়ে মনের কথা বলতে চায় রাজ।



আগের দিনঃ রাজ আর তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আশিক বসে আছে একটা রেস্টুরেন্ট এ । রাজ হটাত করে দেখতে পেল অপ্সরীকে একটা ফ্লেক্সির দোকান থেকে বের হতে। সাথে ওর মা ও ছিল। তখন রাজ আশিক্ কে ঐ মেয়েটির কথা বলল।

রাজ-“ কিরে শোন , এই মেয়েটাই আমার সপ্নের অপ্সরী। তুকে বলেছিলাম না কতদিন ধরে একটা আজব মেয়েকে সপ্ন দেখতেছিলাম। আমার ওকে দেখেই মনে হয়েছে ও ই সেই সপ্নচারিনি।”

আশিক-“ আরে পাগল, তর মাথা পুরা গেছে। তুই কি যে বলিস না । এই মেয়েত আমাদের সাথে পড়ে। নতুন কোচিং এ তাই না??”

রাজ-“ হ্যাঁ । ঠিক ধরেছিস। আমি আমার ভালবাসার দেখা পেয়ে গেছি। ওকেই আমি খুজতেছিলাম এতটা বছর ধরে। ও আমার অপ্সরী , আমার সপ্নচারিনি।আমি অকে আমার মনের সকল কথা বলতে চাই। দোস্তো, প্লিজ আমাকে একটু হেল্প করনা । প্লিজ।।



অপ্সরীকে দেখার জন্য ওর স্কুল এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকত রাজ। সে ক্লাস শেষে অপ্সরীর রিকশার পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়াত। এক পলক দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতো রাজ। তবু ও দেখা মিলত না। বন্ধুদের সাহায্যে একদিন ওর দেখা পায় রাজ। কিন্তু কিছুই বলতে পারে না ওকে। কারন রাজ কখনও জানতোনা ভালবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হয়।কারণ এটাই ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। সে তার প্রথম দেখাতে শুধু একটা খাতা চেয়েছিল অপ্সরীর কাছে আর এতেই তার প্রায় ৮ গ্লাস পানি খেতে হল।সেদিন অনেক ভঁয় পেয়ে গেছিলো রাজ। অনেক কষ্ট করলেও খাতা পাই সে। কিছু লিখেনি , এমনকি কোন প্রেম পত্র ও না। শুধু কয়েকটা নীল গোলাপ দিয়ে ঠিক যেন শপ্নচারিনির স্বাদ পূরণ করল।

অজানা স্বপ্নঃ

অনেকদিন পর,

সেদিন ছিল ১৯ শে ডিসেম্বর , রাত ৭ টা ৩১ মিনিট

রাজের ফোণে একটা অজানা কল । রাজ ফোন রিছিভ করল,

রাজ-“ হেলো কে বলছেন? ”

অপ্সরী-“ আমি অপ্সরী বলছিলাম, তুমি নাকি আমাকে ভালবাস?কেন আমাকে তুমি ভালবাস? তুমি কি আমাকে ভালোভাবে চিনো? আর যদি ভালবাস তাহলে বলতে পারছনা কেন? তুমি কিভাবে ভাবলে আমি তুমার কথাই রাজি হব? যদি কখনও আমার কথা মনে হয় তাহলে নিজের সাহস দেখাতে আমার সামনে কখনও এশনা। ভাল থেক।’’



রাজ কিছু বলতে পারল না । কিছু বলে উঠার আগেই ফোন কেটে দিল। সেদিন সারা রাত রাজ ঘুমতে পারেনি। সে শুধু ভাবল, ও যদি আমাকে ভাল নাই বা বাসে তাহলে এমন কান্নাজরিত কণ্ঠে আমাকে রাগ দেখাচ্ছিল কেন? ও কি আমাকে আর ফোন দিবে না? ও কিভাবে জানল আমার কথা? ও আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ দেইনি কেন? ও কি সত্যি আমাকে ভালবাসে?



অ্যালার্ম এর শব্দে রাজের ঘুম ভাঙল। ভোর ৬ টা ১০ দেখে এক লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে বেসিনে দাঁড়িয়ে গেল।

কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এতক্ষণ সে বুঝতে পারল, (অজানা স্বপ্ন) অংশটা পুরোটাই স্বপ্ন ছিল। রাজ হাফ ছেড়ে বাঁচল, “ভাগ্যিস এমনটা হইনি। তা হলে কি যে হত ???? যাক ওটা স্বপ্ন ছিল । তাড়াতাড়ি রেডি হই।আজকে কোচিং এ যাব। আজকে ওকে বলবই আমার সব মনের কথা। আমি ওকে অনেক ভালবাসি তা আজকে ওকে বলে দিব।

আমি আর নিজেকে গুটিয়ে রাখবনা , আমি বলব “ I LOVE U OPSHORI’’
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×