ছোট ভাই, বড় ভাই আর ফ্রেন্ড দের অবস্থা, তাদের ঘটনা ইত্যাদি এর পরি প্রেক্ষিতে লেখা... হয়তো সবার সাথে মিলবে না, তবে কাউকে আঘাত করবার জন্য এটা লেখা নয় ...
সিরিয়াস ভাবে নেয়ার কিছু নেই
লেভেল এক
একটা ছেলে যখন ক্লাস ৯ এ ওঠে অন্যরকম একটা ভাব আসে তার মধ্যে যেন সে অনেক বড় হয়ে গেছে, হটাৎ করেই সে নিজেকে অনেক বড় ভাবতে শুরু করে, চারপাশ টা অন্যরকম আগে যেমন ছিল না, ফ্রেন্ড বেড়ে যেতে থাকে... এদিক সেদিক ঘোরা-ঘুরি ও বেড়ে যায়... চারপাশ দেখে তার মাথায় ও চলে আসে তার কাউকে দরকার... সোজা ভাবে বললে তার একটা গার্লফ্রেন্ড দরকার... তো সে তার চারপাশ দেখতে শুরু করে, কাউকে ভালো লাগলেই হয়েছে !
কারো রিলেশন হয় কারো হয় না, ক্লাস ১০ এ উঠলে আর কে পায় ! স্কুলের সবচেয়ে বড় ক্লাস, বড় ভাইয়ের ভূমিকা দেখায়... এবার যেন গার্ল ফ্রেন্ড না হলেই না !! ফ্রেন্ড এর হেল্পে হয়েও যায় ! কিন্তু টেস্ট এক্সাম আসতেই কানে পানি ঢুকে, আর সময় নেই, এবার পড়তে হবে, রেজাল্ট খারাপ হলে কি হবে!, বাবা-মা কি বলবে! ... তো পড়া লেখা না করে আর পথ নেই... কথা কমে যায়... গার্লফ্রেন্ডের বিষয় ঝাপসা হতে শুরু করে, গার্লফ্রেন্ড এর ব্যপারটা ভালো লাগে না...
দেখা যায় এস.এস.সি এর পর ই রিলেশন এর দা-এন্ড হয়ে যায়...
সারমরমঃ অধিকাংশের ক্ষেত্রে এই ২ বছরে যা ঘটেছে তা ভালবাসা না মোহ!
সবার যেমন মোবাইল আছে, আমারও চাই, ঘটনা প্রায় এরকম !
LEVEL2
ইন্টারে উঠবার পর !!
অনেক বড় হয়ে গেছি, এখন কলেজে পড়ি, আমি স্বাধীন!
মাস ২আগেও সে ছিল তার মায়ের আঁচলের নিচে, তো যেহেতু বড় হয়ে গেছে, কলেজ অনেকের ই দেখা যায় বাসা থেকে বেশ দূরে... ক্লাসে এ যা হয় তা হল আড্ডা বাজি, ক্লাস ফাকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া... অনেকেই চায় কম্বাইন্ড কলেজে ভর্তি হবে, এর কারণ সে তার মত করে কাউকে পেতে চায়... অনেক ক্ষেত্রেই দেখা কোচিং গুলো সন্ধ্যার দিকে বা রাতে পরে, বলতে গেলে সারাদিন ই বাইরে কাটে...
বাবা-মার সাথে দূরত্ব বাড়ে... কোচিং কম্বাইন্ড হলে তো ফ্রেন্ড হওয়া আরও সহজ ব্যাপার... এক সময় ফ্রেন্ডশিপ অন্য দিকে চলে যায়... ভালবাসায় রূপান্তর হতে চায়... বিপত্তি বাধে এখানেই... অপর জনের বিশেষ কেউ আছে কিনা জানার দরকার মনে না করায় প্রপোজ করার পর ফল সরূপ রিজেক্ট হওয়া লাগে...
জানতে না চাওয়ার কারণ হল যেহেতু একই সাথে পরে, মাঝে মাঝে বললেই কোথাও ফাস্টফুডে বসা হয়, দেখা হয়, সেখানে আড্ডা হয়... অপরজন ভেবে বসে সে তাকে ভালবাসে বলেই সে যেখানে বলছে সেখানেই অপরজন দেখা করছে ! কিন্তু ঘটনা হল অন্য কিছু !
যাই হোক ছেঁকা মাইসিন খাওয়ার পর এক এক জনের বেশ করুন পরিনতি হয়, যেটা অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারে না বা পাড়লেও সময় লাগে, ফল এইচ.এস.সি এর রেজাল্ট খারাপ...
সারমর্মঃ ইন্টারের প্রেম বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বেশ সিরিয়াস থাকে, রিকভারি করতে সময় অনেক লাগে বলে রেজাল্ট খারাপ হয়...
LEVEL3
ভার্সিটি লাইফঃ
আহ ! এবার আমি অনেক বড় ! কে পায় আমাকে !
ব্যাঙ ডোবা থেকে পুকুরে পড়লে যে অবস্থা হয় অনেকের মেয়েদের দেখে সে অবস্থায় ই হয় !! অনেক জন পছন্দ হয়, সে পর্যন্ত যারে সিলেক্ট করে দেখা যায় তার আরেকজন আছে, না হোলে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে বা খুব তাড়াতাড়ি হবে ! সোজা ভাষায় রাস্তা বন্ধ... এই স্টেপে রিলেশনে গেলে যদি ক্লাসমেট হয় তাহলে ভালো ও আছে খারাপ ও আছে... হয় আসমান না হয় পাতাল !
৪বছর একই সাথে থাকতে হবে, যেহেতু একই সাথে পড়া তাই রোজ দেখা হবে, কিন্তু যাকে ভালবেসে ফেলা হয়েছে সে আরেকজনের হয়ে থাকলে এটা ৪বছর ধরে দেখা+সহ্য করা ভয়ানক ব্যাপার !!
আর এই স্টেপ বেশ ভয়ংকর কেননা দেখা যায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের অনার্স সেঙ্কেন্ড ইয়ারে উঠতেই বিয়ে হয়ে যায়... সেম এজ হলে মহা ফাঁপর ! রাস্তা নাই !
অথবা গার্ল ফ্রেন্ড ২/৩ বছরের ছোট হলেও একই ঘটনা প্রায়ই ঘটে !!
সারমর্মঃ ক্লাসমেট কে গার্লফ্রেন্ড না বানিয়ে বোন বানান, তাতে আপনার মঙ্গল :p

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


