somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখী হতে পারছে না, শুধু মানুষ হতে না পারার কারণে।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানুষ যখন পশু ছিলো, পশুর মতোই ছিলো তাদের দৈহিক গড়ন এবং আচরন। পশুর মতোই তারা এক অপরকে শিকার করতো । আগুনের ব্যবহার শেখার আগে , কাঁচাই সবকিছু খেতো। দাবানলে পোড়া প্রানীদেহ খাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো তখনকার কোন এক পশুর(প্রাথমিক মানুষ বা প্রাইমেট) দল “আমিষ ও অন্যান্য” আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া শেখে। পশুর মতোই খাওয়া আর যৌনতা ছাড়া প্রাইমেটরা কিছু করতো না। একক বা দলবদ্ধ ভাবে তারা ঝগড়া-মারামারি করতো খাদ্য ও যৌন সংক্রান্ত বিরোধে। অন্যান্য পশুরাও খাদ্য ও যৌন সংক্রান্ত বিরোধে তাই করতো এবং এখনো করে। সময়ের সাথে সাথে মানুষের দেহ ও মস্তিস্কের কর্ম ক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে । সেই সাথে বেড়েছে অন্য প্রানী বা অন্য প্রজাতি গুলোর উপড় আধিপত্য।
গবেষনা বলছে হোমোসেপিয়েন্সদের কথা-
যাদের মাথার মগজ গড় পড়তায় ১৩০০ থেকে ১৫০০ কিউবিক সে.মি. তাদেরকেই সাধারণত HOMO SAPIENS হোমোসেপিয়েন্স গোত্রে রাখা হয়েছে। এরা প্রথমে ইউরোপে ছিল। তারপর তারা মধ্য প্লাইস্টোসিন যুগে ( MITPLEISTOCENEEPA) প্রাধান্য বিস্তার করে। মানুষ বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী জীব। আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স, প্রাথমিকভাবে এসএসপি হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স) হল হোমিনিনা উপজাতির (অথবা মানব জাতিগোষ্ঠী) একমাত্র বিদ্যমান সদস্য। শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও ওরাং ওটাংদের মত মানুষ বানর পরিবারের অন্তর্গত হোমিনিডি গোত্রের একটি শাখা। স্থলচর প্রাণী হিসাবে তাদের বৈশিষ্ট হল স্থির খাড়া অবস্থান এবং দ্বিপদী চলৎশক্তি; অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা; অন্যান্য প্রাণির চেয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে জটিলতর ভাষার ব্যবহার, আকারে বৃহত্তর ও জটিল মস্তিষ্ক এবং খুবই উন্নত ও সংঘবদ্ধ প্রাণী। এগুলা মানব প্রজাতির দৈহিক বিবর্তন কাহিনী যা এখনো চলমান আছে।
আমাদের আলোচনার বিষয় মানুষের মনোজাগতিক বিবর্তন নিয়ে। এ সম্পর্কে আমরা প্রাচিন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে ঠোটস্থ থাকা পুথি ভিত্তিক কিছু সুর-ছন্দের রচনা পাই । মধ্যপ্রাচ্য এগুলো “ওজিফা” দক্ষিন-পুর্ব,পুর্ব এশিয়ায় পুথি নামে পরিচিত (গুহালিপি বা পাথর লিপিও আছে)।
বনে বনে শিকারের খোঁজে ঘুরে বেড়ানো প্রাথমিক মানুষরাই কালের প্রয়োজনে শুরু করে কৃষিকাজ সেই সঙ্গে শুরু হয় অর্থনৈতিক গোড়াপত্তন। তৈরি করে আত্মরক্ষার হাতিয়ার ও প্রতিরক্ষা বাহিনী। উদ্ভাবন করে হস্তলিপি, কাগজ ও শিক্ষার উপকরণ। সংঘবদ্ধ ভাবে বাস করতে গিয়ে গড়ে তোলে সমাজ থেকে রাষ্ট্র। আর ধীরে ধীরে গড়ে উঠে এই সভ্যতা। সমসাময়িক প্রাচীন মায়া, মেসোপোটেমিয়া, ভারত ও চীনা সভ্যতার মধ্যে ধারনা করা হয় শ্রেষ্ঠতম ছিলো মিসরীয় সভ্যতা।ইতিহাস,প্রযুক্তি ও ধারনা সমুন্নত রাখার জন্য তাদের মমি প্রযুক্তি
আধুনিক মানুষের কাছে বিস্ময়।
কিন্ত্তু তার চেয়েও আধুনিক মানুষের জীবনে অধিক প্রভাবশালী ও বিস্ময় প্রাচীন পুথি বা লোকগাথা সমুহ। বিনোদন বা সময় কাটানোর জন্য হোক অথবা সামাজিক(ধর্মীয়) শিক্ষা প্রদানের নিমিত্তে হোক -এগুলোর রচয়িতারা ভবিষ্যতের জন্যই মুখস্থ এবং ব্যাপক প্রচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছিলো এবং তাদের দৃষ্টিগোচর ও কর্নগোচর হওয়া নিত্য-নতুন হওয়া ঘটনা সমুহ সংযোজন করতো। এদিক দিয়ে সবচেয়ে সমৃদ্ধ অবস্থায় লোকগাথা পাই আমরা ভারত উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভু-মধ্যসাগর সংলগ্ন এলাকায়।
মানব সম্প্রদায়ের পশু থেকে মানুষে উত্তরনের এই দীর্ঘ কন্টকময় “জীবন যাত্রায়” জীবন-যাত্রার মান পশুদের চেয়ে উন্নত হলেও স্বভাব অন্যান্য প্রানীদের মতোই আছে । শুধু ধরনটা পাল্টে গেছে।
ধর্ম মানুষকে সভ্যতা শেখাতে গিয়ে নিজেই অসভ্যতায় নিমজ্জিত। মানুষের সু-শৃংখল, সু-সংঘবদ্ধ এবং বিবেক সমৃদ্ধ চিন্তাধারার সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ফসল হলো ধর্ম। যা মানুষকে বার বার “মানুষ” করার চেষ্টা করেছে। সাময়িক কিছু উপকার হলেও বিজ্ঞানের এই ধর্ম নামক সন্তান বহুরুপে বিজ্ঞানকেই সভ্যতার বিরুদ্ধে দাড় করিয়েছে। চতুর মনুস্যরা বিজ্ঞানকে অধিক সুবিধা সুখ ভোগ করার জন্য বিজ্ঞানের সকল সুবিধাকে কাজে লাগালেও সুখী হতে পারছে না, শুধু মানুষ হতে না পারার কারণে।
তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:১০
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনশন আপডেট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×