somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" তালেবানদের আফগানিস্তান দখল " - কেন এবং কি কারণে আফগান সেনাদের এত দ্রুত পরাজয়? (তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ২)।

২২ শে আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি - এএফপি

তালেবান যোদ্ধারা গত ১৫/০৮/২০২১, রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করেছেন। অন্য দিকে আফগানিস্তান দখল এবং তালেবানের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ যাবৎকালে যত টাকা খরচ করছে তা দেশটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্য কোনো যুদ্ধাভিযান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকবেলা অথবা জাতীয় উন্নয়নের কোনো একক প্রকল্পে খরচ করেনি। তারা এই যুদ্ধে ইউরোপের সম্মিলিত ন্যাটো বাহিনী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ আরো অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও তারা যেভাবে অপমানিত-লাঞ্ছিত হয়ে শোচনীয়ভাবে তালেবানের কাছে পরাজিত হয়ে আফগানিস্তান থেকে যেভাবে লেজগুটিয়ে পালাচ্ছে তার দ্বিতীয় নজির গত এক শত বছরে পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তালেবানের বিজয়ের পেছনে তাদের বীরত্ব, যুদ্ধ-কৌশল, দেশপ্রেম এবং তাদের ভৌগোলিক সুবিধার (অন্যদের জন্য কাবুলের ভৌগোলিক অবস্থা মৃত্যুফাদ) পাশাপাশি রাশিয়া-ইরান-চীনসহ আরো অনেক দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল।তারপরেও পেন্টাগন থেকে এখনও পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তাতে, গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে যুদ্ধের পিছনে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র আফগান সেনাকে প্রশিক্ষণ দিতেই খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ২০২০ সালের একটি রিপোর্টে পেন্টাগন জানায়, সরাসরি যুদ্ধেই তাদের ৮১ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। আর এসবের বেশীরভাগই আমেরিকা খরচ করেছে আফগানিস্তানে সামরিক খাতে তথা সেনা-পুলিশ গঠনের জন্য এবং তাদের প্রশিক্ষনের জন্য ।আর এসবই করা হয়েছিল আফগানিস্তানের একটি শক্তিশালী সেনা ও পুলিশ বাহিনী গঠনের জন্য যাতে করে তারা নিজেরা নিজেদের দেশের শান্তি - নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে।তবে আমেরিকা পানির মতো টাকা খরচ করলেও গত ২০ বছরে আফগানিস্তানের শান্তি-নিরাপত্তা তথা আইন শৃংখলা পরিস্থিতির তেমন কোনও কাযর্কর পরিবর্তন হয়নি।আর তাইতো যখন আমেরিকা আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখনই তাদের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাই বলেছিল ,তালেবানরা এক বছরের মধ্যেই কাবুল দখল করতে পারে।আর সকল অনুমান ও ধারনাকে ভূল প্রমাণ করে,আমেরিকানরা চলে যাওয়া শুরু করতেই সেই পরাজিত তালেবানরা আবার অস্ত্রহাতে সংগঠিত হয়ে আফগান সেনাবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে একের পর এক শহর দখল করতে করতে শেষ পর্যন্ত কাবুলের পতন ঘটায় এবং কাবুল দখল করে। তার আগেই রক্তপাতহীন এ অভ্যুত্থানের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি অন্য দেশে পালিয়ে যান এবং পদত্যাগ করেন।এখন তালেবানরা দেশে তাদের সরকার গঠন এবং তাদের শাসন কায়েমের পথে ।


ছবি - এএফপি

এখানে একটা প্রশ্ন সারা দুনিয়ার সবার মনে জাগে তা হলো, ২০ বছর পর আমেরিকান সমর্থনপুষ্ট সরকারের পতন এবং তালেবানের বিপুল বিজয়ে আফগানিস্তানের কী ভবিষ্যৎ বা পরিণতি অপেক্ষা করছে ? তালেবানদের কাছে এত দ্রুত গতিতে আফগানিস্তানের ক্ষমতা চলে যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোও বিস্মিত হয়েছে। কারণ, কেউই আশা করেনি যে আফগান বাহিনী যুদ্ধ করবে না এবং এত দ্রুত হাওয়ায় মিলেয়ে যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার আমেরিকান জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তালেবানের ক্ষমতায় আসার বিষয়ে তার বক্তব্য জানিয়েছেন।বাইডেন তার ভাষনে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং তালেবানের অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ না করার জন্য আফগান নেতৃত্বকেই দায়ী করেন।বাইডেন বলেন, " সত্য হলো, ঘটনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে ঘটেছে। তাহলে কী ঘটেছে ? আফগানিস্তানের রাজনীতিবিদেরা হাল ছেড়ে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আফগান সামরিক বাহিনী হাল ছেড়ে দিয়েছে, এমনকি কখনো কখনো যুদ্ধ করার চেষ্টাও তারা করেনি"। তিনি আরো বলেন, "যে যুদ্ধে আফগান বাহিনী নিজেদের জন্য যুদ্ধ করতে আগ্রহী নয়, সে যুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যরা মারা যাচ্ছে। তারা এমন যুদ্ধ করতে পারে না, করা উচিত নয়"।

যে আফগান সেনাবাহিনী দুই দশক ধরে আমেরিকার প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রে সজ্জিত ছিল, কিভাবে এত দ্রুত তারা তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে? এটা ভেবে এখনো অনেক পর্যবেক্ষক অবাক হচ্ছেন।তালেবানের প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি যোদ্ধা রয়েছে, অন্যদিকে আফগান সরকারের সৈন্যসংখ্যা তিন লাখের কাছাকাছি। তবুও মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কি করে পুরো দেশ দখল করে ফেললো তালেবান।আফগান সরকারের তথা সৈন্যদের এই পরাজয় ও তালেবানদের বিজয়ের পিছনে পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে।আসুন দেখি কি সেই সব কারন যার জন্য তালেবানরা এত দ্রুত কাবুল দখল করে নিয়েছে।


ছবি - বিবিসি

১। ন্যাটোর বিমান বাহিনীর অনুপস্থিতি -

কাবুলভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শফিক হামদাম ডয়চে ভেলেকে বলেন," আফগান নিরাপত্তা বাহিনী আর্থিক ও সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেসব সমর্থন প্রত্যাহার শুরুর পর তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল"।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আতিকুল্লাহ ওমরখাইল বলেন, " গত বছর দোহায় মার্কিন-তালেবান চুক্তি এবং এই বছর আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সেনাদের নিঃশর্ত প্রত্যাহার তালেবানের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে "।তিনি আরো বলেন, " তালেবান নেতারা জানতেন যে আফগান সৈন্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সহায়তা না পেলে কাবুলে সরকার উৎখাত করা সম্ভব"।

২। আফগান সৈন্যদের দুর্নীতি ও হতাশা -

আমেরিকা আফগান সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রে সুসজ্জিত করা বাবদ প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। আর তাই তালেবানদের মোকাবিলায় সৈন্যদের অন্তত কাগজে-কলমে হলেও যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল।তবে কাজের সময় সেনারা কোন ভূমিকাই রাখতে পারেনি।বিশ্লেষকরা আফগান সেনাবাহিনীর পতনের পিছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে মনে করেন -সৈন্যদের হতাশা এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ততাকে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে ২০২০ সালে কাতারের দোহায় মার্কিন-তালেবান চুক্তি হয়। সেটির পরই আফগানদের কাছে এই বার্তা পৌঁছায় যে ওয়াশিংটন আর আফগানিস্তানে আগ্রহী নয়।এর ফলে আফগান সৈন্যবাহিনী হতাশ হয়ে পড়ে।জানুয়ারিতে যখন ট্রাম্পের জায়গায় জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন আফগান কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আরো কিছুটা সময় পাবেন।কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাইডেন দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্ররাও তা অনুসরণ করে।আফগান প্রশাসন এত দ্রুত সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুত ছিল না তা স্পষ্ট। তালেবান দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি এবং আন্তঃআফগান আলোচনাও ঝুলে ছিল।

ইউএস কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আফগান সামরিক বাহিনীর " সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেনা চৌকিগুলোতে খাদ্য এবং গোলাবারুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও সরবরাহ করার ক্ষমতা ছিল না "।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে," শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হবে না, এটা বুঝতে পেরেই বেশিরভাগ সৈন্য জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে তালেবানের সাথে বোঝাপড়া, আত্মসমর্পণ করা বা প্রতিরোধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে"।

৩। গনি সরকারের দুর্নীতি -

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বরাবরই আশরাফ গনি সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে আসছে।দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আফগানিস্তান পেপার্স প্রকল্পের তথ্য অনুসারে, " সেনা ও পুলিশ মিলিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ লাখ ৫২ হাজার সদস্য থাকার কথা বললেও সাবেক সরকার কেবল ২ লাখ ৫৪ হাজার সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে"।পত্রিকাটি জানায়, " কমান্ডাররা অর্থ লোপাটের জন্য কেবল ‘ভুয়া সৈনিকই' তৈরি করেননি, সৈন্যদের বেতন এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিয়েও দুর্নীতি করেছেন"।

যুদ্ধের খরচ পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সংস্থা প্রতিবেদন দিয়েছে যে ‘জবাবদিহিতা ছাড়া খরচের সুযোগই এই ধরনের দুর্নীতিকে উসকে দিয়েছে এবং এটি বন্ধ করার চেষ্টাতেও মনোযোগ ছিল না।সংস্থাটির মতে, " এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়েছে কিনা সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর লড়াইয়ের ময়দানে ফল দিয়েই বোঝা সম্ভব হবে"।এই প্রতিবেদনটি এখন কংগ্রেসের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছে।

৪। দেশ প্রেমের অনুপস্থিতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আনুগত্যহীনতা -

আফগান সেনাবাহিনীর পতনের আরেকটি কারণ ছিল দেশ প্রেমের অনুপস্থিতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আনুগত্যহীনতা ।আফগান নাগরিকরা অনেকেরই নিজের গোত্র বা অঞ্চলের প্রতি যতটা আনুগত্য সে তুলনায় কাবুলের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল অনেক কম। অন্যদিকে তালেবানরা ইসলামপন্থী আদর্শে ঐক্যবদ্ধ। ২০০১ সালে যখন আমেরিকা আফগানিস্তান আক্রমণ করে ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করে, তখন তালেবানরা বলেছিল, তারা ইসলামী আদর্শ ছাড়বে না এবং আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী এবং হানাদারদের উৎখাত করতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

পাকিস্তানী গণমাধ্যমের ভাষ্যকার নাদিম ফারুক পরাচা মনে করেন," কাবুলে সরকারের প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আফগান বাহিনীর আনুগত্য ছিল একেবারেই ভঙ্গুর"।পরাচা আরো উল্লেখ করেন, "১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের পর দেশটির সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ নজিবুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মুজাহিদিনের তিন বছর লেগেছিল, কিন্তু গনির বাহিনী এক মাসও টিকতে পারেনি"।

আফগানিস্তানে শান্তি স্বস্তি কতদূর, তালেবানরাই কী করতে চাইছে আফগানিস্তানে -

সারা দুনিয়ায় এখন যে প্রশ্নগুলি সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচছে তা হলো, আমেরিকাত্তোর আফগানিস্তানে কী হতে যাচ্ছে ? তালেবানরা সেখানে কী ধরনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চলছেন ? তাদের স্বল্প মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যইবা কী? সারা দুনিয়ার সাথে তাদের সম্পর্কই বা কি রকম হবে ? আবার আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ, বিশেষত চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান-ইরান-তুরস্ক, যেসব দেশ তালেবানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি দানের কথা বলছে, তারা আফগানিস্তান থেকে কী প্রত্যাশা করে? এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইউরোপ ও ন্যাটোর দেশগুলো, সেই সাথে ভারত আফগানিস্তানের নতুন পরিবর্তনে কী ভূমিকা পালন করতে পারে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।


ছবি - bbc.com

স্বল্প মেয়াদের যে দৃশ্যপট আফগানিস্তানে দেখা যাচ্ছে , তাতে এটা বুঝা যাচছে যে , তালেবানদের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার আফগানিস্তানে খুব শিগগির প্রতিষ্ঠিত হবে। মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খালিলজাদ তালেবান প্রতিনিধি এবং আশরাফ গনির সাবেক সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আমেরিকান কূটনীতিকদের একটি দল নিয়ে দোহায় রয়েছেন। মার্কিন সরকারের মতে, তালেবানকে যা করতে হবে, তা হলো একটি সরকার গঠনের চেষ্টা করা যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে সরকার মেয়েদের তাদের পূর্ণ ক্ষমতাকে এগিয়ে নেয়ার অধিকারকে সম্মান করে।

পশ্চিমাঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়ার মধ্যেই তালেবান কর্তৃপক্ষ শান্তির বার্তা দিয়েছে। দ্রুত রাজধানী কাবুল ও সমগ্র আফগানিস্তান দখল করার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের পক্ষ থেকে এ শান্তির বার্তা এসেছে। তালেবানরা ইসলামী নীতি অনুসারে নারী অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যান্য দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের কথাও বলেছে তারা। এছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেয়ার নিশ্চয়তা আর সাবেক আফগান সরকারের কর্মকর্তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাবুল থেকে সরিয়ে নেয়া শুরু করে।

আমেরিকা বা তার মিত্ররা মানুন কিংবা না মানুন, আফগানে আমেরিকান পরবর্তী ভূরাজনীতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে একাধিক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি। বিশ্বব্যাপী যে কোন ঘটনায়,যে কোন দেশে যেখানে একাধিক খেলোয়াড় নিযুক্ত হয় সেখানে ঐতিহাসিকভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আর এই ক্ষেত্রে, একাধিক খেলোয়াড় আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।এখন আমেরিকা যতই ইরান, রাশিয়া এবং চীন এই তিনটি দেশকে তাদের কমন শত্রু মনে করুক তারা আসলে সবাই ওয়াশিংটনের সাথে আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।অর্থ্যাৎ তালেবানদের ভবিষ্যত সাফল্য বা ব্যর্থতা আমরিকা থেকে এ তিন দেশের ভূমিকার উপর বেশী নির্ভর করবে।


ছবি - এএফপি

তালেবানরা এখন আগেরবারের থেকে অনেক বেশী পরিণত আচরনের প্রমাণ দিচছে যা থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় তাদের নিকট।কাবুলে উপস্থিতির প্রথম দিনেই তালেবানের উপ-প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের ঘোষণায় বলেন, "তালেবানের মূল লক্ষ্য আফগানিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করা , তবে তারা এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী"। বারাদার আরো বলেন, "তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না। তালেবান মনে করে, আফগানিস্তানের সব শ্রেণীর মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান"।তিনি আরো বলেন, "ইসলামী অনুশাসনের আওতায়, সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার, নারী অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার প্রতি তালেবান সম্মান প্রদর্শন করে। এ ছাড়া, তালেবান নারীর শিক্ষা, চাকরি, সম্পদের মালিকানা ও ব্যবসা করার অধিকার প্রদান করবে"। তবে এসবই হবে ইসলামী আইন ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে।

আর তাই এ কথা বলা যায়,তালেবানদের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা যাই হোক তা দেখার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে কাবুল দখল পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এবং গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি দেখে এটা আশা করা যেতে পারে ভাল একটা কিছুর।

==================================================================
পূববতী পোস্ট -

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ১ Click This Link
" আফগানিস্তানে আমেরিকার ২০ বছর " - আমেরিকা কি নিয়ে এবং আফগানিস্তানকে কোথায় রেখে যাচছে ? এ ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দদের প্রতিক্রিয়া কি ?


তথ্যসূত্র ও সহযোগীতায় - গালফ নিউজ ,বিবিসি, আল জাজিরা,এএফপি ও ডয়চে ভেলে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৪:৩৩
৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৩৫



আজকাল আমি রোজ বিকেলে সিদ্দিকা কবিরের বই দেখে দেখে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, সামুচা বানাই। বাবার বাড়িতে আমি কিছুই রান্না শিখিনি, এমনকি ভাতও টিপ দিয়ে বুঝতে শিখিনি সিদ্ধ হলো নাকি হলো না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়া আর কখনও ফিরবেনা আমাদের মাঝে

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ২:০২


নূর মোহাম্মদ নূরু
আমরা কিছু সামু পাগল আছি যাদের সামুতে না লিখলে কিছুই ভালো লাগে না। নুরুভাইয়া মনে হয় ছিলেন সেই দলে। প্রথমদিকে উনাকে ফুল ফল ও মনিষীদের জীবন নিয়েই লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোক সংবাদঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূর আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৩:০৪



সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে চাই যে, সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু (নূর মোহাম্মদ বালী) আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। গত ২৯ অক্টোবর রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

ছড়াকার সাংবাদিক ব্লগার বন্ধু নুর মোহাম্মদ নুরু ভাইর চলে যাওয়া খুব কষ্টের। আরও বেশী কষ্ট পেয়েছি ব্লগার শায়মার পোস্টে নুরু ভাইয়ের মেয়ের হৃদয়বিদারক লেখা পড়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ মাস গত হয়ে যাবার পর?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৮





ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লিখতে শুরু করলেন, সময় গত হবার পর আপনি পরিচিতি পেলেন, সবাই আপনার পোস্ট, কমেন্ট চায় ; আপনি যথেষ্ট সক্রিয় ব্লগে।হঠাৎ আপনি অসুস্থ হয়ে অনিয়মিত, অসুস্থতায় আপনি মৃত্যুবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×