মিশরের ডায়েরি পর্ব -২। (আব্বা দুলাভাই থেকে শালা অতপর কম্প্রমাইজ)
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিশরে এসে আমার প্রথমে থাকার ব্যবস্থা হলো 'একটি ফরেন স্টুডেন্ট হোস্টেলে। সেখানে ১০ জন বাঙালি এবং আরো বিভিন্ন দেশের ছাত্ররা থাকতো। এক বাংলাদেশি ছাত্র ছিল মাথা থেকে পা পর্যন্ত জোব্বায় ঢাকা। সুন্নতি লম্বা দাড়ি। তবে তিনি অধিক কথা বলার গুনে গুনান্বিত হয়ে নামের আগে সেই খেতাবটাও পেয়েছিলেন। তিনি খেলাধুলা পছন্দ করতেন এবং যথেষ্ঠ মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। এলাকার ছেলে পেলে তাকে খেলার সময় ডেকে নিয়ে যেতো। মজার বিষয় হলো পুলাপান গুলা যখন তাকে ডাকতে আসতো তখন তাকে কেহ দুলাভাই কেহ আব্বা বলে ডাকতো। কেহ ডেকে বলতো আব্বা খেলতে আসো কেহ বলতো দুলাভাই খেলতে আসো। এই সব শুনে বাকি বাঙালিরা হেসে মরতো। আমার প্রথম প্রথম মজার মনে হলেও বিষয়টা খারাপ লাগতো।
১৫/২০ দিন পর আমি হোস্টেল ছেড়ে অনেক দুরে বাসা নিলাম। আমার বাসার এলাকার পুলাপান আবার আমার ভক্ত হয়ে গেল। খেলার সময় আমাকে ডাকতো। রাস্তায় বের হলেই পুলাপান ডাকাডাকি করত। অনেক মজা করতো। আমিও ভাষা শিখার জন্য তাদের সাথে সময় কাটাতাম।
বছর খানেক পর সেই ভদ্রনোক আমার এলাকাতে চলে আসলো। এবং সেই একই কাজ শুরু করলো। কউকে বলতো আমার নাম 'আব্বা' কাউকে বলতো আমার নাম 'দুলাভাই'। সবাই তাকে এই নামেই ডাকা শুরু করলো। বলতো আব্বা তুমি কই খেলতে নাম। দুলাভাই তোমার অপেক্ষায় আছি, এই সব।
আমি তো এটা মেনে নিতে পারি না। আবার সত্য ঘটনা পুলাপানদের বলতেও পারি না।
অবশেষে কৌশল অবল্বন করে পুলাপানদের ডেকে বললাম ওর নাম হলো মনে করো অনন্ত। ও তো বয়সে তোমাদের বড় তাই ওকে ভাই বলে ডাকবা। আর আমাদের দেশে ভাইকে বলে 'শালা'। কাজেই এখন থেকে তাকে 'শালা' অথবা 'অনন্ত শালা' বলে ডাকবা। সবাই রাজি হলো। এবং কথা মত খেলার সময় হলে বিল্ডিং এর নিচে থেকে পুলাপানে 'ঐঈঈঈ শালা' ঐঈঈ শালা বলে ডাকাতো। কেই আবার ডাকতো: 'অনন্ত শালাাাা....... ও শালা অনন্ত........ । ব্যস কেল্লা ফতেহ, এইবার শালায় যাবে কই। এখন এলাকার বাঙালিরা উল্টা ঐ হুজুরকে নিয়ে মজা করতে লাগলো। পরে একদিন সে পুলাপানের সাথে কম্রমাইজে আসলো। বললো আমার নামা শালা ও না আব্বা ও না দুলাভাই ও না। আমার নাম অনন্ত (ছদ্ম নাম) এখন থেকে শুধুমাত্র এই নামে ডাকবা।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
লিখেছেন
করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭

মানুষ আসলে কী?
Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২
নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।
আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
লিখেছেন
সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬

এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন...
...বাকিটুকু পড়ুন
ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের...
...বাকিটুকু পড়ুন