somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর কত জীবন দেব বাংলালিংক দামে………এবার অন্তত একটা দামী জীবন চাই

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


- দোস্ত খবর শুনেছিস?
- না তো। কি খবর?
- বিল্ডিং ভেঙ্গে অনেক মানুষ মারা গেছে, শুনিস নি এখনও?
- কোথায়?
- সাভারে, একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে।
- সেটা বলবি তো, গার্মেন্টস শ্রমিক মারা গেছে, আমি ভাবলাম গুরুত্বপূর্ণ কোন বিল্ডিং বুঝি ভাঙল। গার্মেন্টস ভাঙবে আর লোক মারা যাবে এটা আর এমন কি খবর?

উপরের কথোপকথনটি পুরোটাই কল্পনাপ্রসুত। কিন্তু কল্পনা কি বাস্তব থেকে খুব বেশী দূরে? এইসব নিম্ম আয়ের মানুষদের জীবন হানি কি আমাদের খুব বেশী আন্দোলিত করে? এই যে বিগত এক দশকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির বিভিন্ন বড় ধরনের দূর্ঘটনায় ৭৩০ টি তাজা প্রাণ হারিয়ে গেল সেই দূর্ঘটনা গুলোর কয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হয়েছে? কয়জনকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে? দূর্ঘটনার সঠিক কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের জন্য শিল্প মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে কি? সেইসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা তা কে দেখছে? রাজউক এর যেসব দূর্ণীতিবাজ মানুষের জন্য এই সকল ঝুকিপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠছে, শত শত লোক মারা যাছে তাদের কয়জনের শাস্তি হয়েছে, কয়জন জেলে আছে, ফাসীতে ঝুলেছে কয়জন? কয়জন শিল্প মালিককে শাস্তি তো দূরের কথা; অন্তত গ্রেফতার করা হয়েছে?

কয়েকটি বড় ঘটনার কথা বলিঃ-

১। ২০০৪ সালে নরসিংদী গার্মেন্টস এ আগুন লাগল, মারা গেল ৪৮ জন---কেউ কি কোন শাস্তি পেয়েছে? মিডিয়াতে কিছু আহা আহা উহু উহু মার্কা রিপোর্ট আর নাম মাত্র ক্ষতিপূরণ। তারপর যেই কি সেই। আমরা যে যার মহামুল্যবান জীবন নিয়ে আবার ব্যস্ত।

২। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ এবার বাইপাইল, সাভারে ভেঙে পড়ল নয়তলা স্পেকট্রাম সোয়েটার কারখানা। মারা গেল ৬৪ জন, খোঁজ মেলেনি আরও অনেকের। কারণ?কারণ বিল্ডিং এর দুর্বল ভিত্তি। কারা কারা দায়ী ছিল সেই দুর্বল ভিত্তির জন্য? মালিকপক্ষ, ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার নাকি রাজউক? কি হয়েছিল তাদের? জানি না। জানতে গেলে জানব কারও কিছুই হয়নি। আর হবেই বা কেন? যাদের কোন মুল্য নেই আমাদের কাছে, তারা মরলেই কি আর বাঁচলেই কি?

৩। কোন ভূমিকম্প বা জলোচ্ছ্বাস না হটাৎ করেই তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৬ এ বসে পড়ল ফিনিক্স গার্মেন্টস এর ৫টি তলা। মৃতের সংখ্যা ২৫, মালিক পক্ষের কাউকে গ্রেফতার করা হল না। কেনই বা হবে একজন গার্মেন্টস মালিক দেশের হর্তা-কর্তা- বিধাতা। যে কিনা নিয়মিত চাঁদা দেন বড় রাজনৈতিক দলের তহবিলে, দেশের সূর্যসন্তান তো এরাই!!!

৪। ৮ জন মারা গেল স্মার্ট গার্মেন্টসে আগুন লেগে, তাকে টেক্কা দিল তাজরীন ফ্যাশন্স-আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেল ১১১ জন। পুড়ল গারিব এন্ড গারিব, ম্যাট্রিক্স সোয়েটার আর হামিম গ্রুপ, খুব অল্প কয়েকজন, মাত্র ৫১ জন অগুরুত্বপূর্ণ আদম সন্তান দুনিয়া থেকে গায়েব হয়ে আমাদের মত গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জন্য দুনিয়াটাকে আরও বাসযোগ্য করে তুলল।

বলুন তো এত গুলো কমদামী মানুষ যে মারা গেল, তাদের মৃত্যুর জন্য একটি দামী, গুরুত্বপুর্ণ, সমাজের মাথা, সুশিক্ষিত লোকের কোন শাস্তি হয়েছে কিনা? হয়নি, এবারো হবে না।

কারণ যারা মারা গেছে তাদের সম্বন্ধে আমরা বলি, “ও তো গারমেন্টেসে চাকরি করে”। কি তাচ্ছিল্যটাই না করি। জানি এদের বেতন ৩০০০ টাকা, আরে আমার মোবাইল বিল ই তো আসে এর বেশী। জানি এরা থাকে বস্তিতে বা গলি ঘুপচির মেসে, যেখানে আমরা কখনও পা ফেলি না, যদিও ফেলি নাক ঢেকে দ্রুত সরে যাই। সকাল বেলাতে যাতে এদের সাথে একি বাস টেম্পুতে না উঠতে হয় তার জন্য আমাদের আলাদা শিডিউল। “উফ আজ দেরী হয়ে গেল বা আজ আগে যেতে হবে, কিন্তু ঐ সময় তো গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য হাঁটাই যায় না, আর এদের সাথে এক বাসে যাওয়া যে কি ঝক্কি”। যেন ওরা এক অচ্ছুৎ জাতি, ওদের গায়ের স্পর্শে আমাদের জাত চলে যাবে।

তাই ওদের মৃত্যুতে আমাদের কিছু আসে যায় না, ওরা মরল মানে জনসংখ্যা কমল, আমাদের থাকার এই পৃথিবীটা আরও বাসযোগ্য হল।

কিন্তু সত্যি কথা হল ওরা এই গরমে ঘেমে সারাদিন পরিশ্রম করে তিন হাজারের বেতনে কাজ করছে বলেই আমি আপনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে লক্ষ টাকা রোজগার করি, আপনার আমার উপার্জিত লক্ষ টাকা দেশের বাজেটে কোন (যৎসামান্য) ভুমিকাই রাখে না, কিন্তু সে তিন হাজারে যা করছে তা দিয়ে ই চলছে আমার আপনার এই স্বদেশ। ওরা কাজ করছে বলেই আমরা বেচে আছি, পিজা হাট আর কে এফ সি তে মাস্তি করছি। যার জন্যে আপনি আমি বেচে আছি তার জীবন কেন বারংবার এত সহজে শেষ হয়ে যাবে? যারা দেশকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা মারা গেলে কেন স্থবির হয়ে যাবেনা দেশের প্রশাসন?

যে সকল রাঘব বোয়ালরা এদের ঘাম আর রক্ত শুষে আজ এত বড় তারা কেন থেকে যাবে সবসময় ধরা ছোয়ার বাইরে? আর চাই না সহজে, অকাতরে আমাদের দেশের প্রধান চালিকাশক্তিশ্রেনীর প্রাণ। তাদের জীবন এত মূল্যহীন না যে কেউ সহজে কেড়ে নেবে, কিন্তু তার কোন বিচার হবে না। এবার তথাকথিত দামী মানুষের বিচার হতেই হবে। এ দাবী সময়ের, এ দাবী কৃতজ্ঞতার, এ দাবী ঋণ পরিশোধের।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৩:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাঝারি আকারের একটা ছাগল!

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সকাল ৯:৪০

২৭ বছর বয়সী এক তরুণ কানাডায় স্টাডি পারমিট (ভিসা)-এর জন্য আবেদন করছে আমার সহায়তায়। সে মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে নতুন বিয়েশাদি হলে কুরবানীর সময় কনেপক্ষ বরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েলের রাফা দখলের প্রতিবাদে চোখের জলে ভেজা একটি গান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৭



আমার এই গানটা তাঁদের নিয়ে যাদেরকে দূর্ভিক্ষ ছাড়া কোন শত্রুই পরাস্ত করতে পারবে না। তাঁর হবেন রাসুল (সাঁ)-এর শ্রেষ্ঠ উম্মতদের দলভুক্ত। ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশে তাঁরা থাকবেন।........তাঁদেরকে নিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:১১



০. হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

১. ইদানীং নতুন কিছু হিপোক্রেট দেখতে পাচ্ছি, যাদের কুরবানী নিয়ে অনেক সমস্যা, কিন্তু গোস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়াল জেনারেশন প্রতিবাদ করতে জানে না!

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩



শেখকে যেদিন হত্যা করলো মিলিটারী, আমি তখন প্রবাসে, পড়ালেখা করছি; প্রবাসে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদটা পেয়েছিলাম; সাথে ছিলো অন্য মৃতদের লিষ্ট। আমার মনে এলো, তাজউদ্দিন সাহেব বেঁচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব:

লিখেছেন মোহাম্মদ আলী আকন্দ, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২

৩১ মে ২০২৪ প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য তিন পর্বে বাস্তবায়ন যোগ্য একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধাপগুলি যথাক্রমে --

প্রথম পর্ব:
প্রথম পর্বটি ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×