সেলিম জাহান স্যারের কথাটা ভাববার মত। স্যার টেকসই উন্নয়ণের উপর একটি কনফারেন্সে কথা বলছিলেন আয়ারল্যান্ডে। সবাই ভাবছিলেন চোখ ধাঁধাঁনো কিছু স্লাইডের দেখা মিলবে এবার। অপ্রস্তুত করে দিয়ে স্যার বল্লেন “আমার কাছে কোন ‘পাওয়ার পয়েন্ট’ নেই”; কারণ পাওয়ার পয়েন্টের অনেক পয়েন্ট তবে তার পাওয়ার থাকে না-আবার যদি পাওয়ার থাকে তবে সেগুলো পয়েন্টলেস’। পাক্কা তিরিশ মিনিটের লেকচার সবাই শুনল পিনপতন নিরবতায়।
আমাদের ভার্সিটিগুলোতে শিক্ষাপদ্ধতি এখনো অতি মান্ধাতার আমলের। তবে হাল-ফ্যাশনের প্রতিভু হিসেবে নাকের ডগার ৭৫ ডিগ্রী বরাবর প্রজেক্টর বসেছে ক্লাশরুমগুলোতে। পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করে স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু বিদ্যের দৌড় কতটুকু তা বোঝা যায় যান্ত্রিক গোলযোগ হলে। আধানের পাওয়ার আর স্যারের পাওয়ার তখন সমবিন্ধুতে অবস্থান নেয়। তবে মোহন জাগানিয়া শিক্ষকরা এখনো পাওয়ার পয়েন্ট ছাড়াই সমান আবেদন রাখেন। এ জন্য সিদ্ধ কথা হচ্ছে যদি মানের উস্তাদ দেশে না মিলে তবে বিদেশে যাও। হিউয়েন সাঙরা চীন থেকে নালন্দাতে পড়ে গেছেন। আমাদের বিক্রমপুরের অতীশ দিপঙ্কর নালন্দার চ্যান্সেলর ছিলেন। তবে হাল আমলে ইবনে বতুতার মত ভিসামুক্ত ঘুরে বেড়ানোরও সুযোগ নেই, গড় আয়ুরও সম্মতি নেই। ১০০০ বছর আগে শেখ সাদী ৮০ বার্ষিক পরিকল্পনা করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল জীবনের ১ম ২০ বছর নিজে পড়বেন; পরের ২০ বছর গুরুর কাছে দিক্ষার সময়। এর পরের কুড়ি বছর বিশ্বভ্রমণ; শেষ ২০ বছর জ্ঞান বিতরণ করবেন। ভদ্রলোক ৮০ বছরেই মারা যান। ফরমালিনের এ যুগে তো পঞ্চবার্ষিক বাসতবায়নই চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রযুক্তির এ যুগে ইবনে বতুতা হওয়া লাগে না। বিশ্বের নামি দামি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোর্সগুলোকে অনলাইনে দেয়। আর এগুলোর সমন্বয় করে 'Coursera' নামক একটি সাইট। ইয়েল থেকে শুরু করে মিশিগান ইউনিভার্সিটির নামি দামি অ্যামিরেটাস প্রফেসররা কোর্সগুলো হোস্ট করেন। সারা বিশ্ব থেকে অনেকেই এই দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ডিগ্রী নিচ্ছেন। কোর্সগুলোতে নির্দিষ্টহারে ফি আছে; তবে খুশির খবর হল ফি ছাড়াই প্রায় সব কোর্সে অ্যাকসেস পাওয়া যায় (এ ক্ষেত্রে কোন সার্টিফিকেট দেয়া হয় না)। আলবৎ তাই তো চেয়েছিলেন। থোর বড়ি খাঁড়া, খাড়া বড়ি থোর শিখে মাংশেল সার্টিফিকেট পাওয়ার চেয়ে সার্টিফিকেটহীন বিশ্বমানের সুষম বিদ্যাই তো বেশী পুষ্টিকর।
নিচে কোর্সে অংশ নেয়ার কায়দা বাতলে দেয়া হল।
প্রবেশ: http://www.coursera.org এ যান

মেম্বারশিপ: সাইন আপ করতে হবে। ক্লিক করুন সাইন আপ বাটনে। ফেসবুকে লগইন অবস্থায় থাকলে ফেসবুকের অপশন আসবে। এক ক্লিকেই মেম্বার হয়ে যাবেন।
র্কোস বাছাই: এবার কী শিখবেন তা ঠিক করতে হবে। তার জন্য ক্যাটালগ অপশনে ক্লিক করলে সাইন্স, হিউমেনেটিস, সোসাল সায়েন্স অপশন আসবে। এভাবে পছন্দের কোর্স এ যেতে পারেন। আবার হয়তো চান -বিষয় বাদ আগে ইয়েল থেকে একটা কোর্স করি। তার জন্য হোমপেজে ইন্সটিটিউশনে ক্লিক করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা আসবে। নির্দিষ্ট ভার্সিটিতে ক্লিকের পর তারা বর্তমানে কী কী কোর্স অফার করতছ তার একটা তালিকা দেখাবে। এখন নির্দিষ্ট কোর্সে যাওয়ার পর কে ইন্সট্রাক্টর, কী কী কন্টেন্ট পড়ানো হবে, কোর্স ডিউরেশন, রেফারেন্স বই- সব জানতে পারবেন। এভাবে কোর্স পছন্দ করতে পারেন।

তালিকাভুক্তি: এবার অ্যানরোলমেন্টের পালা। খুব সহজ। কোর্স পেজে ইনরোলম্যান্ট অপশনে ক্লিক করুন। ব্যাস ! সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ছাত্রের সাথে আপনিও বিশ্বমানের শিক্ষাগ্রহণে প্রস্তুত।

পড়াশোনা কেমন চলে?
প্রতিটি ক্লাসইই স্বলদৈর্ঘের ; ১০-১৫ মিনিট ব্যপ্তি। ক্লাশে পদ্ধতি অসম্ভব ইন্টারেক্টিভ।

ভিডিওর মাঝে মাঝেই লেকচারের উপর কুইজ করা হয়। তার উত্তর দেয়ার পরই ভিডিও আবার সচল হবে। কন্টেন্ট অত্যন্ত বৈচিত্রময়। বিভিন্ন ছবি, ধাঁধাঁ, ভিডিও ফুটেজ দিয়ে বিষযবস্তুকে বুঝানো হয়। ক্লাশ এতটাই উপভোগ্য যে তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ায় আপনি বোরিং ফিল করবেন।

আছে অনলাইন ডিসকাসন ফোরাম। এখানে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষুরধার বিশ্লেষণ চলে। যেমন- সোসাল সাইকোলজি কোর্সে চলমান বিতর্কেহর উপজিব্য হচ্ছে- ‘সুন্দরীদের বুদ্ধি কম’। আর যায় কোথায়। বিতর্ক এ পর্যায়ে গড়িয়েছে যে অনেক সুন্দরী আসলেই নিজের বুদ্ধির বৈকল্য জাহির করে ছেড়ছেন।
অনেক স্বাচ্ছন্দে কোর্সগুলো করতে পারেন। সাইটের ভিডিও ফাইলটি প্লেয়ারে এনেও চালানো যায়। এ জন্য ইউসি ব্রাউজার ব্যবহার করলে ভিডিও উপরে কার্সর ধরলে পপ আপ অপশন আসবে। পপ আপে ক্লিক করলে ভিডিওটি নতুন একটি প্লেয়ার চালু হবে।
এ ঘরানার আরেকটি জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে- https://www.edx.org ।পদ্ধতি অনেকটা একই
টিটিতে- http://www.techtunes.com.bd/tuner/masumtofa
-সবার দূরশিক্ষণ শুভ হোক!
-খোদা হাফেজ
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



