somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবু জাকারিয়া ৮৮
আমি মস্তিস্ক নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষনা করছি, মস্তিস্কের কাজের সঠিক রহস্য উদঘাটন ও প্রমান করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। আমি ইতিমধ্যে মস্তিস্কের বেশ কিছু রহস্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি গবেষনার মাধ্যমে।

আমাদের মস্তিষ্ক যেভাবে আমাদের চিন্তাভাবনা করায়....

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন কোন প্রানী মানুষের মত চিন্তাভাবনা করতে পারে কি'না? এ প্রশ্নটিতো একটি মজার প্রশ্ন বটেই, কিন্তু এর উত্তর দিতে হলে বিজ্ঞানের হাতি ঘোড়া সব উপাস্থপন করতে হবে। অর্থাৎ প্রশ্নটি যত সহজ, উত্তর তত সহজ নয়।
আমি সংক্ষেপে এই বিষয়টা নিজের মত করে ব্যাখ্যা করছি। অন্য কোন প্রানী চিন্তাভাবনা করতে পারে কি'না, বুঝতে হলে, প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে চিন্তাভাবনা আসলে কি??? আমি এই লেখাটা যখন লিখছি, তখনও আমাকে চিন্তাভানা করেই লিখতে হচ্ছে। চিন্তাভাবনা ছাড়া লিখা সম্ভব না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কি আমাদের মধ্যে আছে যা আমাদের চিন্তাভাবনা করাচ্ছে। আপনি যখন # চিন্তাভাবনা শব্দটা লিখবেন, তখন প্রথমেই আপনাকে চিন্তাভাবনা শব্দটা শিখে নিতে হবে। তারপর শিখতে হবে কিভাবে লিখতে হয়। তারপর আপনি যখন লিখতে যাবেন, তখন আপনি চিন্তাভাবনা শব্দটি মনে মনে উচ্চারন করবেন, কোন প্রকার বাক যন্ত্র ছাড়াই। তারপর হাতের সাহায্যে চিন্তাভাবনা শব্দটি লিখতে পারবেন। এবার লক্ষ্য করুন, আপনি যখন চিন্তাভাবনা শব্দটি লিখে ফেলেছেন, তখন এই শব্দটি আপনার কাছে কি হিসেবে পরিচিত হবে? হ্যা এটা একটা ভাষার অংশ। অর্থাৎ শব্দ। শুধু মাত্র একটা শব্দ ব্যাবহার করেও মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে হলে অনেকগুলো শব্দকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে হবে। তৈরি হবে বাক্য। আর এই বাক্যই হল চিন্তাভাবনার মৌলিক উপাদান। অর্থাৎ বাক্য ছাড়া চিন্তাভাবনা করা যায় না। এতক্ষনে আপনারা বুঝতে পেরেছেন, ভাষা হল চিন্তাভাবনার মূল উপকরন। ভাষার ব্যাবহার ছাড়া মানুষ কেন, কোন প্রানী ই চিন্তাভাবনা করতে পারেনা। তাহলে, সেটা কিভাবে???? একটু আগেই বলেছি, ভাষার বাক্য হল চিন্তাভাবনার মূল উপাদান, আর শব্দ হল বাক্যের মূল উপাদান। আমরা সবাই জানি, শব্দ কিভাবে সজ্জিত হলে একটি পরিপূর্ণ বাক্য হয়। কিন্তু আমরা জানিনা, বাক্য কিভাবে সজ্জিত হলে সেটাকে চিন্তাভাবনা বলা যায়। এ বিষয়ে আমাদের জানতে হলে জানতে হবে, চিন্তাভাবনা কেন করি? চিন্তাভাবনা একটি প্রানীর জীবনকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। অর্থাৎ চিন্তাভাবনা হল প্রানীর আত্মনিয়ন্ত্রনের উন্নত রূপ। ধরুন, দুটি মুরগী আছে আপনার। আপনি মুরগি দুটির সামনে দুই বাটি খাবার নিয়ে আসলেন। একটি বাটির খাবারে বিষ মিশিয়ে একটি মুরগীকে খাওয়ালেন। মুরগিটি মারা গেল। অপর মুরগিটি সব দেখতে পেল। এবার অন্য বাটির খাবারেও আপনি বিশ মিশালেন। বেচে থাকা মুরগিটি তা দেখতে পেল। তারপরেও সে ওই খাবার খেয়ে নিল। মারা গেল।
এবার মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তা করুন। দ্বিতীয় মুরগীটি যদি মানুষ হত, তাহলে সে ওই খাবারের ধারে কাছেও যেত না। কারন মানুষ বুঝতে পারত। অর্থাৎ মানুষ ভাবতে পারে। আর এভাবে চিন্তাভাবনা প্রানীর জীবন প্রবাহের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে মানুষের মস্তিস্ক ভাষা ও বাক্যের সাহায্যে যেভাবে চিন্তাভাবনা করেঃ এখানে যে বাক্যগুলো মানুষের মস্তিকে তৈরি হবে তা হল, ১.আমার পূর্বের জন ঐ খাবার খেয়ে মারা গেছে। ২.আমিও ঐ খাবার খেয়ে মারা যেতে পারি। ৩.আমি ঐ খাবার না খেলে বেচে থাকব। আমরা যখন কল্পনা করি , তখন আমাদের চোখের সামনে বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে। এখানে ঐ ব্যক্তির জন্য তিনটি কল্প দৃশ্য তৈরি হবে। প্রথম বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তি কল্পনায় দেখতে পাবে, একটি লোক বিষাক্ত খাবার খেয়েছে এবং মারা গিয়েছে। দ্বিতীয় বাক্যে লোকটি কল্পনায় দেখতে পেয়েছে, সে নিজে বিষাক্ত খাবার খেয়েছে এবং সে মারা গিয়েছে। তৃতীয় বাক্যে লোকটি কল্পনায় দেখতে পাবে, সে বিষাক্ত খাবার খায়নি এবং মারাও যায়নি। এর এটা হল চিন্তাভাবনার একটি সয়ংসম্পূর্ন প্রসেস যা তৈরি হয়েছে
তিনটা বাক্যের মাধ্যমে। সুতারাং বুঝতেই পারছেন, একটি বাক্য তৈরি হয় একাধিক শব্দের মাধ্যমে। কিন্তু একটা চিন্তাভাবনা তৈরি হয় একাধিক বাক্যের মাধ্যমে। এই উদাহরনে ব্যক্তি তিনটি বাক্য ব্যবহার করেছে একটি চিন্তাভাবনা করার জন্য। আর প্রতিবারই তার কল্পনায় একেকটি চিত্র ফুটে উঠেছে। বাক্য তিনটির প্রথম দুটি বাক্য ব্যক্তির কল্পনায় বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিল। কিন্তু তৃতীত বাক্যটি ব্যাক্তির কল্পনায় কোন বিপদ সংকেত পাঠায় নি। তাই ব্যক্তি তৃতীয়বার নিজেকে নিয়ে কল্পনায় যা করেছিল, বাস্তবেও সে একই কাজ করেছে। ফলে তাকে আর মারা যেতে হয়নি। এর এভাবেই চিন্তাভাবনা প্রানীদের জীবনের উপর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এতক্ষনে আপনারা বুঝে গিয়েছেন, চিন্তাভাবনার সাথে ভাষার যেমন সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি কল্পনারও। অর্থাৎ ভাষা ছাড়া যেমন চিন্তাভাবনা সম্ভব নয়, তেমনি কল্পনা ছাড়াও। একটি পরিপূর্ন চিন্তাভাবনার জন্য অবশ্যই ভাষা এবং কল্পনার যথাযথ সমন্বয় থাকতে হবে। এবার আপনিই চিন্তা করুন, মানুষের মত ভাষা এবং কল্পনার যথাযথ সমন্বয় অন্য প্রানী দ্বারা সম্ভব কি'না। হয়ত অনেক প্রানী আছে যাদের ভাষা আছে, কিন্তু ঐ ভাষার সাথে কল্পনার সমন্বয় করতে পারেনা। সুতারাং তারা চিন্তাভাবনাও করতে পারবে না। আবার হয়ত অনেক প্রানী আছে যাদের চোখের সামনে কল্পদৃশ্য ভেসে ওঠে, কিন্তু তারা ভাষার সমন্বয় করতে পারেনা। সুতারাং তারা চিন্তাভাবনাও করতে পারেনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বেচে থাকার জন্য বা কোন কাজ করার জন্য চিন্তাভাবনা কতটুকু প্রয়োজন। চিন্তাভাবনা ছাড়া প্রানীরা কিভাবে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারে? হ্যা। চিন্তাভাবনা ছাড়াই প্রানীরা জীবনের প্রয়োজনীয় কাজ করে টিকে থাকতে পারে। বেচে থাকার জন্য চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা থাকতেই হবে এমন কোন কথা নেই। যেমন মুরগীরা তাদের খাওয়ার উপযোগী
খাবার পেলে খেতে থাকবে, দৌড়ানোর সময় আসলে দৌড়াবে। এর সাথে চিন্তাভাবনার কোন সম্পর্ক নেই। খাবার খাওয়ার সময় মুরগীর এটা চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন নেই যে আমি খাবার খাচ্ছি আর খাবার খাওয়ার ফলে বেচে থাকতে পারছি। আবার দৌড়ানোর সময় এটা চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন নেই যে আমি দৌড়াচ্ছি, না হয় বিপদে পড়ব। তাদের দেহ এবং মস্তিস্ক এমন ভাবে গঠিত হয়েছে যে, ক্ষুধা থাকলেই তারা খেতে থাকবে, বিপদ সংকেত পেলেই তারা দৌড়াতে থাকবে। এর সাথে চিন্তাভাবনা করতে পারার ক্ষমতার সাথে কোন যোগসূত্র নেই। কারন, তাদেরতো কোন ভাষাই নেই চিন্তাভাবনা করবে কিভাবে! যদি তাদের চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা থাকত, তাহলে তারা কোন খাবারটা তাদের জন্য বিষাক্ত, কোনটা বিষাক্ত নয়, তা বুঝতে পারত। এতে হয়ত তাদের টিকে থাকার হারও বেড়ে যেত। কিন্তু সব খাবারতো আর বিষাক্ত নয় যে চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা না থাকলে তারা খাবার খেয়ে মারা যাবে! আশা করি আপনারা আমার ব্যাখ্যাটা বুঝতে পেরেছেন। অর্থাৎ চিন্তাভাবনা করতে হলে ভাষা ও কল্পনার যথাযথ সমন্বয় থাকতে হবে। যদি তা না থাকে, তাহলে কোন প্রানী এমনকি মানুষের পক্ষেও চিন্তাভাবনা করা সম্ভব না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×