somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমু হওয়ার দিন গুলো

০২ রা অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাত করে বড় হওয়ার পরপরই ছেলেরা একটা খেলা খেলে। এই খেলার নাম হিমু হওয়া। হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম পড়ে সবার মাঝে এক ধরণের বিভ্রম তৈরী হয়, এই বিভ্রমে পড়ে হঠাত একদিন সিম চেঞ্জ করে ফেলে,সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। যে মানুষটাকে ছাড়া এক মুহূর্ত ও থাকতে পারত না,তাকে অবহেলা করা শুরু করে,মানুষটা কেঁদে কেঁদে ভালোবাসা ভিক্ষা চায়। তারপর একদিন একটা হলুদ পাজ্ঞাবী কিনে ফেলে। এটা এই খেলার ড্রেজ। সেই পাজ্ঞাবী পরে এবার সে রাত বিরাত ঘোরা ফেরা শুরু করে। এসব করে বড়ই আনন্দ পায়। এ আনন্দ যাইতাই আনন্দ না। হিমু হওয়ার আনন্দ। এই আনন্দে রাত বিরাত ঘোরা ফেরা করা যায় এটা কোন সমস্যা না। এই আনন্দ পাওয়ার পরপরই সে এবার অন্য ধরণের ঘোরের মধ্যে চলে যায়। সে ভাবা শুরু করে 'সে যা বলবে তাই ঘটবে'। এরপর খেলার মাঝে সে পুরোপুরি ঢুকে যায়। স্যান্ডেল পরা বাদ দিয়ে দেয়। পাজ্ঞাবীর পকেট কেটে ফেলে । প্রিয় মানুষদের সাথে লুকোচুরি খেলতে থাকে। হঠাত হঠাত তাদের সামনে উপস্থিত হয়। মুখে দাঁড়ি গোঁফে ভরিয়ে ফেলে নিজেকে হিমু হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। বই খাতা ছেড়ে দেয়। যুক্তি দাঁড় করায় হিমুদের কোন পড়াশোনার দরকার হয় না। কারণ পড়াশোনা করে মানুষ টাকা ইনকাম করার জন্য। হিমুদের যেহেতু টাকার দরকার হয় না। তাই পড়াশোনার ও দরকার নেই। খুবই জটিল যুক্তি। এই যুক্তি অত সহজে ভাঙ্গা যায় না। তারপর হঠাত করে একদিন সে তার রেজাল্ট পায়। ফেইল। এটা কোন বিষয় না হিমুদের পাশ ফেইলে কিছু যায় আসে না। এরপর সে পুরোপুরি ভবঘুরে হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে তার এই ঘোর কাটতে থাকে। আর যখন পুরোপুরি কেটে যায় তখন আর কিছুই করার থাকে না। এসএসসি তে গোল্ডেন পাওয়া ছেলে ইন্টারে ফেইল করে। বা কোথাও চান্স পায় না । এবার হয়ে যায় আসল হিমু। প্রতি চাঁদনি রাতে বাসা থেকে বের হয়। মাইলের পর মইল খালি পায়ে হাঁটতে থাকে। হঠাত করে একদিন সে অন্যরকম একটা শূন্যতা অনুভব করে। কেঁদে কেঁদে ভালোবাসা ভিক্ষা চাওয়া মেয়েটার কথা মনে পড়ে যায়। কাঁপা কাঁপা হাতে নাম্বারটাতে ডাইল করে বলে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তোমার বাসার বারান্দায় আসো। আমি দশ মিনিটের মাঝে আসছি। আর হ্যাঁ একটা নীল শাড়ি পরে আসবে। চুল খোলা থাকবে। মেয়েটা খুব যত্ন নিয়ে সাজুগুজু করে বারন্দায় বসে থাকে। ছেলেটার মধ্যে আবার পুরোনো বিভ্রম জেগে ওঠে। সে মেয়েটাকে আর দেখতে যায় না। রাস্তায় নেমে পড়ে। বাইরের উথাল পাতাল জোঁছনার সাথে নিজেকে মিশিয়ে ফেলে। পেছন থেকে একটা কুকুর করুণ সুরে ডেকে ওঠে। সে পিছনে ফেরে, আবার তার মনে হতে থাকে সে যা বলবে তাই ঘটবে। এখন যদি সে কুকুর কে ডাক দেয় কুকুরটা ছুঁটতে ছুঁটতে তার কাছে চলে আসবে। কুকুরটাকে সে আস্তে করে ডাক দেয়। কুকুরটা কুঁই কুঁই করে তার পাশে হাঁটতে থাকে। বহুদিন পরে পুরোনো আনন্দটা আবার মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠে। এই আনন্দ যাই তাই আনন্দ না। হিমু হওয়ার আনন্দ।।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৫:১০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর কত দিন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাংলাদেশের শিল্পী সমাজ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩



কথা হচ্ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক ডীন প্রফেসর নিসার হোসেইন স্যারের সাথে। আমি কিছু চিত্রকর্ম কিনেছিলাম। সেইগুলোর কয়েকটি নিয়ে আমার মনে সন্দেহ তৈরী হওয়ায় তাঁর সাথে যোগাযোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জিনিস মানেই খারাপ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



আমার নানী ৫ বোন ও এক ভাই। এই ৫ বোনের মধ্যে একজন নানী আছে; যার ধ্যান ধারনা পুরানা আমলের। তিনি নতুন জিনিস পছন্দ করতেন না। যেমন: তার মেয়ের জামাই ট্রলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাব ইয়াদ রাখহা জায়েগা

লিখেছেন শূন্য সময়, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫২

বিডিআর ম্যাসাকারের বিচার জীবনেও হবেনা। হলফ করে বলতে পারি।
কার বিচার করা হবে? হাসিনার? তাপসের? শেখ সেলিমের? সর্বোপরি, ভারতের?
কে করবে বিচার? বিচিহীন বিএনপি যে ভারতের পারমিশনে দেশে ফিরেছে? যার মুরোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান কীভাবে মুখে মুখে ছড়িয়ে দেওয়া যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৮



বাংলাদেশের মতো একটি দেশের সরকারের প্রথম কাজ কি হতে পারে? আমার মতে – দেশের দরীদ্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই সবার আগে সরকারের প্রথম টার্গেট হওয়া উচিৎ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলসিরাত

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


দিনটা ছিল দুর্যোগময়। সকাল থেকে বৃষ্টি- জলে ঢেকে গিয়েছিল রাস্তা-ঘাট। ঢেকে গিয়েছিল ঢাকনা খোলা ম্যানহোল। পরিণত হয়েছিল অদৃশ্য মরণকূপে। এর মধ্যেই মানুষ বেরিয়েছিল কাজে। উদ্বিগ্ন আর ক্ষুদ্ধ মানুষেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×