
১. আমার এক ভারতীয় কলিগ(হিন্দু)-এর সাথে তাদের দেশের গরু বিষয়ক(!) (মানে গরুর গোশত খাওয়া, বিক্রি করা নিয়ে পিটুনি-হত্যা ইত্যাদি) আলোচনা চলছিল। সে আমাকে বললো, আমি যদি সৌদি আরবে বা কোন মুসলিম দেশে গিয়ে বলি, তোমাদের আল্লাহ খারাপ, খাল্লিবাল্লি তাহলে কী আমার কল্লা থাকবে? না। অথচ আমাদের দেশের মুসলমানরা(কিছু) আমার দেবী/ভগবানকে নিয়ে বাজে মন্তব্য(অশ্লীল, নগ্ন) করে তবু তাদের কিছু করা হয় না। হিন্দুদের জন্য গরু হচ্ছে মা-এর মত। তাই তারা আবেগ বেশী দেখাতেই পারে। অবশ্য আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম যদি নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে সবার জন্য করা উচিত। গরুর মাংস রপ্তানি নিষিদ্ধ করা উচিত। সে স্বীকার করেছে সেটা। আবার এটাও স্বীকার করেছে তার রাজ্য (কেরালা) সহ অনেক রাজ্যেই এটা বড় সমস্যা নয়। এমনকি তারাও গরুর গোশত খায়!!
২. সনু নিগাম একটা টুইট করলো। তার আজানের শব্দ ভালো লাগে না। তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। কেন জোর করে তাকে আজান শুনতে হবে, ব্লা ব্লা ব্লা। কিছু ক্রেজি (লাইক/শেয়ার দেনেওয়ালা মুসলমান) অনলাইনে ঝাঁপিয়ে পড়ল এই মন্তব্য নিয়ে। এক ক্রেজি হুজুর তার নামে ফতোয়া জারি করলো। আমরাও বাদ যাবো কেন? হুজুগে জাতি বলে কথা!
৩. সনুর মন্তব্যর পর প্রিয়াংকা চোপড়া টুইট করলো, তার নাকি আজানের সুর ভালো লাগে। আরো অনেক নন মুসলিম সেলিব্রিটিও সনুর মন্তব্যের সমালোচনা করল। আমাদের দেশের পিন্টু ঘোষও জানিয়েছেন ভালো লাগার কথা। আবার এসব মন্তব্য, খবর পেয়ে আমাদের ও তাদের কিছু(আসলে অনেক) ক্রেজি (লাইক/শেয়ার দেনেওয়ালা মুসলমান) খুশিতে গদগদ হয়ে গেল। তারা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল প্রিয়াংকা, কঙ্গনা, আজানের পক্ষে বলাতে!
৪. অথচ সনুর মন্তব্যে কিংবা প্রিয়াংকাদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রকৃত মুসলমানদের কোন বিচলিত হওয়ার বা আশ্বস্ত হওয়ার কিছু নেই। একজন অমুসলিমের কাছে আজান খারাপ লাগতেই পারে। উইকিপিডিয়ার হিসাবে প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশ-এ এই মন্তব্যে দুঃখিত হওয়ারও কিছু নেই। ঠিক তেমনি হিন্দু বা অন্য ধর্মের আচার যদি কোন মুসলমানের ভালো না লাগে তাহলে তাদের(অন্য ধর্মাবলম্বী) দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই। তারাও নিশ্চয়ই চাইবে না কোন মুসলমান তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সার্টিফিকেট দিক! (দিলেও ঈমান থাকবে না!)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



