আল্লাহর কি আকার আছে? নাকি নিরাকার ?
এই নিয়ে তর্কের আর শেষ নেই। এবং প্রত্যেকেই ভিন্ন মতকে কাফির বলে থাকে । আমি মনে করি ২ টি মতবাদই কুফুরি মতবাদ । ভুল হলে আল্লাহ ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু ।
আগেই বলে রাখি, পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞানও যদি না থাকে তাহলে এটা পড়ার কোনো দরকারই নেই। আর যদি পড়েন, তাহলে বুঝে মেনে নিন,না বুঝলে যারা বুঝে তাদের জিজ্ঞাস করুন, যদি না মানেন তাহলে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুন। গালাগালি করে মুর্খের পরিচয় দিবেন না ।
যারা বলে আল্লাহ নিরাকার, তারা আকারের সাথে তুলনা করেই নিরাকার বলে, আপনার কাছে প্রশ্ন, আপনি কিভাবে জানলেন আল্লাহ নিরাকার ? আল্লাহ কি আপনার কানে কানে বলেছেন যে আল্লাহ নিরাকার। আকার নিরাকার এর পার্থক্য জিজ্ঞাস করলেই তো আপনার হার্ট ব্লক হয়ে যাবে । কিছু মুর্খ পীর সুফিগন এই হিন্দু মতবাদ আবিষ্কার করেছে ।
আবার যারা বলে আল্লাহর আকার আছে তারা তো সরাসরি আল্লাহকে আল্লাহর সৃষ্ট আকারের সাথে একাকার করে ফেলল। আল্লাহকে আকারের সাথে তুলনা করার সাহস কোথা থেকে পেল মানুষ । যেখানে আকার নিরাকার দুই ধরনের সৃষ্টিই রয়েছে মহা বিশ্বে । বেশি দূরে যেতে হবে না, সমস্ত পদার্থের দিকে তাকান, আকার আছে । আবার শক্তির দিকে তাকান, তাদের আকার নেই । থাকলেও সেটা মানুষের বোধগম্য নয় । একটা গ্রহের সাথে অন্য গ্রহের আকর্ষণ শক্তিকে লক্ষ্য করুন । কিছু বোধগম্য হচ্ছে কি ? তার আকার আছে কি ? নাকি নিরাকার ? অস্তিত্ব হীন তো অবশ্যই না । তাহলে এগুলো যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাকে কেন আকার নিরাকার বলে বিশেষন দিচ্ছেন ।
আকার হচ্ছে সৃষ্ট বস্তু সমুহের যা পরমানু দিয়ে গঠিত । আকার হচ্ছে তা, যা গঠিত হয়েছে । কিন্তু আল্লাহ তো গঠিত হন নি, আর আল্লাহ তো সৃষ্টি ও হন নি, যে তার আকার থাকতে হবে । তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। যেই সত্তার সমগ্র সৃষ্টি মানুষ বোধে আনতে অক্ষম, সেই সত্তাকে কেউ আকার দিচ্ছে, আবার কেউ নিরাকার দিচ্ছে । আল্লাহ মহান, আল্লাহ মানুষের সমস্ত ধারনা থেকে পবিত্র । সমস্ত তুলনা থেকে পবিত্র । মুর্খরা তাকে কি আকার নিরাকার এর তুলনা থেকে পবিত্র মনে করে না ?
অনেক সৃষ্টি আছে যার আকার নেই কোনো। থাকলেও সেটা মানুসের উপলব্ধি যোগ্য না । যেমন চুম্বক বা আলোক শক্তি, মহাকর্ষ, অভিকর্ষ । এক কথায় আমরা সাধারন ভাবে বলতে পারি আকার হচ্ছে ত্রিমাত্রিক, আকার হচ্ছে তা, যা স্থান দখল করে । আমরা আল্লাহকে কোনো ভাবেই মাত্রার মধ্যে সিমাবদ্ধ করার এখতিয়ার রাখি না । আর তিনি স্থান সৃষ্টি করেছেন । তার তো স্থান দখল করার প্রয়োজন নেই । তিনি এসব আকার আকৃতি, স্থান দখলের প্রয়োজনিয়তা, মাত্রার সিমাবদ্ধতা থেকে পবিত্র । আমাদেরকে বুঝতে হবে যে অস্তিত্ব থাকতে হলে আকার থাকতে হবে এমন নয় ।এইযে বর্তমান ভারচুয়াল বিশ্ব, কত কিছু ঘটে যাচ্ছে, মানুষের বাস্তব ছবি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে, তার কি কোনো আকার আছে ? নেই । এসব আমরা ধরতেও পারি না দেখতেও পারি না। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে ঠিকই ধরা যায়। এসব যন্ত্রের যে ক্ষমতা তা আমাদের নেই, যা দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিকে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য করতে পারি। আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে আমরা সকল আকারকে উপলব্ধি করতে পারি। মুসা (আঃ)এর তো এমন ইন্দ্রিয় ছিল, যা দারা আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিল। তার পরের ঘটনা সবার জানা । আমরা শুধু আকার এবং আকার হীন শক্তি পর্যন্ত ধারনা করতে পারি, তার বাইরের কিছুই চিন্তা করার ক্ষমতা নেই । যদি চিন্তা করতে যাই তাহলে ভুল করব ।
আসলে আমরা মানুষ তো, আকার আর নিরাকার এই দুইটা ছাড়া কিছুই আমরা বুঝি না । আমরা মনে করি যার আকার নাই তাই নিরাকার । হ্যা, বাস্তব পৃথিবীর সাপেক্ষে অস্তিত্ব দুই প্রকার । আকার এবং নিরাকার । এক কথায় পদার্থ এবং অপদার্থ । এর বাইরে আমাদের জানা নেই । ফেরেস্তারা আলোর তৈরি । তারা যেকোনো কঠিন পদার্থের মধ্যে দিয়ে চলতে পারে, এখানে কি ভাববেন? তাদের আকার আছে? নাকি নিরাকার । মানুসের নিকট বাস্তব জগতের সাপেক্ষে তাদের আকার নেই । কারন আকার থাকলে অন্য একটা আকারকে ভেদ করতে পারতো না । তারা আলোক শক্তির তৈরি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ জিবন্ত করেছেন । আলোর ক্ষুদ্র তরংগ গুলো যেভাবে কঠিন পদার্থ ও ভেদ করতে পারে, তারা সেভাবেই পারে । আর এই আকার নিরাকার, পদার্থ অপদার্থ দুইটাই আল্লাহর সৃষ্টি । আল্লাহ এসব থেকে মুক্ত । আসলে আকারের সাথে তুলনা করে আল্লাহকে নিরাকার সাবস্ত করা অথবা অস্তিত্ব প্রমান করতে গিয়ে আকার আছে বলার মত ভয়ংকর দুঃসাহস দেখানো মানুসের শোভা পায় না । কারন মানুষ নিতান্তই জ্ঞানহীন ।
আল্লাহ নিজে তার আকার সম্পর্কে যে বর্ননা দিলেন তার কি হবে তাহলে ?
দেখেন আমরা যা বুঝিনা তা যদি আমাদেরকে বলা হয় তাহলে সেটা কি কাজে আসবে ।
আর আমাদের ইন্দ্রিয় যে অনুভুতি পেতে পারে না, ক্ষমতা নেই যা অনুভব করার, সেটা আল্লাহ ভালই জানেন । আর তাই হয়তো আমাদের ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য করার জন্য আল্লাহ এমন বর্ননা দিয়েছেন । কিন্তু তার বাস্তব ধরন আমাদের জানা নেই । আল্লাহ বলেছেন তার হাত আছে, পাও আছে, রং আছে । আমরা তাই বিশ্বাস করব । কিন্তু তার ধরন কেমন, আকার আছে নাকি নিরাকার, রং কি এই পৃথিবীর সাত রঙ্গের মত? এসব তুলনা করতে যাবো না ।আল্লাহ আরশের উর্ধে আছেন, আচ্ছা তার কি কোথায়ো থাকার প্রয়জনিয়তা আছে? তিনি আছেন তার সর্বোচচ ক্ষমতা,তার বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য। আল্লাহর কুরশি আছে, তাই বলে কি তার বসে থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে? কখনই না । আসলে মানুস যেভাবে বুঝতে পারবে সেভাবেই আল্লাহ মানুষকে বুঝিয়েছেন । বিভিন্ন বর্ননা দিয়েছেন যাতে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে । মানুষ সামান্যই জ্ঞান রাখে সৃষ্টি সম্পর্কে । স্রষ্টা সম্পর্কে এত পরিষ্কার ধারনা রাখার দাবি করা ঠিক না ।
আমরা কোনো ভাবেই আকার আর অস্তিত্বকে আলাদা করে প্রমান করতে পারি না। যদি পারেন তাহলে দেন তো দুইটা উদাহরনঃ আকৃতিহীন অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বহীন আকৃতির । পারবেন না । কারন মানুষ এই দুইয়ের মধ্যে সিমাবদ্ধ । সিমাবদ্ধ জ্ঞান আর সিমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে অসিমের ধারনা করতে যাওয়া বোকামি আর সিদ্ধান্ত দেওয়া মুর্খতা । আল্লাহ কোনো কিছুর মত না, কোনো কিছুই আল্লাহর মত না । যখন ভাবনা আসবে আল্লাহ এমন, বা তেমন, তখনই সাথে সাথে মনে করবেন “ যেমনটা ভাবলাম, আল্লাহ নিশ্চই তেমন না । কারন মানুষ ততটুক সঠিক ভাবে ভাবতে পারে, যা সে শুনেছে, দেখেছে, বুঝেছে, উপলব্ধি করেছে, অনুভব করেছে । তার বাইরে যা কল্পনা করবে, তা সত্য হবার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে প্রমান করতে পারলে ভিন্ন কথা । কিন্তু আল্লাহর কোনো কিছুই তো আর এই জগতে প্রমান করা যাবে না, যা তিনি স্পষ্ট করেন নি ।
সর্ব শেষ আমি যা বললাম তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা কত সেটাও আল্লাহ জানেন । আমরা সঠিকভাবে কোনো ধারনা করতে সক্ষম নই।
মাথায় যা আসলো লিখলাম । ভুল হলে ধরিয়ে দিয়েন । প্রত্যেকেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আজ থেকে আকার নিরাকার মুলক কোনো তর্ক যেন না করি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


