somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাঁদের উপযোগীতা ও বেত শিল্পের পুনর্জীবন লাভ

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাখিরা সব ফিরে আসে ডেরায়, আকাশে গোধূলীর রাতুল পান করতে করতে এখন সন্ধ্যা ঘনায়, আমরা এখন অন্ধকারে বসে থাকি, সন্ধ্যার পর পর থেকে । আগেও আসতো সন্ধ্যা, আগেও আমরা বসে থাকতাম অন্ধকারে , গাছের পাতার শরীর ধরে আসতো গায়ে মিন্টের স্বাদ বুলিয়ে দেয়া বাতাস । এসে ক্ষাণিক থেমে গা জুড়োত । এখন গাছ নেই, বাতাস নেই । মিগালোম্যানিয়ার উপসর্গ উচু উচু চিরযুবক দালান গুলো বাতাস আগলে দাঁড়িয়ে থাকে । আমাদের ঘিরে থাকে শুধু অন্ধকার আর শরীর জুড়ে ক্লেদাক্ত ঘাম ।

লোডশেডিং এখন আমাদের নাগরিক জীবনের প্রধান অনুভব । বিদ্যুৎ থাকাটা একটা দুর্ঘটনা মনে হয় । প্রায় সারাদিন ই বিদ্যুত নেই, রাতেও খুব ব্যতিক্রম হয় না । একটু আগে, এক বন্ধু মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠালো -

বাসা থাইকা বাইর হইসি সকাল ৮ টায়, যাওয়ার সময় দেখি ইলেক্ট্রিসিটি নাই । অফিস থাইক্কা বাসায় ফিরসি সন্ধ্যা ৬ টায়, একটু পরে ইলেক্ট্রিসিটি আসলো, হাত মুখ ধুয়ে বসলাম নেটে, বসতে না বসতেই আবার গেল গা । বিরক্ত হইয়া, গেলাম স্টুডেন্টের বাসায়, পড়াইতে । এইখানেও নাই । বাসায় ফিরা আইলাম । যাহ বাবা, এখনো আসে নাই । রেলিং নাই সিড়ির, আন্ধাইরে হাতায়া হাতায়া উঠলাম । এখন আইসে আবার । ভাত খামু । জানিনা খাওয়া শেষ করতে পারমু কি না ! তবে ১২ টার পরে আবার যাইবো, ১ টায় আসবো -- এইটা রুটিন ।

গত সরকারের আমলে বিদ্যুত খাতে যে রকম দুর্নীতি হয়েছে, তা আর কোন খাতে হয়েছে বলে মনে হয় না । সিরাজগঞ্জের এম পি প্রাক্তন বিদ্যুতচোরা ইকবালের বাড়িটায় শর্ট-সার্কিট দিয়ে পুড়াতে পারলে শান্তি পেতাম ! রাত ৮ টার পরে সকল দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায় । তারপরও বিদ্যুতের এই অবস্থা ! যদি ৮ টার পরেও দোকান খোলা থাকতো, তাহলে তো মনে হয় শাহাজীবাজার আর কাপ্তাই বিদ্যুত কেন্দ্র ও মোমবাতিতে চালনো লাগতো ।

কলকারখানার কথা বাদ ই দিলাম । এইগুলা সরকারী উদাসীনতা আর বিদেশী বেনিয়া আগ্রাসনে প্রায় বিলুপ্ত । প্রোডাক্টিভিটির মন্দন সবসময় ই ছিল । এখন সেই মন্দনের ত্বরণ হচ্ছে, এই যা !

এস এস সি পরীক্ষা শুরু হয়েছে । কয়দিন পরে শুরু হবে এইচ এস সি । এই দুঃসহ অভ্যস্থ গরম আর মোম বাতির অনভ্যস্থ আধো-অন্ধকারে কিভাবে যে পড়বে বাচ্চাগুলি, ভেবেই মায়া লাগছে । হয়তো মা পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করবেন , একটু পরপর উঠে গিয়ে শরবৎ বানিয়ে দেবেন গরম পানিতে ( ঠান্ডা পানি নাই, কারন ফ্রিজ বন্ধ ।) মধ্যবিত্ত মায়ের চিরকালীন টানাপোড়েনের সাথে ৪০ টাকা কেজি চিনির সাথে মারামারি, অতঃপর জন্ম নেবে গরম শরবৎ । সেই শরবৎ খেয়ে বাচ্চাগুলার গলা পরীক্ষার হলে ঢুকার সময় যেমন শুকায় তারচেয়ে বেশি শুকাবে ।

সুতরাং আমাদেরকে সামন্ত যুগের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যগুলো পুনঃ অভ্যাস করতে হবে ।

ষ্ট্রীট লাইট গুলো যখন মৃত একলা দাঁড়িয়ে অন্ধকারে চাঁদের আলোর মায়াবী রূপোলী ব্যাংগ সহ্য করবে, তখন পথ চলতে হবে চাঁদের আলোতে । অমাবস্যায় তো চাঁদ নেই । কী করা? হুম ! জোছনা রাতে পাওয়া পথ সম্পর্কিত জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে । অমাবস্যায় কোন অচেনা রাস্তায় যাওয়া যাবে না । এইসব হামবাড় কর্পোরেট নাগরিকদেরকে চাঁদের গুরুত্ব বোঝাতে লোডশেডিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম ।

বেতশিল্প প্রায় মৃত । বেতশিল্পের পুনঃর্জীবন লোডশেডিংযের অবদান হতে পারে । হাতপাখা, শীতল পাটি, মাদুরের বাজার সরব হলো বলে । তাড়াতাড়ি কিনে ফেলুন । অভাগা দেশে ভালো ও অতি প্রয়োজনীয় জিনিস তাড়াতাড়ি বাজার বিতাড়িত হয় যে !
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:০৩
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×