somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শি

২০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আর অনির্বাণ হাটছিলাম সীন নদীর ধার ঘেসে , জনাকীর্ণ প্যারিসের রাস্তা হাটা আমাদের প্রবাস জীবনে "দেশে তিনবেলা ভাত খাওয়ার" মত ! অনেকক্ষন ধরে চুপচাপ হাটার পর আমার একটু খোচাতে ইচ্ছে হল । !
"ধুর শালা তুই একটা খ্যাত !"
অনির্বাণ অবাক চোখে তাকিয়ে বলল " কেন ! "
"শালা প্যারিসে থাকিস, আশেপাশে ফ্যাকাল্টিতে কত ফুরফুরে ফরাসি তন্বীরা ঘুরে বেরায় , তোকে কোন দিনই শুনলাম না কারো ওপর ক্রাশ খেয়েছিস ! তুই শালা একটা আস্ত বোর! তোরে দিয়ে কিছু হবেনা !"
"হু হু তুই যা ভাবিস , ভাব ! "
আমি খানিকটা হতাশ হয়ে বললাম," আরে শালা বল না ! কাকে ভাল্লাগে তোর ? ঐ যে অ্যাান্দ্রে মেরি ওই মেয়েটাকে না ? বল না বিশ্বাস কর আমি লাইন মারবোনা , বল শালা" ।
"ধুর ওসব ক্রাশটাশ আমায় দিয়ে হবেনা ! "

আমার তখন সন্দেহ হল , শালা তলে তলে দেশে প্রেমিকা রেখে আসেনিত ? ভুরু কুচকে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম , " ভাই বলত তোর কাহিনী কী ! মানে দেশে কেউ আছে না ? বাহ আমার হাড়ির সব খবর জানিস আর আমাকে তোর প্রেমের সুবাসটাও
পেতে দিস না "

"আরে ভাই তুই আবার কি ভাবিস ধুর ! ওরকম কিছু না আসলে আমার কাউকে ভাল লাগে না , আমি কী করবো বল !"
"আসলেই ? তোর কখনই কাউকে ভাল ... ? "
"হু লেগেছিল একজনকে " সীনের শান্ত পরিষ্কার পানির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অনির্বাণ ।

" আমরা পাড়ার দক্ষিণ দিকের মাঠে খেলতে যেতাম , মাঠের পাশে বড় একটা দেয়ালঘেরা বাড়ি ছিল ! সম্ভবত মাঠটাও ওই বাড়ির মালিকের , প্রাচীরের ওপারে অনেক আম জাম পেয়ারার গাছ উকি দিত! কিন্তু আমাদের কখনো চুরি করে খেতে হয়নি ,
প্রাচীরের ওপার থেকে আমরা পেড়ে খেতাম কেউ কিছু বলত না! একদিন বিকেলে আমাদের খেলার বলটা প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে চলে গেল! সেই প্রথমবার ও বাড়িতে প্রথম ঢুকলাম। বাড়ির সদর দরজা পেরোয় লম্বা ইটের রাস্তা সামনে এগিয়ে দুটো বাক নিয়েছে ।
একটা ধরে এগোলে ঘরগুলো দেখা যাচ্ছে আর আরেকটা বাম পাশের বাগানের দিকে চলে গেছে ।

আমার মনে হল এ বাড়িতে অনুমতি না নিয়ে বল খোজা ঠিক হবেনা , ইটের রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে আমার একজনের সাথে দেখা হয়ে গেল । তিনি বললেন , " খোকা তুমি কে ? কাকে খুজছ ? "
"আসলে মাসিমা, আমাদের খেলার বলটা প্রাচীর টপকে এপাশে পরে গেছে , তাই খুজতে এসেছিলাম" লজ্জিত আর ভীত আমি উত্তর দিলাম । উনি হেসে বললেন " ও তাই বল ! আচ্ছা সম্ভবত বাঁ পাশের বাগানে পড়েছে , তুমি বাগানে খুজে নাও , ওহ তা তোমার নামটা জানা হল না !"
আমি নাম বলে বাগানের দিকে হাঁটতে লাগলাম।

ঘাসের দিকে তাকাতে তাকাতে বল খুজতে খুজতে আমি যখন সামনে আগাচ্ছিলাম , পেয়ারা গাছটা পেরোতেই আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম !

যেখানে ঘাস একদম সবুজ আর অনেকগুলো আমের গাছ ঠিক তাঁর মাঝে একটা পাটি বেছানো আর তাতে সরস্বতী ঠাকুর বসে আছেন ! আমি চোখ কচলে আবার তাকালাম হু ঠিক দেখছি ! সাদা শাড়ি, কোমড় পর্যন্ত লম্বা চুল , সামনে একটা মোটা বই নিয়ে উবু হয়ে পাটিতে শুয়ে বই পড়ছেন !
কিন্তু বীণা দেখতে পাচ্ছিনা তো কোথাও ! অবিকল সরস্বতির মত কোমল মুখ , কী গভীর মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছেন । কী একটা শান্তি ভাব তাঁর চোখে মুখে আমি যে এসে দাড়িয়েছি উনি বোধয় বুঝতেই পারেনি ! আমি ভাবলাম আমি বোধয় স্বর্গে চলে এসেছি ভুল করে ।
হটাত উনি বোধয় আমাকে দেখতে পেলেন , আমার অবাক ভাবটা কেটে গেল যখন উনি বললেন , " কে ভাই তুই?"
তুই ?
আরে হা উনি তো দেবী নন ! উনিশ কুড়ি বছরের কেউ ! আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি উনি আমাকে তুইই ডাকবেন ! আমি মাথা চুল্কে বললাম , আমার নাম অনু , আমাদের খেলাম বলটা এপাশে হারিয়ে গেছে "
উনি অবাক চোখে বললেন , " ও তাই ? আমি কোন শব্দ পাইনি তো ! আচ্ছা খুজে দেখ !"
এই বলে তিনি পড়ায় ফিরে গেলেন ।

আমি কোন রকমে বলটা খুজে নিয়ে ঝড়ের বেগে বেড়িয়ে এলাম বাইরে ! ওদিন আর খেলতে পারিনি ।
তারপর থেকে আমার আর ভাল লাগেনা কিছুই , আমি যেদিকেই যাই যাই করি আমার শুধু মনে পড়ে একজন সাদা শড়িতে খোলা চুলে বই পড়ছে ঘাসে উবু হয়ে শুয়ে !
আমার মাঠে যাওয়া কোনদিনই বাদ যায় না , বাদলা দিনেও আমি সবাইকে টেনে মাঠে চলে যেতাম আর বল আমার চেয়ে বেশি ও বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা আর কেউই করেনি বোধয় !
দুএকবার যে বল আর যায়নি তা না ! কিন্তু তাকে আমি আর দেখিনি ...

বুঝলি, সেই শুভ্র শাড়ি , সেই কালো চুল আর উবু হয়ে বসে বই পড়া ....... "



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৪৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×