
ফডু ক্রেডিটঃ এক বড় ভাইয়ের টাইমলাইন (এই দেবসের কয়েকদিন আগে তিনি এইটা আপলোডাইছিলেন! )
ভ্যালেন্টাইন ডে মানে নাকি “বিশ্ব ভালুবাসা দেবস”। আক্ষরিকভাবে ব্যাপারটারে ঠিক মিলাইতে পারতেছিলাম না। সো ব্যাপারটারে তলাইয়া দেখতে যাইয়া দেখি, ভ্যালেন্টাইনাস নামে এক পাদ্রি/ফাদার নাকি বহুকাল আগে বসবাস করিতেন। সেই সময় নাকি সৈন্যদের বিবাহ করা মানা আছিল আর এই পাদ্রি আইন ভঙ্গ কইরা তাহাদের শুভকাম খানা সারাইয়া দিত। আর এই জন্য এই পাদ্রিরে শাস্তি দেওয়া হয়। জেলে থাকাকালে এই পাদ্রি ভদ্রলোক নাকি রাজার মাইয়ারে ক্যামনে ক্যামনে কইরা সুস্থ কইরা তুলছিল। মাগার আসল ব্যাপার সেইটা না, ব্যাপারটা হইল যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এই ভদ্রলোক রাজার মাইয়ারে নাকি একখান পত্র লিখিয়াছিল আর লাস্টে নাম না লিখিয়া লিখিয়াছিল, তুমার ভ্যালেন্টাইন। তারপর থেইকা নাকি ভ্যালেন্টাইন ডে!!!! (উইকিপিডিয়ার তথ্য)
এরাম কুনু দিবসের যে অস্তিত্ব আছিল এইডা আমার জানা ছিল না ইন্টারমিডিয়েটের আগে পর্যন্ত। মেসে উঠিয়া দেখিলাম, দুই জিগ্রি দোস্ত এক মাইয়ারে ব্যাফুক পছন্দ করে, আর সামনে নাকি ভ্যালেন্টাইন ডে আসিতেছে। আর মাইয়া যারে পছন্দ করে সে নাকি মাইয়ারে গিফটও দিবে!!!! এইটা লইয়া মেসের সবাই বেশ উৎসাহিত। এরপর সেই বড়ভাই, গিফট কিনিয়া আনিল (থ্রি নাকি ফাইব পিস এইটা নিয়া ব্যাপুক কানাঘুষা চলিতেছিল)। এক বড়ভাই মুখে শুনিলাম, গিফট কিনিতে নাকি তেনার ১৭০০ টাকা বাইর হইয়া গেছে! আমি তো শুনিয়া শ্রবণস্থলেই মূর্ছা যাই এমুন অবস্থা।সেই আমলে এত টাকা দিয়া কি কি না করা যাইত। এত্ত টাকার কারবার দেখিয়া জিনিসটা লইয়া আর বেশি ঘাটাঘাটি করি নাই।
আমার আবার অপাঠ্যপুস্তক পড়ার একটু বাতিক ছিল। পরের বছরেই, শফিক রেহমান সম্পাদিত “মৌচাকে ঢিল” নামক একখান ম্যাগাজিন হস্তগত হইল তাও নাকি “ভালুবাসা সংখ্যা”। এক বসায় জিনিসখানা পড়িয়া এত্ত বেশি গিয়ান লাভ করিলাম যে ভালুবাসার আদ্যোপান্ত জানা হইয়া গেছিল। ওই দিন মনে মনে কহিতেছিলাম, আল্লা তুমি আমারে এই বালা হইতে মুক্ত রাইখো। এই মহান দিবসে নাকি গুলাব ফুলের দাম আকাশছোঁয়া হইয়া যায়। প্রেমিকের পকেটের অবস্থাও নাকি মরুভূমি হইয়া যার।
আম্রিকা আইসা “বিশ্ব ভালুবাসা দিবস” কুন্দিক দিয়া পার হয় তার কুনু খিয়াল থাকে না। নরমালি ইশকুল থাকে এই দিন,মাগার এইবার ইশকুল আছিল না। শনিবার পড়িয়াছিল এই (অভিশপ্ত!!!) দিনটা। বাসায় বইসা মন খারাব না কইরা চিন্তা করিলাম টেক্সি চালামু (বুনাস হিসাবে টুপাইস ইনকাম হইয়া যাইবে)। যেই চিন্তা সেই কাজ। টেক্সি লীজ লইয়া ধুমাইয়া কাজ শুরু করিলাম। রেডিও ছাইড়া দেখি যেইখানে যাই সেইখানে খালি এই চুলের দিনের খবর কয় (এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিঙের উপ্রে নাকি একলগে শ'খানেক জুটি একলগে বিয়া করছে (পড়তে হইবে কুরবানি হইয়া গ্যাছে))। মিজাজটা বিলা হইয়া গেল এইগুলা শুইনা শুইনা আরকি। চিন্তা করলাম, দিনটা যেহেতু ইস্পেশাল কিছু ইস্পেশাল গানা শুনিতে শুনিতেই কাজ করি। স্পটিফাই তে পিরিতের গানা স্ট্রিম করিতে করিতে মনের সুখে কাজ করিতে থাকলাম।
একটু পর শুরু হইল আরেক যন্ত্রণা। একটু পর পর খালি প্যাসেঞ্জার সিট থেইকা চপাস চপাস কইরা শব্দ আসে। ব্যাপারখানা কি? মাথাটা ঘুরাইয়া দেখি অকি!! পুলা মাইয়ারা আমার গাড়ির মধ্যেই ধুমাইয়া চুমাচুমি শুরু করতাছে (আর তাহাদের বায়োম্যাগনেটিক স্পার্ক আমারেও এফেক্ট করিতেছে! আমিও তো ম্যাগনেট নাকি?)। শালাদের কি জানের ভয় নাই? এরাম করতে থাকলে তো আমি রাস্তার উপরে থেইকা মনযোগ হারামু। গাড়ি লইয়া নদীতে নাইমা গেলে কিন্তু তিন তিনটা জীবন অকালে নষ্ট হইয়া যাইতে পারে!!!
কোথায় যেন পরিয়াছিলাম “মিথুনে বাধাদান মহাপাপ”। চিন্তাকরিয়া দেখিলাম ইহাদের কামে বাধাদিয়া মহাপাপের ছোটভাই পাপের ভাগীদার কেনু হমু? তারপর এরাম অত্যাচার থেইকা বাচার জইন্ন গানার ভলিউমখানা বাড়াইয়া দিয়া কাম করছি আরকি।
হিসাব কইরা দেখতেছি ভালুবাসা দিবস থেইকা পলাইয়া থাকনের ব্যারথ চেষ্টা না কইরা জিনিসটারে উল্টা ধাওয়া দিমু নেক্সট টাইম থেইকা। ওইটাই রাইট কোর্স অফ একশান। আর কত!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ৭:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




