somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিপ্লবের সাগর
আমি কেউ না। আমি কেউ হতে চাই না কখনো। আমি চাই, আমার কোন নাম না থাকুক, বয়স-গোত্র-দেশ কিচ্ছু না থাকুক...

(ছবি ব্লগ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক কতগুলি ছবি।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ছবিটি দিন স্ব-মোড়ল সেবাসংঘ মন্দির কলকাতা থেকে তুলা।



পৃথীবিতে হিন্দু-মুসলমান বা অন্যসব ধর্মের মধ্যে যে ভেদাভেদ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর হয় না৷
একেই বলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।




ভারতের রাজস্থানে ক্ষুদে কৃষ্ণকে মাখন খাওয়াচ্ছেন মুসলিম মা।




সাম্প্রদায়িকতার গুমোট আবহে সম্প্রীতির খোলা হাওয়া। গেরুয়া শিবিরের নানা সাম্প্রদায়িক উস্কানিকে যখন দেশজুড়ে একের পর এক বিতর্ক, তখনই ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ল বিহারের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির তৈরির জন্য জমি দান করলেন প্রায় ৪০টি মুসলিম পরিবার। পূর্ব চম্পারনে মূল রাস্তার ধারে তাঁদের দান করা জমিতেই তৈরি হবে সুবিশাল হিন্দু মন্দির।




ভারতে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কোলাবায় ঈদুল আজহায় এক সম্প্রীতির দৃষ্টান্তই যেন স্থাপন করলেন সেখানকার হিন্দু-মুসলিমরা। মুসলমানরা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করলেন গণপতি (গণেশ দেবতা) মন্দিরে। আর এতে সহযোগিতা করলেন সেখানকারই হিন্দুরা।
সকাল ঠিক ৭টায় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী মাদরাসা রাহমাতিয়া তালিমুল কোরআন মসজিদের বাইরে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় মুসল্লিদের স্থান সঙ্কুলান হচ্ছিল না। আর কী করা! পরে আগত মুসলমানরা নামাজ আদায় করেন গণপতি মন্দিরে।
মন্দিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৩শ মুসল্লি এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মন্দিরের ভেতর।




বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির তৈরির জন্য জমি দান করলেন প্রায় ৪০টি মুসলিম পরিবার। পূর্ব চম্পারনে মূল রাস্তার ধারে তাঁদের দান করা জমিতেই তৈরি হবে সুবিশাল হিন্দু মন্দির।
বিশ্বের বৃহত্তম মন্দিরটি নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গন এতটাই বড় করা হবে যে, ২০ হাজার মানুষ একসঙ্গে বসতে পারবেন। এহেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে স্বাভাবিক ভাবেই খুশির হাওয়া বিহার প্রশাসনে। পাটনার মহাবীর মন্দির ট্রাস্টের সচিব আচার্য কিশোর কুণালের কথায়, ‘মুসলিমরা শুধু জমি দানই করছেন না, বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির তৈরির জন্য আরও প্রয়োজনীয় জমিও তাঁরা খুব সামান্য অর্থেই দিচ্ছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের সাহায্য ছাড়া এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তব হওয়া সম্ভব ছিল না।’
হিন্দু মন্দির তৈরিতে মুসলিম সমাজের অভূতপূর্ব সাড়ায় অবাক মন্দিরের অছি পর্ষদ। পর্ষদের সদস্যদের বক্তব্য, মুসলিমরা পাশে না দাঁড়ালে কোনও দিনই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করা যেত না।
প্রায় ২০০ একর জমির উপর ওই মন্দিরটি তৈরি করতে খরচ পড়ছে ৫০০ কোটি টাকা। মন্দিরের উচ্চতা হবে আড়াই হাজার ফুট। চওড়ায় ১ হাজার ৩০০ ফুট। কুণালের কথায়, ‘যেহেতু প্রায় নেপাল সীমান্তের কাছে এই মন্দির তৈরি হচ্ছে, তাই মন্দিরটি আর্থকোয়েক প্রুফ করা হচ্ছে।’ মোট প্রয়োজনীয় জমির ৫০ একর দান করেছে হিন্দু ও মুসলিমরা। বাকি জমি কেনা হচ্ছে।’




দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা। সবাই রোজাদার দরিদ্র মানুষ। ধর্মপ্রাণ এই মুসলমানরা একে একে এগিয়ে আসছেন আর তাঁদের হাতে ইফতারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ এক বিরল দৃষ্টান্ত! সম্প্রীতির বন্ধনে ইফতার বণ্টনের এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা গেল রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে।

এই বৌদ্ধ মহাবিহারে মাঝেমধ্যেই আসেন সিঙ্গাপুরের নাগরিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী মি. ভিক্টর লি। বিহারের এতিম শিক্ষার্থী ও এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য তিনি চাল, ডালসহ নানা খাদ্যদ্রব্য দান করেন প্রায়ই।
সারা দিন রোজা রেখে এলাকার গরিব মানুষগুলো ভালোভাবে ইফতার খেতে পারে না শুনে দয়ার্ত হয় ভিক্টরের মন। তাই তিনি এবার দরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণের এই ব্যবস্থা করেন।
যে মানুষ এমন ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন তিনি নিশ্চয়ই দয়ালু ও দানশীল। তাই তিনি যে ধর্মেরই হোক, আল্লাহ তাঁকে পছন্দ করেন। আল্লাহ তাঁকে ভালো রাখুন, আরো সম্পদ দিক, এভাবে আরো দান করার তৌফিক দান করুক।’





এক হিন্দু সাধু মুসলিম ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত।




এই ছবিটা আমাদের দেশের সম্প্রীতি আর সৌহার্দের কথাই মনে করিয়ে দেয়।মত এবং পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সবাই কে এক হতে হবে।






ধর্ম যার যার উৎসব সবার। মানুষের সমাজ চাই। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চাই না, বৈষম্য চাই না, হিংসা-বিদ্বেষ চাই না।







পরিশেষে এতটুকুই বলতে চাই, এই পৃথিবীতে হিন্দু,মুসলমান, ইহুদী, বৌদ্ধ,খ্রীস্টান এবং অন্যান্য ধর্মালম্বী সব ধর্মের মানুষই আমরা, তাই আসুন কারো ধর্মকে ঘৃনা না করে ধর্ম-বর্ন,ধনী-গরীব সকল ভেদাভেদ ভূলে গিয়ে আগে মানুষকে ভালবাসতে শিখি । বিপদে-আপদে, সুখ-দূঃখে মানুষের পাশে দাড়াই,হিংসা-অহংকার, লোভ-লালসা, ঘৃনা সব কিছু ভূলে গিয়ে মানুষের সেবা করি,সত্য কথা বলি, সততার সহিত চলি তবেইতো আমরা সত্যিকারের মানুষ হতে পারবো এবং সেই দিনই হবে পৃথিবী স্বর্গীয়ময়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৬
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×