somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বীরেশ রায়
আমি একজন মানুষ। ভালো মানুষ হয়তো এখনও হতে পারিনি তবে মন্দ কিছু করি না- কারো মন্দ কিছু করাতে বিশ্বাসও করি না। উপকার করতে না পারলেও কারো ক্ষতি অন্ততঃ করি না!!

শিক্ষিত ছেলেরাও আজকাল নুড়ি পাথরের মতো ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে ধর্মান্ধতার চোরাবালিতে!

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে খুব আফসোস লাগে সমাজের চারপাশের কিছু ঘটনাপ্রবাহ দেখে! সত্যি অবাক করার মতোই এক একটি ঘটনা! যে ঘটনাগুলোকে আমরা বর্তমান সময়ের আলোকে ঘটনা না ভেবে অপরাধ বললেই বুঝি বেশী। আর অপরাধগুলি অধিকাংশই সংঘটিত হচ্ছে কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া শিক্ষিত ছেলেদের দ্বারা! উদ্বেগ, উৎকন্ঠাটা এখানেই। আজকাল দেখি শিক্ষিত ছেলেরাও নুড়ি পাথরের মতো ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে ধর্মান্ধতার চোরাবালিতে! হয়ে উঠছে চরম অপর ধর্ম বিদ্বেষী কিংবা আন্ডার গ্রাউন্ডের জঙ্গীগ্রুপ সদস্য! এরা নিজেরাই নিজেদের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক কিংবা ধর্মীয় বই পুস্তক পড়ে এমন অপর ধর্ম বিদ্বেষী কিংবা বিরুদ্ধ মতবাদ অথবা সমালোচক হন্তারক হয়ে উঠছে ব্যাপারটা তাও নয়। মূলতঃ বাহির থেকে নাড়ছেন সেই কলকাঠি যা আমাদের মিডিয়া ও সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী টেরও পাচ্ছেন হর-হামেশাই। এমনকি অনেক রাজনৈতিক দলও ইন্ধন ও ফুয়েল যুগিয়েছেন এই শিক্ষিত তরুণ সমাজকে অপর ধর্ম বিদ্বেষী কিংবা বিরুদ্ধ মতবাদ অথবা সমালোচক হন্তারক করে তুলে বিপদগামী করতে। এমনকি অনেক সময় এই সব কর্মকান্ডে এমন সব ব্যক্তি বা ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনের সম্পৃক্ততা মিলেছে, যেখানে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসার মতো অবস্থা! শেষমেষ তদন্ত কার্যক্রমই গোপনে গোপনে শেষ করতে হয় গোয়েন্দা বাহিনীকে! আমরা তো গলা ফাটিয়ে ধর্মকে উচ্চতার সর্বোচ্চ শিখড়ে তুলে ধরছি প্রতিনিয়ত। তাহলে সেই ধর্মের অনুসারী হয়ে কেন আমরা এমন নিষ্ঠুর হন্তারক হয়ে উঠব! আপনার ধর্মের মাঝে মহত্ব থাকলে, মানবতা থাকলে, শান্তির স্নিগ্ধ ছোঁয়ার অনুভব থাকলে সেই মহত্ব, মানবতা কিংবা শান্তির স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় অপরকে সেবা দিন, সমাজটাকে, দেশটাকে শান্তিময় করে তুলুন। আপনার সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে নিশ্চয়ই এটাই তাঁর কাছে আপনার সবচেয়ে বড় প্রার্থনা! হিংস্রতা, পাশবিক আচরণ কিংবা জিঘাংসার মনোভাব নিয়ে অপরের ঘাড়ে চাপাতির কোপ বসাবেনই বা কেন!? এটা কি আপনার মানবিক সত্ত্বা দ্বারা সিদ্ধ? তাছাড়া হিংস্রতা, পাশবিক আচরণ কিংবা জিঘাংসার মনোভাব অপর কারো মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েও আপনি আপনার ধর্মকে প্রমোট করবেন কেন? এটা কি প্রকৃতপক্ষেই আপনার ধর্মীয় দর্শন ও নৈতিকতা দ্বারা সিদ্ধ? ঠান্ডা মাথায় একটু ভাবুন! আপনার বিবেক বোধটাকে একটু জাগান! আপনি ধার্মিক হন তাতে তো কারো মাথা ব্যথা নেই; ধার্মিক হয়ে নিজের পরকাল নিয়ে ভেবে ভেবে ইহকাল কাটান, সেটা তো আপনার একান্ত একার নাগরিক অধিকার, সেই অধিকার রাষ্ট্র আপনাকে দিয়েছে। তাছাড়া আপনার মতাদর্শ কারো মতাদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারও সমালোচনা আপনি করতে পারেন; দ্বিমত পোষণ করতে পারেন সেই অধিকারও আপনার আছে।কিন্তু আপনার সমালোচকদের ঘারে আঘাত করার অধিকার তো রাষ্ট্র আপনাকে দেয়নি। তাহলে এমন রাষ্ট্র নিয়ম বহিঃর্ভূত কাজ তথা অপরাধ করে ফেরারি আসামীর মতো বাকী জীবন ভয়ে ভয়ে কাটাবেন কেন? সমালোচকরা করুক না আপনার সমালোচনা! তাতে কি বা আসে যায়। একজন মানুষ, একজন ধার্মিক মানুষ, একজন ভালো মানুষ হতে পারেন না আপনি!? আপনি সামান্য একজন সমালোচককে শায়েস্তা করতে মুখে অশ্লীল শব্দ তুলে নেবেন কেন!? আপনার সুন্দর হাতে কিছু অশ্রাব্য কুৎসিত শব্দ লিখে আপনার ভাল মানসিকতাকে নষ্টই বা করবেন কেন? আমি শিক্ষিতদের বলি-আপনারারা ভালো থাকার চেষ্টা করুন দেখবেন আপনার পরিবার পরিজন তদুপরি সমাজটাও থাকবে ভাল; ভাল থাকবে আপনার চারপাশের পরিবেশ! আপনি গডফাদারদের ক্রীড়নক হয়ে যদি একবার ধর্মান্ধতার চোরাবালিতে পা দেন, পরবর্তীতে মহা বিপদ টের পেলেও তারা আর আপনাকে টেনে তুলবেন না বরং সেখানেই আপনাকে জোড় করে ডুবিয়ে মারবেন!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৩৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×