somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টোকাই

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আপা একটা ফুল নেন.. ভাইজান একটা চকলেট নেন.।"

এসব কথাগুলোর সাথে আপনি, আমি আমরা সবাই অনেক পরিচিত তাই না? এই শহরে রাস্তায় চলতে ফিরতে এসব বাচ্চাদের সাথে আমাদের সবারই একবার না একবার দেখা হয়েই যায়। কখনও বা আপনি একটু মনোযোগ দেন ওদের প্রতি, কখনও বা দেন না। এটা নির্ভর করে মুডের ওপর অনেকটা। কিন্তু মাঝে মাঝে বিশেষ কিছু সময়ে এই বাচ্চাদের, যাদেরকে রনবী স্যার নাম দিয়েছেন "টোকাই" -তাদের দাম বেড়ে যায়। এই যেমন ধরুন এই সময়টায় -রোজা, ঈদের আগে, শিশু দিবসে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটা বিশেষ কারণে কিছুদিন আগে কয়েকজন টোকাইয়ের ইন্টারভিউ নিতে হয়েছিল। ভেবেছিলাম হাল্কার ওপর ঝাপসা কিছু কথা বলে ছেড়ে দেব। কিন্তু বাস্তবতা দেখা গেল ভিন্ন।

একেকজনের লাইফস্টাইল একেকরকম। কেউ কথা বলতে পছন্দ করে, কেউ বা কথাই বলতে চায় না, কেউ আবার কথা বলতে গেলে নানারকম অভিব্যক্তি দেখায়। কারও বাবা -মা আছেন কারওবা একজন আছেন একজন নেই। নিজেদের ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দিচ্ছে ওরা ওদের কাজের মধ্য দিয়ে।

একটা বাচ্চা মেয়ে জানালো তার এই এতটুকুন বয়সেই কিছু পুরুষ নামধারী জানোয়ারের ইঙ্গিতের কথা। জানতে চাইলাম কাউকে বলেছে কিনা এ ব্যাপারে। বাচ্চাটা বলল সিগন্যালের এক ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে বলেছে এবং এখন ওই সার্জেন্ট ওর দিকে খেয়াল রাখছেন।

একটা ছেলে ভাবলেশহীন ভাবে বলে গেল খুব ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার কারণে ওর এখন ওর মাকে মনে পড়ে না। বাবা ওকে ছেড়ে আরেকজনকে বিয়ে করে সংসার পেতেছে অনেক আগেই। কিন্তু এখন ছেলের কাছে নাকি টাকা চায়। কিন্তু ছেলে এক পয়শাও দিতে রাজি না। যে দাদা -দাদী ওকে বড় করেছে, ও তাদের জন্যই সবকিছু করতে চায়।

ওদের ডাক্তার হবার অনেক ইচ্ছে ছিল। কিন্তু জীবনের টানাপড়েনে ইচ্ছেটা এখন ফিকে হয়ে গেছে অনেক। এখন শুধু খেয়ে পড়ে বাঁচতে চায়।

কাজটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মনেও থাকল না ওদের কথা।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্তন (কবিতা)

লিখেছেন স্বাধীন আকন্দ, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯

মুঠোফোনের রিলে হাসে যে তরুণীটি
হিন্দি-সিনেমার সংলাপ নকল করে
মুহুর্তেই সে বদলে গিয়ে
নাচতে থাকে আরেক তরুণী

এভাবে দেখি তাকে হাঁটতে, ফোনটি মুখের সামনে
কেমন অন্যমনস্ক, গলিটা যেন গিলে খাচ্ছে তাকে
হঠাৎ মনে হলো, আমার প্রেমিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: নাচ

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫




মনে পড়ছে হরিদ্রাভ আলোর সড়ক
পিঙ্গলবর্ণ সূর্য-শিশুরা সূর্যাস্তের দিকে
সারাদিন ম্যাচের বাক্স খুঁজে-খুঁজে হয়রান;
গোরস্থানের ভিতর অনেক লিচু গাছ
ভাঙা কবর থেকে শিয়ালেরা রাতভর ডাকে।
মানুষের উল্টোদিকের ছবি তুলতে-তুলতে ভাবি,
একদিন এই জুনে পাঠিয়েছিলে চিঠি
মর্চে পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ফাঁদ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



আজ সারাদিন অঝর ধারায় বৃষ্টি, থামার কোনো লক্ষণ নেই। যশোর-নড়াইল মহাসড়কের রূপগঞ্জের এক নির্জন ফিলিং স্টেশনের একপাশে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আতিক।

রাত এখন আড়াইটা। চারপাশ শুনশান নীরব। আতিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×