আজ গ্রামের বাড়িতে আসলাম। প্রতিবারই এরকম হয়। শহরে ঈদ কাটিয়ে ঈদের পরদিন গ্রামের বাড়িতে আসা। শহুরে যান্ত্রিক কোলাহল থেকে হাফ ছেড়ে বাচার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। হ্যা, ক্ষুদ্র বলার যথেষ্ট কারন আছে। বিগত এক বছর ধরে এই উপলব্ধি টা আমায় পীড়া দিচ্ছে খুব।
রূপসী বাংলার প্রধান আকর্ষণ আমাদের গ্রামগুলো, এদেশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। গ্রামের প্রতিটি আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা মণিমুক্তাগুলো ঝিকিমিকি করে সারাক্ষণ। এদেশের মানুষের হৃদয় জুড়ে বসে আছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী। আমাদের দেশে একটি শিশুর চিত্রাংকনে হাতেখড়ি হয় গ্রামের দৃশ্য একে। একজন কবির কবিতার সিংহভাগ জুড়েই থাকে গ্রামের প্রকৃতির বর্ণনা।
ছোটবেলায় যখন গ্রামে আসতাম কত যে আনন্দ!! খুব মনে পরে সেই দিনগুলোর কথা। ধানের ক্ষেতে লুকোচুরি, পুকুরে ডুব দিয়ে লাই খেলা, কাদায় মাখামাখি হয়ে ফুটবল খেলা এসব এখন শুধুই স্মৃতি।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় পল্লিগ্রামের সজীবতা এখন বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিকায়নের হিংস্র থাবায় মমতার বন্ধনগুলো ছিন্ন হয়ে পড়ছে একে একে। এখন আর বাড়িতে গিয়ে আগের মত শান্তি খুজে পাইনা। পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন ঢিলে হয়ে গেছে অনেক আগেই।
আমার মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, ফিরিয়ে দাও আমার সেই পল্লিপ্রকৃতি। রেহাই দাও আমার গ্রামগুলোকে আধুনিকায়ন থেকে। আমি চাইনা আধুনিকতার গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে যাক আমার গ্রামগুলো।
এটা একান্তই আমার ব্যাক্তিগত অভিমত। সবার কাছে হয়তো গ্রহনযোগ্য হবেনা, কিন্তু আমি খুব করে চাই আমার গ্রামগুলো ঠিক আগের মতই থাকুক। আগের সেই শান্তিময় পরিবেশ ফিরে আসুক। আমি যে আমার ফেলে আসা দিনগুলি খুব বেশি মিস করি...খুব বেশি......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



