somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইলুসনের আত্মকথন (আমার না বলা কথা) ২

৩০ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন শুরু হয়েছে শো-অফের যুগ। আপনি কিছু করতে পারুন আর না পারুন কিছু ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিলেই মানুষের লাইক, কমেন্ট, বাহবা দিয়ে ভরে যাবে। আপনি একজন সরকারি চাকুরিজীবি। আপনি আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন, সেটা ফেসবুকে ছবি তুলে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা কী?



গত বছরের ছোট একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি। কোভিডের মাঝে সারাদেশে আন্তঃজেলা বাস চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেসব বাস চলবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিভিন্ন জায়গায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন, এসব ছবি দিয়ে ফেসবুক সয়লাব। কোভিডের মধ্যেই সন্তানের পিতা হই, এর মাঝে আমাকে দুই তিনবার ঢাকা যেতে হয়েছে। প্রতিবার ৫-৬ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যেতে হয়েছে। এত টাকা খরচ করা তো সম্ভব না, কয় টাকাই বা ইনকাম করি! রাতের বাসে ঢাকা যাব সিদ্ধান্ত নেই। বাসা কাউন্টারে এসে দেখি এলাহি কাণ্ড! সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই সিটে একজন যাত্রী উঠবে। এই জন্য যাত্রীদের ৬০% অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে। আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তারা সরকারি নিয়মে চলে না, তারা চলে তাদের নিজেদের নিয়মে। আগে এক সিটের ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, তাহলে দুই সিটের ভাড়া ধরলাম ৪৮০ টাকা। আর যদি তারা কোন নিয়ম মেনে চলতে না চায় তাহলে দুই সিটের ভাড়া হবার কথা ৩০০+৩০০= ৬০০। কিন্তু তারা চাইছে দুই সিটের ভাড়া ১০০০ টাকা! এত টাকা দিয়ে তো মানুষের পক্ষে যাওয়া সম্ভব না, তাই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সবাই বেশি ভাড়া দিয়েই এক সিটে একজন করে উঠছেন। বাস ভর্তি করে লোক নেয়া হচ্ছে, সবাই বেশি ভাড়া দিয়েই উঠছেন। সকাল বেলা দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় নাকি জরিমানা করা হয়েছে, তাই সরাসরি ডিসি মহোদয়ের নিকট ফোন করে পুরো বিষয়টা জানালাম। তিনি আমাকে যে উত্তর দিলেন সেটাতে আমি বিস্মিত হলাম! সারাদিন তো আর এসব খেয়াল রাখা সম্ভব না। বাস মালিকদের বললে তারা কথা শুনে না। আপনারা আন্দোলন করে দেখুন কিছু করতে পারেন কিনা! অদ্ভুত! একটা জেলার ডিসিকে বলা হয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ওনারা চাইলেই বাস মালিকদের সাথে বসে, এমপিকে সাথে নিয়ে বসে এটার একটা সুরাহা করতে পারেন। খুব সহজ ব্যাপার। আমি নিজেই এমন বিভিন্ন মিটিং এ উপস্থিত ছিলাম। সেটা না করে দুই এক জায়গাতে ১০ হাজার, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ফেসবুকে ছবি দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন। ফেসবুকে ছবি এসেছে, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকাতে নিউজ হয়েছে, টিভিতেও প্রচার হচ্ছে কিন্তু আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় নি। কথা বলে আমার মনে হল না যে কাজের কাজ কিছু হতে পারে। সবই শো-অফ!



এরপর আমি আমার পরিচিত একজন এডিসি মহোদয়কে ফোন করে বিষয়টা জানালাম যে, স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, প্রতি সিটেই যাত্রী নেয়া হচ্ছে উপরন্তু স্বাভাবিক সময় থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। উনি আমাকে বাস কাউন্টারে ফোনটা দিতে বললেন। আমি ফোন দেয়ার পর, উনি আমার হয়ে রিকোয়েস্ট করলেন যাতে আমার থেকে কম ভাড়া রাখা হয়! আমি এবার লজ্জায় হতবাক হয়ে গেলাম! ১০০০ টাকা ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা আমার আছে। আমি আমার নিজের ভাড়া কমাতে ফোন করিনি। আমি চাইছিলাম যাতে জনগণের উপকার হয়, এ কারণে তাদেরকে বিষয়টা অবহিত করার জন্য ফোন করেছিলাম। কোভিডের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এনারাও কি কোন অংশে কম দায়ী? আমি ভেবেছিলাম তারা জরিমানা করছেন কিন্তু এরা যে নিয়ম মানছে না, সে বিষয়ে তারা অবগত নন! কিন্তু আসলে তারা সব কিছুই অবগত আছেন, তারা জানেন সব কিছুই এভাবে চলছে। এসব পরিবর্তনের কোন ইচ্ছা, দেশের জন্য কাজ করার কোন ইচ্ছা কারো নেই। শুধু কোন মতে চেয়ারে বসে সময় পার করে, ফেসবুকে ছবি দিয়ে নিজের কৃতিত্ব প্রচার করছেন। কোন কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। এক সময় তাদের মেয়াদ শেষে অটো প্রমোশন পেয়ে জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন, তাদের পরিবর্তে অন্য কেউ আসবে। কিন্তু তারাও একইভাবে সময় পার করে যাবেন। জনগণের কোন উপকার হবে না।



দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে অনেক কিছু করা যায়। প্রশাসনের একজন সৎ ও যোগ্য অফিসার চাইলে নিজ এলাকার চেহারা পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:৩১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×