somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুকে প্রাক্তন প্রণয়ীর ‘উচ্ছ্বাস’, আত্মঘাতী ছাত্রী

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইন্টারনেটে খোলামেলা আড্ডায় অজস্র চেনা-অচেনা লোকের সামনে উঠে আসছে ব্যক্তিগত রাগ-ভালবাসা বা ঘৃণা। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও প্রকাশ্যে নিরন্তর কাটা-ছেঁড়া ফেসবুক বা টুইটারের কল্যাণে এমন নজির নেহাত কম নয়। কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অকপটে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও যথেচ্ছ আবেগ প্রকাশ কি কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? অন্তত আইআইএম-বেঙ্গালুরুর এক মেধাবী ছাত্রীর আকস্মিক ‘আত্মহত্যা’-র ঘটনায় এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরু- আইআইএময়ের ছাত্রীর মালিনী মুর্মুর দেহ হস্টেলের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘরে ল্যাপটপের সামনে মালিনীর ‘সুইসাইড নোট’ও পড়ে ছিল। আর এই মৃত্যুর তদন্তের সূত্রেই প্রকাশ্যে আসছে ফেসবুকে মালিনীর ‘বিশেষ বন্ধু’ এক তরুণের লেখা মন্তব্য। প্রকাশ্য ‘ফোরামে’ ওই তরুণের ঘোষণা, “হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমার প্রাক্তন বান্ধবীকে আজ ঘাড় থেকে নামিয়েছি। হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে!” বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে মালিনীর বন্ধুরা জানিয়েছে, সম্পর্কে ইতি টানার পরে প্রাক্তন প্রেমিকের ওই মুক্তির উচ্ছ্বাস মেনে নিতে পারেননি মালিনী। সকলের সামনে এ ভাবে অপদস্থ হওয়ার লজ্জাতেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানায়, হস্টেলে মালিনীর ঘরের দেওয়ালে বড় বড় হরফে লেখা ‘আমাকে ঠকানো হয়েছে’।

মালিনী মুর্মু
বি-টেক পাশ করে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কিছু দিন চাকরি করার পরে গত জুনে আইআইএমে পড়তে গিয়েছিলেন মালিনী। মালিনীর বাবা বিশ্বনাথ মুর্মু জামশেদপুরের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্তা। বাড়িতে তাঁর মা ও ছোট বোনও রয়েছেন। বেঙ্গালুরু পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব) পি এস হর্ষ বলেন, “মালিনীর বাবার অভিযোগ, প্রণয়ঘটিত কারণেই প্ররোচিত হয়ে তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।” আইআইএম-এর জনসংযোগ কর্তা এন ব্রিঞ্জি দেব অবশ্য মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে জানান, মালিনীর মৃত্যুতে আইআইএম শোকাহত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা মনস্তত্ত্ববিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের প্রয়োগ নিয়ে সতর্ক হতে বলছেন। রাঁচির ইনস্টিটিউট অব নিউরো-সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (রিনপাস)-এর মনস্তত্ত্ববিদ কাপ্তান সিংহ সেঙ্গারের মত, “শুধু প্রেমে বিচ্ছেদই নয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বিষয়টি নিয়ে লোকে আলোচনা করবে, এমন একটা আশঙ্কা হয়তো মেয়েটির মধ্যে কাজ করেছিল। এর ফলে ওঁর মানসিক চাপ বা যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়।”
নীলাঞ্জনাদেবীর মতে, “ফেসবুক বা টুইটারের কিছু ভাল দিক আছে। এখানে অর্ন্তমুখী স্বভাবের অনেকে সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারেন। তবে খারাপ দিকও অস্বীকার করা যায় না!” তাঁর মতে, “ইন্টারনেটের ‘পাবলিক ফোরামে’ ব্যক্তিগত বিষয় বেশি টেনে আনা ঠিক নয়। অপরিচিত লোকের সামনে অপদস্থ হয়ে মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়। মানসিক আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুক-টুইটারের মত সাইটের উপরে নির্ভরশীল না-হওয়াই ভাল।”
মালিনীর স্মরণে ফেসবুকেই তাঁর বন্ধুরা তৈরি করেছে একটি ‘পেজ’। সেখানে এখন দুঃখপ্রকাশ করে মন্তব্য জমা হচ্ছে। মালিনীর বিশেষ বন্ধুর বিচ্ছেদের ‘ঘোষণায়’ যে ভাবে মন্তব্য ভিড় করেছিল, কতকটা সেই ভাবেই। তবে এ বার আর সে সব জানা হল না মালিনীর। আজই জামইন্টারনেটে খোলামেলা আড্ডায় অজস্র চেনা-অচেনা লোকের সামনে উঠে আসছে ব্যক্তিগত রাগ-ভালবাসা বা ঘৃণা। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও প্রকাশ্যে নিরন্তর কাটা-ছেঁড়া ফেসবুক বা টুইটারের কল্যাণে এমন নজির নেহাত কম নয়। কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অকপটে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও যথেচ্ছ আবেগ প্রকাশ কি কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? অন্তত আইআইএম-বেঙ্গালুরুর এক মেধাবী ছাত্রীর আকস্মিক ‘আত্মহত্যা’-র ঘটনায় এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরু- আইআইএময়ের ছাত্রীর মালিনী মুর্মুর দেহ হস্টেলের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘরে ল্যাপটপের সামনে মালিনীর ‘সুইসাইড নোট’ও পড়ে ছিল। আর এই মৃত্যুর তদন্তের সূত্রেই প্রকাশ্যে আসছে ফেসবুকে মালিনীর ‘বিশেষ বন্ধু’ এক তরুণের লেখা মন্তব্য। প্রকাশ্য ‘ফোরামে’ ওই তরুণের ঘোষণা, “হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমার প্রাক্তন বান্ধবীকে আজ ঘাড় থেকে নামিয়েছি। হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে!” বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে মালিনীর বন্ধুরা জানিয়েছে, সম্পর্কে ইতি টানার পরে প্রাক্তন প্রেমিকের ওই মুক্তির উচ্ছ্বাস মেনে নিতে পারেননি মালিনী। সকলের সামনে এ ভাবে অপদস্থ হওয়ার লজ্জাতেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানায়, হস্টেলে মালিনীর ঘরের দেওয়ালে বড় বড় হরফে লেখা ‘আমাকে ঠকানো হয়েছে’।

মালিনী মুর্মু
বি-টেক পাশ করে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কিছু দিন চাকরি করার পরে গত জুনে আইআইএমে পড়তে গিয়েছিলেন মালিনী। মালিনীর বাবা বিশ্বনাথ মুর্মু জামশেদপুরের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্তা। বাড়িতে তাঁর মা ও ছোট বোনও রয়েছেন। বেঙ্গালুরু পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব) পি এস হর্ষ বলেন, “মালিনীর বাবার অভিযোগ, প্রণয়ঘটিত কারণেই প্ররোচিত হয়ে তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।” আইআইএম-এর জনসংযোগ কর্তা এন ব্রিঞ্জি দেব অবশ্য মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে জানান, মালিনীর মৃত্যুতে আইআইএম শোকাহত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা মনস্তত্ত্ববিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের প্রয়োগ নিয়ে সতর্ক হতে বলছেন। রাঁচির ইনস্টিটিউট অব নিউরো-সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (রিনপাস)-এর মনস্তত্ত্ববিদ কাপ্তান সিংহ সেঙ্গারের মত, “শুধু প্রেমে বিচ্ছেদই নয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বিষয়টি নিয়ে লোকে আলোচনা করবে, এমন একটা আশঙ্কা হয়তো মেয়েটির মধ্যে কাজ করেছিল। এর ফলে ওঁর মানসিক চাপ বা যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়।”
নীলাঞ্জনাদেবীর মতে, “ফেসবুক বা টুইটারের কিছু ভাল দিক আছে। এখানে অর্ন্তমুখী স্বভাবের অনেকে সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারেন। তবে খারাপ দিকও অস্বীকার করা যায় না!” তাঁর মতে, “ইন্টারনেটের ‘পাবলিক ফোরামে’ ব্যক্তিগত বিষয় বেশি টেনে আনা ঠিক নয়। অপরিচিত লোকের সামনে অপদস্থ হয়ে মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়। মানসিক আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুক-টুইটারের মত সাইটের উপরে নির্ভরশীল না-হওয়াই ভাল।”
মালিনীর স্মরণে ফেসবুকেই তাঁর বন্ধুরা তৈরি করেছে একটি ‘পেজ’। সেখানে এখন দুঃখপ্রকাশ করে মন্তব্য জমা হচ্ছে। মালিনীর বিশেষ বন্ধুর বিচ্ছেদের ‘ঘোষণায়’ যে ভাবে মন্তব্য ভিড় করেছিল, কতকটা সেই ভাবেই। তবে এ বার আর সে সব জানা হল না মালিনীর।

সূএ
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×